আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনভিত্তিক প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকসংবলিত ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত রোববার ও সোমবার দুই দিনে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ২১ জেলায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে। প্রথম দফায় ১৩ জেলায় এবং দ্বিতীয় দফায় আরও আট জেলায় ব্যালট পেপার পাঠানো হয়। ইসি জানিয়েছে, ঢাকা থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। এসব সামগ্রী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে এবং ভোটের আগের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য প্রায় ২৬ কোটি ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে, যার ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত সারা দেশে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন শুরু হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ৪০৪ জন সাবেক মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে আন্তর্জাতিক আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন বন্ধে ইইউকে নিন্দার গণ্ডি ছাড়িয়ে বাস্তব উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ইইউ–ইসরাইল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিত করা এবং ইসরাইলে সব ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধ করা। বিবৃতিতে বলা হয়, ইইউর প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধ ও নীতির ভিত্তিতে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া জরুরি, যাতে শান্তি ও কল্যাণের পক্ষে একটি বিশ্বাসযোগ্য শক্তি হিসেবে ইউনিয়নের সুনাম পুনরুদ্ধার করা যায়। স্বাক্ষরকারীরা সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগ শুরু হলেও গাজায় মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি ঘটছে। তারা ইসরাইলের সামরিক অভিযান, মানবিক সহায়তায় বাধা এবং বেসামরিক মানুষ ও ত্রাণকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তোলেন। এছাড়া তারা রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ত্রাণ সরবরাহে বাধা দিতে তথাকথিত ‘ডুয়াল-ইউজ’ নীতির অপব্যবহার বন্ধের দাবি করেন।
পাকিস্তান ঘোষণা করেছে যে তারা ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির গ্রুপ ম্যাচটি খেলবে না। এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশকে সমর্থন জানানোর প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচ সরাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে স্কটল্যান্ডকে তাদের স্থানে বসায়, যা লেখকের মতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করার সমান। পাকিস্তানের এই অবস্থান ক্রিকেটে রাজনৈতিক প্রভাব ও অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনীতি ও আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ক্রিকেটের সৌন্দর্য নষ্ট করছে এবং বাংলাদেশ শুরু থেকেই বৈষম্যের শিকার। আইসিসি ও ভারতের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে লেখক পক্ষপাতদুষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান এমন এক ম্যাচ ত্যাগ করছে যা বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি দেখা ও আর্থিকভাবে লাভজনক, শুধুমাত্র ন্যায়বোধের বার্তা দেওয়ার জন্য। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট প্রশাসনে ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দেয় এবং বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে কাজ করে ন্যায্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাদারীপুর জেলার তিনটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা চাপে পড়েছেন। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও এসব বিদ্রোহী প্রার্থী স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছেন এবং তাদের কারণে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে দুটি আসনেই বিএনপি ঝুঁকিতে রয়েছে, অন্যদিকে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিদ্রোহী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী ও কামাল জামান মোল্লা, আর জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির জাহান্দার আলী জাহানের বিপরীতে বিদ্রোহী মিল্টন বৈদ্য ও জোটের প্রার্থী আব্দুস সোবাহান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপির আনিসুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থীহীন অবস্থায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় ঐক্য রক্ষা ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব মোকাবিলা এখন বিএনপির প্রার্থীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র আটদিন বাকি থাকলেও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে পোস্টাল ভোটে আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৭ লাখ কর্মীর মধ্যে মাত্র পাঁচ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ জন পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন, ফলে প্রায় ১২ লাখ কর্মী ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, ভোটের দায়িত্ব ও পরিবারের নিরাপত্তা ইস্যুতে তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এমনকি যাদের মোবাইলে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানোর বার্তা এসেছে, তারাও ভোট দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এবারই প্রথম অনলাইনে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির তথ্যমতে, দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। তবে অনেক সরকারি কর্মচারী বলেছেন, তারা প্রক্রিয়াটি জানতেন না বা নিবন্ধন জটিল মনে হয়েছে। ইসি দাবি করেছে, ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে, কিন্তু অনেকেই শেষ মুহূর্তে দায়িত্ব পাওয়ায় নিবন্ধন করতে পারেননি। ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধনকারী ৭ হাজার ৩৬৭ জন ভোটার ব্যালট পেয়েছেন এবং ৪ হাজার ৯০২ জন ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচন শেষে ইসি কম অংশগ্রহণের কারণ পর্যালোচনা করবে।
