চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আজ সোমবার দুপুর ২টায় শুরু হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি জনসভা। তিনি দুপুর আড়াইটায় হেলিকপ্টারযোগে সভাস্থলে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। সকাল থেকেই উত্তর চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলার নেতাকর্মীরা সীতাকুণ্ড বাজারে জমায়েত হচ্ছেন। আয়োজকদের মতে, দুপুরের মধ্যে মাঠটি পূর্ণ হয়ে যাবে এবং প্রায় ২ লাখ নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেবেন বলে পরিকল্পনা রয়েছে। সীতাকুণ্ড বাজারজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে সাজানো হয়েছে জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে। বাজারের দুই পাশে সারি সারি বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস পার্ক করা রয়েছে। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা হাইস্কুল মাঠের দিকে যাচ্ছেন। জনসভা ঘিরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড ছাড়াও মিরসরাই, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও হাটহাজারীসহ সাতটি থানার নেতাকর্মীরা জনসভায় যোগ দিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের নেত্রীরা রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে ৯ দফা দাবিসহ একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারী কর্মীদের ওপর দেশে অব্যাহত সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অধিকার হরণের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা নির্বাচনকালীন নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান এবং মহিলা বিভাগের নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে জানানো হয়, জানুয়ারির ৯ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে ভোলা, নাটোর, মেহেরপুর, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় নারী প্রচারকর্মীরা হামলা, হয়রানি ও বাধার মুখে পড়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নারী কর্মীদের ওপর সহিংসতা ও হুমকিকে আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, দ্রুত তদন্ত ও শাস্তি, বিশেষ পুলিশ টহল, নারী সংবেদনশীল অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম চালু এবং সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের জন্য সব দলের লিখিত অঙ্গীকার গ্রহণ। তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে অবাধ ও নিরাপদ প্রচারণার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে সারাদেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের মতো সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং এটি গুণগত পরিবর্তনের সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে বহু সরকার পরিবর্তন হলেও পদ্ধতিগত কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং দুর্নীতি সব সরকারের আমলেই অব্যাহত ছিল। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের পর দুর্নীতি বন্ধের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডা. তাহের জানান, ১১ দলীয় জোটে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনকারী ও ইসলামী সমমনা দলগুলো রয়েছে এবং জনগণের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জোট ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটবে এবং বাংলাদেশ নতুনভাবে গণতান্ত্রিক ধারায় যাত্রা শুরু করবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ১০৩টি কাজ সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি ‘রাকসুর ১০০ দিন: কার্যক্রম পর্যালোচনা ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জানান, দীর্ঘদিন বাজেট না পাওয়ায় রাকসু অকার্যকর ছিল, তবে বাজেট সংকট সত্ত্বেও তারা কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। সহসাধারণ সম্পাদক এস এম সালমান সাব্বির কার্যবিবরণী উপস্থাপন করে বলেন, রাকসু শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তাদের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে শোককালীন সময়ে ক্লাস ও পরীক্ষায় উপস্থিতির ক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রস্তাব, আবাসিক এলাকায় দ্রুতগতির যানবাহন নিষিদ্ধের দাবি, হলের ইন্টারনেট সমস্যা সমাধান, আইসিটি সেন্টারের সঙ্গে সমন্বয়ে ডিজিটাল শিক্ষা জোরদার, বাস ট্রিপ বৃদ্ধি এবং ‘টেক হেল্প ডেস্ক’ চালুর রোডম্যাপ ঘোষণা। স্বাস্থ্য খাতে রাকসু মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক ও কর্মীর সংকট নিরসনে স্মারকলিপি প্রদান, অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের দাবি এবং নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত না মানায় কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর যুবদলের আটজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তে দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক পত্রে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুজা উদ্দীন আহাম্মেদ পিয়াল, মোস্তফা কালাম টিটো, মঞ্জুরুল হক খোকা, মোহাম্মাদ আলী, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, আব্দুল লতিফ ও ইমরান হোসেন। পত্রে উল্লেখ করা হয়, তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। ফিরোজ বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি রাশেদ খাঁনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়, অন্য দুই প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেন। এই বহিষ্কার ঘটনাটি ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টাকে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দলীয় ঐক্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার অনেকটা ব্যর্থ হয়েছে। রোববার রাজধানীর মেরুল বাড্ডার এক রেস্তোরাঁয় শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, এনসিপি কখনো জুলাইকে ভুলবে না। তিনি আরও জানান, ৮০০ পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ এবং শহীদদের কবর জিয়ারতের ইচ্ছা রয়েছে। সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য আতিকুর রহমানসহ এনসিপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সাঈদনগর সাঈদিয়া কারিমিয়া মসজিদের সামনে থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার অবকাঠামোগত দুরবস্থা ও দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। নাহিদ ইসলাম জানান, ১১ দলীয় জোটের প্রতি জনগণের সাড়া অভূতপূর্ব এবং এটি একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে সমান সুযোগ নেই, তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাধারণ মানুষের সমর্থন বাড়ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুব সমাজের অংশগ্রহণে সেনাবাহিনীর দ্বিগুণ পরিমাণ রিজার্ভ ফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। রোববার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ১১ দলীয় জোট মনোনীত ‘শাপলা কলি’ প্রতীক ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা সভায় এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে সার্বভৌমত্বের হুমকির মুখে পড়েছে এবং কিছু রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করে স্বাধীনতাকে বিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুব সমাজকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে এনসিপি। তিনি জানান, এ উদ্যোগটি দলের ইশতেহারের অংশ। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি এবং বিদেশি প্রভাবিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দিচ্ছে। