বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় নির্বাচনি প্রচার জোরদার হয়েছে। ২২ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মসজিদ, মন্দির, মাজার ও শহীদ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তারা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা তুলে ধরছেন। জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির প্রার্থীরা এই প্রচারে বিশেষভাবে সক্রিয়। জামায়াতের নেতারা ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৮ আসনে একাধিক মসজিদে নামাজ আদায় ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন ও মির্জা আব্বাস হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। অনেক প্রার্থী মাজার জিয়ারত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই প্রচার কার্যক্রম চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি রাজধানীর নির্বাচনি পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, আর এখন দৃষ্টি ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার দিকে।
গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাকে সংসদে পাঠানোর জন্য। বুধবার সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের পাকুরতিয়া বাজারে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে চলতে পারবে। বর্তমানে এ এলাকার মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং ঢাকায় গিয়ে নিজেদের ঠিকানা বলতে ভয় পায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে হবে। নির্বাচন এলেই স্বাধীনতাবিরোধীরা ধর্মের লেবাস ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে তিনি জানান, তার প্রচারণা কোনো প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছে না, বরং যারা ধর্মকে ঢাল বানিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেয় তাদের মুখোশ উন্মোচন করাই লক্ষ্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে এস এম জিলানী শ্রীরামকান্দি ও পাটগাতীসহ বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ করে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে জানানো হয়, সাক্ষাৎটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। পোস্টে বলা হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, শিল্প-বাণিজ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাতে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কনসোলার এরিক গিলম্যান, পাবলিক অফিসার মনিকা এল সাই, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস স্টুয়ার্ট ও পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী দখলবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসবাদ ও মামলাবাণিজ্যের বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার বাদ মাগরিব উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বেকারমুক্ত, শোষণমুক্ত ও জুলুমমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। আনোয়ারী বলেন, জনতার সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি আগামীর নির্বাচনকে আধিপত্যবাদ, জুলুমতন্ত্র, সন্ত্রাসবাদ ও মামলাবাণিজ্যের বিরুদ্ধে লাল কার্ড হিসেবে অভিহিত করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মুহাম্মদ শাহ আলম এবং এতে স্থানীয় ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের দায়িত্বকালীন সময়ে প্রতিপক্ষ বা সমালোচকরাও তাঁদের অসৎ, দুর্নীতিপরায়ণ বা স্বজনপ্রীতিপরায়ণ বলতে পারেননি। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইফুল আলম মিলনের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার মাধ্যমে নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করা হচ্ছে। নারীদের ওপর হামলা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এর ফলে যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এর দায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর জামায়াত অন্যায়ভাবে কারও বিরুদ্ধে মামলা বা হয়রানি করেনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক, জামায়াত তাদের অভিনন্দন জানাবে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে নসিমন উল্টে মারুফুল (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মারুফুল গোপালদী এলাকার মনিরের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নসিমনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে যায়। এতে যাত্রী মারুফুল গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ বা অন্য কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা হবে বড় ভুল। বুধবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন। হাকান ফিদান বলেন, আবার যুদ্ধ শুরু করা ভুল হবে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা এখন জরুরি। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তার মতে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে পুনরায় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আস্থা তৈরিতে উদ্যোগ নিতে হবে, কারণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য পারস্পরিক বিশ্বাস অপরিহার্য।
ইরানের মুদ্রা রিয়াল মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড দরপতনের মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি বুধবার মুক্ত বাজারে এক ডলারের বিনিময়ে পাওয়া গেছে ১৬ লাখ ২০ হাজার ৫০০ রিয়াল, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন মান। মুদ্রা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোনবাস্ট জানিয়েছে, আগের দিন এক ডলারের দাম ছিল প্রায় ১৫ লাখ রিয়াল, অর্থাৎ মাত্র এক দিনে রিয়ালের মান কমেছে প্রায় দেড় লাখ। গত মাসের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ৭ জানুয়ারি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। বোনবাস্ট জানায়, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইস্তাম্বুল, বাগদাদ ও আফগান সীমান্তের আঞ্চলিক বাজারগুলোতে রিয়ালের প্রকৃত বিনিময় হার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ রিয়ালের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে সফল আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি পরিবর্তন করেন। তিনি সিরিয়ার ওপর আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করেন। এতে এসডিএফ কার্যত সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন ভেঙে যায়। ২০ জানুয়ারি সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এসডিএফের নিয়ন্ত্রণাধীন বিশাল এলাকা দখল করার পর সংগঠনটি দামেস্কের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নবায়ন করতে বাধ্য হয়, যার আওতায় এসডিএফ যোদ্ধাদের সেনাবাহিনীতে একীভূত করার কথা রয়েছে। এই নীতিগত পরিবর্তন সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের ভূরাজনীতিতে বড় বাঁকবদল নির্দেশ করে, যেখানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও সৌদি আরবের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আইএসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অংশীদার হিসেবে কাজ করা এসডিএফ এখন কার্যত একা। মার্কিন দূত টম ব্যারাক বলেন, এসডিএফের মূল উদ্দেশ্য শেষ হয়ে গেছে, যা কুর্দি নেতাদের ক্ষুব্ধ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাহার উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দিদের এক দশকেরও বেশি সময়ের স্বায়ত্তশাসনের অবসান ঘটাচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারারের সরকার এখন ২০১২ সালের পর সর্বাধিক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
বাংলাদেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাত গত এক মাসে তীব্র অস্থিরতার মধ্যে পড়েছে। বাজারে সিলিন্ডারের সংকট, বন্ধ এলপিজি পাম্প এবং দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রির কারণে সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে আছেন। চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার চেয়ে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের প্রভাবই এই সংকটের মূল কারণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে দেশে এলপিজির চাহিদা ২৫ গুণ বেড়েছে, কিন্তু ২০২৪ সালে ১৬ লাখ ১০ হাজার টন আমদানির পর ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টনে। অন্তত আটটি বড় কোম্পানি, যাদের অনেকেই সাবেক ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ, গত দেড় বছর ধরে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। ইরান-সম্পর্কিত জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, ফলে দেশের অধিকাংশ এলপিজি পাম্প বন্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার যদি সরাসরি এলপিজি ব্যবসায় অংশ নেয় এবং যথাযথ মনিটরিং ও অবকাঠামো উন্নয়ন করে, তবে ছয় মাসের মধ্যে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তুরস্ক জানিয়েছে, ইরানের স্থিতিশীলতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই মত প্রকাশ করা হয়। আংকারায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে গাজা, সিরিয়া ও ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয় বলে টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে। বৈঠকে ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি গাজার বর্তমান অবস্থা ও যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে তুরস্ক জানায়, তারা উপত্যকা পুনর্গঠন এবং অংশীদারদের সহযোগিতায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত। তুরস্ক গাজায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরিষদ সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং সিরিয়ার জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার জানায়। বৈঠকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানানো হয় এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে তুরস্কের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে দেশের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ ভোটারদের বড় অংশ এখনো জানেন না ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ কী এবং কেন এই ভোট দেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রচারণা চললেও অনেক গ্রামাঞ্চলে গণভোট সম্পর্কে কোনো ধারণা তৈরি হয়নি। সুনামগঞ্জ ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ভোটাররা সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সচেতন হলেও গণভোটের ব্যালট সম্পর্কে বিভ্রান্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যানার, ফেস্টুন, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের কথা বলা হলেও স্থানীয়রা জানান, এসব প্রচারণা মূলত উপজেলা সদর ও হাট-বাজারকেন্দ্রিক পর্যায়েই সীমিত। ফলে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ এখনো অন্ধকারে রয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, তারা শুধু এমপি নির্বাচনের কথা শুনেছেন, গণভোট সম্পর্কে কেউ কিছু বলেনি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণভোটে ভোট দেওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছার বিষয় এবং জনগণকে সচেতন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে সচেতনতার অভাবে ভোটের দিন বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনি উত্তাপ বেড়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কৃত হলেও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম ও শিল্পপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলামের অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এবং তৃণমূলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পুঠিয়া উপজেলা আমির মুনজুর রহমানকে একক প্রার্থী করে মাঠে নেমেছে এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভক্তি জামায়াতের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও আরও এক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তারা বলছেন, প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজের মূল্যায়ন করবেন। মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৩৮ জন, এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের অবস্থান শেষ পর্যন্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রংপুর সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু বিদ্রোহী প্রার্থী রিটা রহমানের কারণে বিপাকে পড়েছেন। উভয় প্রার্থীই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, জাতীয় পার্টির জি এম কাদের, ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী বিএনপির বিভক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রচারণা জোরদার করেছেন। বিএনপির হাইকমান্ড সামুকে মনোনয়ন দেওয়ার পর রিটা রহমান সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন এবং সামুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। সামুর সমর্থকরা দাবি করেন, রিটা বিদেশে থাকেন এবং রংপুরের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন না। অন্যদিকে রিটার সমর্থকরা সামুকে বহিরাগত ও চাঁদাবাজ বলে অভিযোগ করেন। জেলা বিএনপির নেতা অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের ক্ষতি করে এবং তাদের উচিত দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলে জামায়াতসহ অন্যান্য দল ভোটের ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সোহেল জাহান চৌধুরীকে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে সেনাবাহিনী তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। ইসলামাবাদ ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর ইনতিসার সালিমের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করেন। ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বে হত্যা মামলা ও জুলাই বিপ্লবের মামলাসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলা ছিল, তবে সরকার পতনের পরও তিনি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে অনুপস্থিতির অভিযোগে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের পক্ষে ভোট চান এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা চালান। তার এই আচমকা রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্র জনতার মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, গ্রেপ্তার এড়ানো ও রাজনৈতিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি বিএনপির পক্ষে মাঠে নামেন, যদিও এতে বিএনপির ভেতরেও অসন্তোষ দেখা দেয়।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।