কলামিস্ট মাহমুদুর রহমানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার পর ভারত এখন আন্তর্জাতিকভাবে ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব একসময় তার আকার ও অর্থনৈতিক শক্তির কারণে প্রভাবশালী ছিল, কিন্তু পাকিস্তানের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত অগ্রগতির পর সেই আধিপত্য দুর্বল হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের বিমানযুদ্ধে পাকিস্তান চীনের সহায়তায় ডিজিটাল যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করে ভারতের ওপর সাফল্য অর্জন করে, যা ভারতের জন্য বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। রহমানের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি পুনর্মূল্যায়ন করেছে এবং ওয়াশিংটন পাকিস্তানের বিজয় স্বীকার করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী নীতি ও দুর্বল কূটনীতি ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোও ভারতের প্রতি ভীতিনির্ভর নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বলে তিনি সমালোচনা করেন। প্রবন্ধের শেষাংশে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ভারতের প্রভাবের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার জন্য প্রশংসা করেন এবং তরুণ নেতৃত্বকে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম হত্যা মামলায় ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বনকালী এলাকার গেসু মিয়ার ছেলে রুবেল মামলার ৫৫ নম্বর আসামি। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে। শেরপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে মামলাটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছে। তারা অভিযোগ করে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা এবং রুবেলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানায়। এর আগে একই মামলায় বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ ৪০ জনকে হাইকোর্ট ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। নিহতের স্ত্রী মারজিয়া ৩০ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী থানায় হত্যা মামলা করেন, যেখানে ২৩১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন এবং এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবেন। সোমবার রাতে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প এই দাবি করেন। মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি জানান, নতুন চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে এবং ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও নন-ট্যারিফ বাধা শূন্যে নামিয়ে আনবে। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে জানান, আলোচনায় বাণিজ্যের পাশাপাশি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা হয়েছে। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক জরিমানা তুলে নেওয়া হবে। চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কিনবে, যার মধ্যে থাকবে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য ও কয়লা। ট্রাম্পের মতে, এই সমঝোতা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মোদি এক্সে দেওয়া বার্তায় চুক্তি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, বিশ্বের দুটি বৃহৎ গণতন্ত্র একসঙ্গে কাজ করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়।
ভারতের কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর বলেছেন, বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়া ছিল অসম্মানজনক ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত সিদ্ধান্ত। তিনি মনে করেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে চলমান অস্থিরতার জন্য ভারতেরও কিছুটা দায় রয়েছে এবং খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানো উচিত নয়। থারুর বলেন, মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া একটি দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত, যার প্রভাব এখন বিশ্ব ক্রিকেটে অনুভূত হচ্ছে। শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স নিলামে মোস্তাফিজকে চড়া দামে কিনলেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাকে বাদ দেওয়ায় সংকটের সূত্রপাত হয়। এর পর বাংলাদেশ নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি করে। আইসিসি সেই দাবি না মেনে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার প্রতিবাদে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। থারুর আইসিসিকে সতর্কবার্তা হিসেবে এই পরিস্থিতি গ্রহণ করে জরুরি সংলাপের আহ্বান জানান এবং বলেন, ক্রিকেট বিভাজন নয়, ঐক্যের মাধ্যম হওয়া উচিত।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বাংলাদেশের আমলারা প্রকৃতিগতভাবে সংস্কারবিরোধী, যদিও এটি তাদের ব্যক্তিগত দোষ না সিস্টেমের ত্রুটি—তা তিনি নিশ্চিত নন। সোমবার রাতে ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বর্তমান আমলাতন্ত্রকে স্থবির বলে আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, এমন ব্যবস্থায় দেশ কীভাবে এগোবে। আসিফ নজরুল বলেন, কর্মকর্তারা আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করতে অনীহা দেখান, ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়। তিনি প্রধান উপদেষ্টার উদাহরণ টেনে বলেন, উনি হোয়াটসঅ্যাপকে অফিসের মতো ব্যবহার করেন, কিন্তু তরুণ কর্মকর্তারা তা করেন না। আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, তিনি অনেক সময় রাত জেগে কাজ ঠিক করে দেন, কিন্তু পরে তা বাস্তবায়ন হয় না। কর্মকর্তাদের তিনি মনে করিয়ে দেন যে, তারা কেরানি নন, বরং মেধা ও মনন দিয়ে কাজ করার দায়িত্ব তাদের।
বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে না খেলার পাকিস্তানের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) রাজস্বে বড় ধাক্কা লেগেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত–পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি। এই ম্যাচ থেকেই আইসিসি পুরো টুর্নামেন্টের অন্য সব ম্যাচের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আয় করে থাকে। ম্যাচটি বাতিল হওয়ায় সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী জিও স্টার ইতোমধ্যেই আইসিসির কাছে ছাড় চেয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের বিজ্ঞাপনের হার প্রতি ১০ সেকেন্ডে ২৫–৪০ লাখ টাকা, এবং মোট বিজ্ঞাপন আয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ম্যাচ না হলে ভারত ও পাকিস্তান উভয় বোর্ডই প্রায় ২০০ কোটি টাকা করে ক্ষতির মুখে পড়বে। কেন্দ্রীয় রাজস্ব কমে গেলে আইসিসির সদস্য বোর্ডগুলোর বরাদ্দও হ্রাস পাবে, যা ছোট ও সহযোগী দেশগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। এনডিটিভি সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক আসরগুলোতে সম্প্রচার মূল্য ও স্পন্সর আগ্রহ কমে যেতে পারে, ফলে ক্রিকেটের আর্থিক ইকোসিস্টেম দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নেপালে অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জনের পর গতকাল সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টে একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে শীর্ষস্থানে থেকে শেষ করে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা। বাছাইপর্বে বাংলাদেশ দল টানা সাত ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ধারাবাহিক ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে পুরো টুর্নামেন্টে আধিপত্য দেখায়। দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও নারী উইং কমিটির চেয়ারপারসন রুবাবা দৌলা দলের সদস্যদের স্বাগত জানান। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, এই সাফল্য বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতিকে বিভক্ত করার সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না এবং ২০২৪ সালের যুব সমাজ পরিবর্তন চায়। মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, জামায়াত পচা রাজনীতি চায় না এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে প্রস্তুত। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী নারী ইস্যুকে ব্যবহার করে জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং চোরাই পথে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, আইডি হ্যাকের বিষয়ে সবকিছু স্পষ্ট হওয়ার পরও একটি রাজনৈতিক দল এটি নিয়ে ব্যবসা করছে। শফিকুর রহমান জানান, জামায়াত চায় বাংলাদেশ মানবিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হোক এবং বিশ্বের দরবারে স্বাধীন ও সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়াক। তিনি জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তরুণদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান, যারা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তি অর্জনে ভূমিকা রেখেছে। তার বক্তব্যে জামায়াতের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেদের অবস্থান মিলিয়ে নেওয়ার এবং বিভাজন ও নোংরা রাজনীতি থেকে দূরে থাকার বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে।
ইরানে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান ও মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, জর্দান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে অতিরিক্ত ‘থাড’ ও ‘পেট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এসব ঘাঁটিকে সম্ভাব্য বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, থাড ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে অল্প কয়েকটি স্থানে মোতায়েন রয়েছে এবং এটি স্থানান্তরে ব্যাপক জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা প্রয়োজন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা না করলেও কর্মকর্তারা সীমিত মাত্রার হামলার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি সিএনএনকে জানিয়েছেন, সংঘাত এড়াতে আলোচনা চলছে, যদিও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখে না। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চুক্তি আশা করছেন, তবে ব্যর্থ হলে ইরানের হুমকি যাচাই হবে।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেও আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এএফপি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এক আরব কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে যে মিসর, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের ধারাবাহিক মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই বৈঠকের পথ তৈরি হয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সৌদি আরব, মিসর, তুরস্কসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। আলোচনার মূল বিষয় হবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, যা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উত্তেজনা চলছে। গত বছরের জুনে এই ইস্যু ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত হয়েছিল, যা ১২ দিন স্থায়ী ছিল। এর পরেও সম্পর্কের তিক্ততা কাটেনি। জানুয়ারির মাঝামাঝি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বড় নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দেন, যা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছে। ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এবং আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যায়সঙ্গত প্রস্তাব দিলে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।