রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনি উত্তাপ বেড়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কৃত হলেও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম ও শিল্পপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলামের অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এবং তৃণমূলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পুঠিয়া উপজেলা আমির মুনজুর রহমানকে একক প্রার্থী করে মাঠে নেমেছে এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভক্তি জামায়াতের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও আরও এক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তারা বলছেন, প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজের মূল্যায়ন করবেন। মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৩৮ জন, এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের অবস্থান শেষ পর্যন্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রংপুর সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু বিদ্রোহী প্রার্থী রিটা রহমানের কারণে বিপাকে পড়েছেন। উভয় প্রার্থীই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, জাতীয় পার্টির জি এম কাদের, ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী বিএনপির বিভক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রচারণা জোরদার করেছেন। বিএনপির হাইকমান্ড সামুকে মনোনয়ন দেওয়ার পর রিটা রহমান সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন এবং সামুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। সামুর সমর্থকরা দাবি করেন, রিটা বিদেশে থাকেন এবং রংপুরের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন না। অন্যদিকে রিটার সমর্থকরা সামুকে বহিরাগত ও চাঁদাবাজ বলে অভিযোগ করেন। জেলা বিএনপির নেতা অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের ক্ষতি করে এবং তাদের উচিত দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলে জামায়াতসহ অন্যান্য দল ভোটের ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সোহেল জাহান চৌধুরীকে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে সেনাবাহিনী তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। ইসলামাবাদ ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর ইনতিসার সালিমের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করেন। ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বে হত্যা মামলা ও জুলাই বিপ্লবের মামলাসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলা ছিল, তবে সরকার পতনের পরও তিনি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে অনুপস্থিতির অভিযোগে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের পক্ষে ভোট চান এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা চালান। তার এই আচমকা রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্র জনতার মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, গ্রেপ্তার এড়ানো ও রাজনৈতিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি বিএনপির পক্ষে মাঠে নামেন, যদিও এতে বিএনপির ভেতরেও অসন্তোষ দেখা দেয়।
বুধবার কুমিল্লার দেবীদ্বার নিউমার্কেট চত্বরে নির্বাচনি পদযাত্রার পথসভায় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ভোটারদের ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে সমর্থনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জোট ক্ষমতায় গেলে এক মাসের মধ্যে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে এবং হাদি হত্যার দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি আরও বলেন, যারা ভোট চাইতে আসবে তাদের কাছে হাদি হত্যার বিচারের নিশ্চয়তা দাবি করতে হবে। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তিনি গত ১৭ বছরের নিপীড়নের অবসান ঘটাতে ১১ দলীয় জোটকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ব্যাংক লুটেরা ও বিদেশি নাগরিকদের মনোনয়ন দেওয়ার সমালোচনা করেন এবং বিএনপি নেতাদের সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ তোলেন। এ সময় এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতারা ভোটকেন্দ্র দখল প্রতিহত করার আহ্বান জানান এবং চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি ও বিদেশি নাগরিকদের ভোট না দেওয়ার অনুরোধ করেন।
প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম কক্সবাজার সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান, সুগন্ধা পয়েন্টে প্লাস্টিক দূষণ রোধে সচেতনতা তৈরির জন্য একটি বিশাল প্লাস্টিক দানবের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার এখন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ভয়াবহ হুমকির মুখে। পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত বোতল, প্যাকেট, পলিথিন ও অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য সৈকতের বালু ও সমুদ্রে মিশে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এসব প্লাস্টিক ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে সামুদ্রিক প্রাণী ও মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে পলিথিন নিষিদ্ধ হলেও কক্সবাজারে আইনের প্রয়োগ দুর্বল। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকানগুলোতে প্লাস্টিকের অবাধ ব্যবহার চলছে। তিনি কঠোর নজরদারি, জরিমানা ও বিকল্প পরিবেশবান্ধব উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার কার্যক্রম গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। প্রফেসর ইসলাম সৈকতে বেওয়ারিশ কুকুর ও প্রাণীর বিষ্ঠা থেকে দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন এবং কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। তিনি মনে করেন, কক্সবাজার রক্ষা এখন জাতীয় দায়িত্ব, যা সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সম্ভব নয়।