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন এবং সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী এস এম সাইফ মুস্তাফিজ।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাতিজার শাবলের আঘাতে কৃষকদল নেতা হেলাল উদ্দিন পালোয়ান নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রোববার সকালে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হেলাল উদ্দিন চাঁদপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। কাপাসিয়া থানার ওসি মো. শাহীনুর আলম জানান, কোটবাজালিয়া এলাকায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও শাবল দিয়ে পেছন থেকে আঘাত করে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। গাজীপুর জেলা কৃষকদল সদস্য সচিব ফকির ইস্কান্দার আলম ঘটনাটিকে নৃশংস ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ভারতের বাংলাদেশ শাখা জাতীয় পার্টি ‘না ভোট’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে ‘মৃত’। ১ ফেব্রুয়ারি রংপুর-৪ আসনে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেনের সমর্থনে এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির ‘জানাজা’ হবে এবং ভোটারদের তাদের প্রত্যাখ্যান করতে আহ্বান জানান। কাউনিয়া মডেল স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ওই সভায় হাসনাত বলেন, এনসিপি চাঁদাবাজ বা ঋণখেলাপিদের টাকা নিয়ে নির্বাচনে আসেনি। তিনি দুর্নীতি, মাদক ও স্বল্পমেয়াদি রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং ভোটের আগে যারা টাকা বা উপহার দেবে তাদের জবাব দিতে বলেন। দুর্নীতি ও সংস্কার প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। তার দাবি, বিএনপি প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকলেও গোপনে ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে। সভায় এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।
কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ নিয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় দলের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে এই শপথ গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিলে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্য জোরদারে নিয়মিত মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্থানীয় নেতারা জানান, ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার কাজ চলছে। তাদের বিশ্বাস, এই ঐক্য বজায় থাকলে কিশোরগঞ্জ–২ আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব। ঐক্যের এই ঘোষণা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ সৃষ্টি করেছে এবং তারা মনে করছেন এটি নির্বাচনী প্রচারণায় বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ রাতে পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকায় ধানের শীষের নির্বাচনি অফিসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের গুপ্টি বাজারে পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে অগ্নিসংযোগ ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থী এমএ হান্নানের সমর্থকরা অভিযোগ করেন, গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া বাজারে মিছিল শেষে ফেরার পথে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট আবুল কালাম আজাদ এসব ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বলেন, হামলা ও ভয়ভীতির কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এমএ হান্নান অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদান থাকা সত্ত্বেও দল তাকে মূল্যায়ন না করে ‘এক ফ্যাসিস্টের দোসরকে’ মূল্যায়ন করেছে। ৩১ জানুয়ারি বিকেলে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে চিংড়ি প্রতীকের নির্বাচনি মিছিল শেষে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, জনগণই তাকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তিনি দাবি করেন, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি কখনো দল ত্যাগ করেননি। হান্নান অভিযোগ করেন, কুচক্রী মহলের ইন্ধনে তার কর্মীদের ওপর হামলা, নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে বিচার চাইলেও তিনি ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিবাদী আচরণ বিদ্রোহীকে আরও বিদ্রোহী করে তুলবে। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে তার বিএনপি মনোনয়ন “চুরি” করা হয়েছে এবং বর্তমান বিএনপি প্রার্থী পূর্বে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
গাইবান্ধা–৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্কুলশিক্ষক আজিজার রহমান বিএসসি। তিনি ঢেঁকি প্রতীক নিয়ে পুরাতন একটি বাইসাইকেলে হ্যান্ডমাইক বেঁধে গ্রাম থেকে গ্রাম, হাট-বাজারে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং পথসভা করছেন। কোনো কর্মীবাহিনী বা মোটরযান ছাড়াই একাই প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। আজিজার রহমান ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদা বকস গ্রামের মৃত রজ্জব মন্ডলের ছেলে এবং স্থানীয় দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। স্থানীয়রা জানান, তিনি এর আগেও জাতীয়, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু জয়ী হতে পারেননি। আজিজার রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিনি ভালো সাড়া পাচ্ছেন এবং নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের ৯৫৮টি কক্ষে মোট ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ জন ভোটার রয়েছেন, যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯০২, নারী ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন নারীদের ওপর হামলা ও হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা নারীদের ওপর আক্রমণ করছে তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি রংপুর-৪ আসনে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি পথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র এখনো বিদ্যমান। এসব পরিবর্তনের জন্য জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ এগারো দলীয় ঐক্যজোট গঠন করা হয়েছে। তিনি গর্ভবতী মায়েদের জন্য ভ্রাম্যমান মেডিকেল সেন্টার স্থাপন এবং স্থানীয় আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, উত্তরাঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণ এবং ধনী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। আখতার হোসেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন চান এবং গণমাধ্যম মালিকদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান।
নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নে দিনব্যাপী নির্বাচনি গণসংযোগে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা, পথসভা ও উঠান বৈঠকে অংশ নেন এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, দেশের জনগণ এখন সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। দুর্নীতি, বৈষম্য ও দুঃশাসনে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা তাকে অনুপ্রাণিত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং জনগণের ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্থানীয় জামায়াত নেতারা বলেন, জনগণের ভোট ও ঐক্যের মাধ্যমেই সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণমুখী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব। পথসভা ও উঠান বৈঠকে বিপুলসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।