আলুর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আলু চাষ কমেছে, ফলে উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকরা এখন বেগুন, মিষ্টি কুমড়া ও লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আলুর দাম না পাওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাই সরকার প্রণোদনা দেবে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, দেশে আলুর চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টন হলেও গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন। অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহারের কারণে অতিরিক্ত আলু রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে সানসাইন, গ্র্যানোলা ও ডায়মন্ড জাতের আলু বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানিকারকরা বলছেন, রপ্তানিযোগ্য জাতের আলু চাষ সীমিত থাকায় বাজার সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২–২৩ অর্থবছরে ৩২ হাজার ৩৯২ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হয়েছে, যা ২০২১–২২ অর্থবছরের ৬২ হাজার ৭২৬ মেট্রিক টনের তুলনায় কম। ২০১৩–১৪ অর্থবছরে আলু রপ্তানি আয় ছিল ৩৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১০ মিলিয়ন ডলারের আশপাশে নেমে এসেছে।
২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত শাহীদ কামরুলের এক প্রবন্ধে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। লেখক বলেন, দেশ কি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের পথে যাবে, নাকি স্বৈরাচারী দমননীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। তিনি আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদি শাসনে দুর্নীতি, পরিবারতন্ত্র ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সমালোচনা করেন এবং বিএনপির দুর্বলতা ও নেতৃত্ব সংকটের কথাও উল্লেখ করেন। জামায়াতে ইসলামীকে তুলনামূলকভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ বললেও তার বিতর্কিত অতীতের কারণে ভোটারদের নৈতিক দ্বিধার কথা তুলে ধরেন। প্রবন্ধে কামরুল এমন একটি রাজনৈতিক দলের রূপরেখা দেন, যা নীতিনিষ্ঠ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। তিনি দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংস্কার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেন। জন লক ও হাবারমাসসহ বিভিন্ন দার্শনিকের ধারণা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য বহুত্ববাদ ও নাগরিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। লেখকের মতে, বিদ্যমান ক্ষমতার কাঠামো ও দুর্নীতির মধ্যে এমন দল গঠন কঠিন হলেও এটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের পূর্বশর্ত।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি জব্দ করা একটি তেলের ট্যাংকার ভেনেজুয়েলার কাছে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। জাহাজটির নাম এম/টি সোফিয়া, এটি পানামার পতাকাবাহী একটি সুপারট্যাংকার। কেন যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকারটি ফেরত দিচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলের ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে। গত বছরের শেষ ভাগ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত সাতটি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি মার্কিন কোস্ট গার্ড ও সামরিক বাহিনী যৌথ অভিযানে তেল বহনরত অবস্থায় এম/টি সোফিয়া জব্দ করে। সে সময় মার্কিন প্রশাসন জানায়, এটি ছিল একটি ‘রাষ্ট্রহীন ও নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ডার্ক ফ্লিট ট্যাংকার’। বর্তমানে ট্যাংকারটিতে তেল আছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। এ বিষয়ে মার্কিন কোস্ট গার্ড ও ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
ভারতের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক ও লেখক শারদা উগ্রা অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখন কার্যত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) দুবাই অফিসে পরিণত হয়েছে। দ্য ওয়্যারের ‘দ্য ইন্টারভিউ’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিসিসিআই যা চায়, আইসিসি তাই করে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ, ভারত ও আইসিসির ত্রিমুখী দ্বন্দ্বের মধ্যে এই মন্তব্য আসে, যেখানে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের বাংলাদেশের আবেদন আইসিসি প্রত্যাখ্যান করেছে। উগ্রা জানান, বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল ‘অলিখিত নির্দেশে’, যা কোনো ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক। তার মতে, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আসন্ন আসাম–পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভারত–পাকিস্তানের জন্য ‘হাইব্রিড মডেল’ চালু থাকলেও বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবি আইসিসি এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছে, যা দ্বিচারিতা। উগ্রার মতে, ভারতের প্রভাব ক্রিকেটকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করেছে এবং বিশ্বকাপের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, আইসিসির এই পক্ষপাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের ভাবমূর্তি ও শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তিনি দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়ম করেছেন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের নীতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। একই দিনে কবি ও প্রাবন্ধিক সাখাওয়াত টিপুকে নতুন পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, আফসানা বেগম বই নির্বাচনে পক্ষপাত দেখিয়েছেন এবং পূর্ববর্তী আওয়ামী শাসনের বয়ানধারী বইগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বই নির্বাচনের তালিকায় আওয়ামী ঘরানার লেখকদের একাধিক বই অন্তর্ভুক্ত করা হলেও জুলাই অভ্যুত্থনপন্থী লেখকদের বই বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আফসানা বেগম একটি সিন্ডিকেট গঠন করে পছন্দের প্রকাশকদের সুবিধা দিয়েছেন এবং মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করেছেন। সচিব মফিদুর রহমান বলেন, নিয়োগ বাতিল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং সরকারের নীতি অনুযায়ী হয়েছে। অন্যদিকে, আফসানা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নীতিমালা অনুযায়ী হয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত দরকষাকষিতে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি ড্রিমলাইনার (৭৮৭-৯ ও ৭৮৭-১০ সিরিজ) এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। প্রস্তাবিত চুক্তির মূল্য প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার এবং সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই চুক্তি সই হতে পারে। বিমান সর্বোচ্চ মূল্যছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে এবং বোয়িংকে অন্তত ২০টি শর্ত দিয়েছে। অন্যদিকে বোয়িংও কিছু ছাড় দিয়ে সংশোধিত খসড়া প্রস্তুত করেছে। বিমান সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র, পরিকল্পনা, অর্থ ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল নেগোসিয়েশন কমিটি দরকষাকষি পরিচালনা করছে। সরকার ও পরিচালনা পর্ষদ ইতিমধ্যে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। উভয় পক্ষ মূল্য, অর্থপ্রদানের পদ্ধতি, ডেলিভারি সময়সূচি ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছে। চুক্তি সই হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে সব উড়োজাহাজ সরবরাহ সম্পন্ন হবে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং বহরের সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় সহায়তা করবে।
কলম্বিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা সাতেনার একটি যাত্রীবাহী বিমান বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির উত্তরাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা ১৫ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন যাত্রী ও দুজন ক্রু সদস্য রয়েছেন। বিচক্রাফ্ট ১৯০০ মডেলের টুইন-প্রপেলার বিমানটি কুকুতা শহর থেকে ওকানিয়া শহরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে অবতরণের কথা থাকলেও তার প্রায় ১১ মিনিট আগে বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনাটি ভেনেজুয়েলা সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ঘটে। উদ্ধারকারী দল পরে দুর্ঘটনাস্থলে বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আইনপ্রণেতা ডায়োজেনেস কুইন্তেরো আমায়া এবং কংগ্রেস নির্বাচনের প্রার্থী কার্লোস সালসেদো। সাতেনা একে ‘মারাত্মক দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়, যেখানে কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীও অংশ নেয় এবং যাত্রীদের স্বজনদের জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়। কুকুতা অঞ্চলটি পাহাড়ি হওয়ায় এখানকার আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং কিছু এলাকা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিক্ষোভের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের শহরের কেন্দ্রস্থল ও জনসমাগম এড়াতে বলেছে। ২৪ জানুয়ারি জারি করা এই সতর্কতা এখনও কার্যকর রয়েছে বলে নিউজউইক জানিয়েছে। জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে। জার্মানির পরামর্শে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি প্রয়োগের কারণে মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে জনশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং কখনও কখনও বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫ জানুয়ারির আপডেটে মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায় ভ্রমণে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে ২৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে বক্তব্য দেওয়ার সময় কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর হামলার শিকার হন। তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত থেকে বক্তব্য চালিয়ে যান এবং পরে নিজেকে ‘সারভাইভার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মার্কিন মুসলিম অধিকার সংস্থা সিএআইআর ঘটনাটিকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী উসকানির ফল বলে নিন্দা জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটি সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক এম. শহিদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় দলীয় প্যাডে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, যুবদল কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এম. শহিদকে পূর্বে সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্তের পর চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাকে অভিনন্দন জানান। এম. শহিদ বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বহিষ্কৃত ছিলেন, তবে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন সবসময় পেয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে বিএনপি সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত। জোহরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এই সমাবেশে জামায়াত ও সহযোগী দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট মোয়াযেম হোসাইন হেলাল, এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বক্তারা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থীদের নির্দেশে বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেওয়া হবে। সভাপতির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন প্রশাসনের ব্যর্থতার সমালোচনা করে দলীয় আনুগত্যে থাকা কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানান। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশের আহ্বান জানান।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।