প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলকে আধুনিক সভ্যতার নৈতিক ও মানবিক অবক্ষয়ের আয়না হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আদালত, তদন্ত সংস্থা ও সরকারি নথির ভিত্তিতে তৈরি এই দলিল দেখিয়েছে, কীভাবে ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন, যার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ছিল। এতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কীভাবে এমন এক ব্যবস্থা গড়ে উঠল যেখানে শিশু ও কিশোরীদের কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে গেল, অথচ ক্ষমতাবানদের নাম রয়ে গেল নিরাপদে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এই ফাইল বিশ্ব রাজনীতির ভণ্ডামি উন্মোচন করেছে। যারা মানবাধিকার নিয়ে বক্তৃতা দেন, তারাই ব্যক্তিগত জীবনে শোষণের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। রাষ্ট্রীয় কাঠামো অপরাধীদের রক্ষা করেছে, তদন্ত ধীর হয়েছে, অভিযোগ দুর্বল হয়েছে, আর ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচারের আশায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জবাবদিহির সংকীর্ণতা ও আইনের বৈষম্যকেও এতে তুলে ধরা হয়েছে। তবে লেখাটি উল্লেখ করেছে, এই নথি প্রকাশের পরও বাস্তব পরিবর্তনের কোনো শক্ত ইঙ্গিত নেই। কিছু বিবৃতি ও অস্বীকার ছাড়া তেমন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। লেখকের মতে, এপস্টেইন ফাইল বিশ্বব্যবস্থার দ্বিচারিতা প্রকাশ করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, ক্ষমতা যদি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকে, তবে অন্যায় অব্যাহত থাকবে।
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার নিজামাবাদে এক জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ‘মিঞা মুসলিমদের’ প্রতি বৈষম্য করছেন এবং ভারতের সংবিধান প্রদত্ত সমান অধিকারের নীতি লঙ্ঘন করছেন। ওয়াইসি মুখ্যমন্ত্রীর আগের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যদি কোনো অটোচালক মিঞা মুসলিম হন, তবে তাকে কম ভাড়া দিতে হবে—এই বক্তব্যের জবাবে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে দুই রুপি দেবেন, তিনি কি তা নেবেন। এর আগে হিমন্ত বিশ্বশর্মা অবৈধ অভিবাসীদের ‘মিঞা মুসলিম’ বলে অভিহিত করে বলেন, তাদের আসামে নয়, বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, যেন তাদের এমনভাবে উত্ত্যক্ত করা হয় যাতে তারা আসাম ছেড়ে চলে যায়। ‘মিঞা’ শব্দটি আসামে বাংলাভাষী মুসলমানদের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি কটূ শব্দ, যার দ্বারা বোঝানো হয় তারা বাংলাদেশি। এই বিতর্ক আসামে পরিচয়, অভিবাসন ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে চলমান রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
আসন্ন ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু জোরদার প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন। অপরদিকে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে এনসিপি প্রার্থী দিলশানা পারুল জামায়াতের ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভর করছেন, তবে মাঠপর্যায়ে জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী এখনো সক্রিয় না থাকায় তিনি পিছিয়ে আছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, আট প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য বাবু জনসমর্থনে এগিয়ে আছেন। ডা. বাবু নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার লক্ষ্য মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা। তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে পঞ্চমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেত্রী দিলশানা পারুল জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাহারের পর নির্বাচনে অংশ নেন, তবে নতুন প্রতীকে প্রচারণা নিয়ে জামায়াত কর্মীদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতি তাদের পেশা নয়, বরং কর্তব্য হিসেবে নিয়েছেন। শনিবার সকাল ১১টায় হবিগঞ্জে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, দেশে চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধ করা হবে এবং অসৎ নেতৃত্বের কারণে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে বছরে একবার জনগণের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হবে এবং যারা মা-বোনদের অপমান করেছেন, তারা ১৮ কোটি মানুষের কাছে ক্ষমা চাইবেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে, যার দায় পূর্বের ক্ষমতাধরদের। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে, কিন্তু অসৎ রাজনীতি বৈষম্য ধরে রেখেছে। হবিগঞ্জের চা-বাগান আধুনিকীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে আর বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না এবং মেধার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, ক্ষমতায় গেলে দলের এমপিরা বিনা ট্যাক্সের গাড়ি বা স্বল্পমূল্যের ফ্ল্যাট নেবেন না; প্রয়োজনে রিকশায় চলবেন এবং নিজেদের অর্থে গাড়ি-ফ্ল্যাট কিনবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহান ঘোষণা দেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে নোয়াখালী সদর ও সুবর্ণচরকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকায় পরিণত করা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুল মোতালেব আপেল এবং সঞ্চালনা করেন মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ। উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম সায়েম, মাহবুব আলমগীর আলো ও মো. হারুনুর রশিদ আজাদসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য শাহজাহান বলেন, নির্বাচিত হলে সড়ক উন্নয়ন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি শিষ্টাচার, সহনশীলতা ও আদর্শের রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। তিনি জিয়া পরিবার ও নিজের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।
প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুর রব ও ড. মুহাম্মদ মহিউদ্দীন সরকার মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্ভাবনাময় হলেও দুর্নীতি, বৈদেশিক ঋণ ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে তা স্থবির হয়ে আছে। প্রবাসী আয় ও তৈরি পোশাক খাত অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলেও খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি ও কর-জিডিপি অনুপাতের নিম্ন অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করছে। জুলাই বিপ্লবের পর তারা অর্থনীতির নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। লেখকদ্বয় দুর্নীতিকে অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, এটি বিদেশি বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে এবং বিপুল অর্থ পাচারের পথ খুলে দিচ্ছে। তারা সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাও তারা উল্লেখ করেন। তাদের প্রস্তাবিত “ইনসাফের অর্থনীতি” ধারণায় ন্যায্যতা, সততা ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পদ বণ্টনকে প্রতিটি নীতির কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।
বাংলাদেশি লেখক মাসকাওয়াথ আহসান ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত এক কলামে বলেন, ভারতের মিডিয়া বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছে, অথচ নিজেদের দেশে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি তীব্রতর হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘দ্য উইক’ ও আল জাজিরার সাংবাদিকরা এনসিপি–জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ ধর্মরাষ্ট্রে পরিণত হবে কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতের রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও বলেছেন, ওই জোট জিতলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আহসান লেখেন, ভারতের বিজেপি সরকার কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করেছে, মুসলিমদের ওপর সহিংসতা ঘটেছে এবং বাবরি মসজিদ ভেঙে রামমন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় মিডিয়া ও চলচ্চিত্র শিল্প মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারণা চালাচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশকে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রীতির ভিত্তিতে মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হবে এবং ভারতের হিন্দুত্ববাদী প্রভাব থেকে দূরে থাকতে হবে।
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ট্রাকভর্তি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী ও ওষুধ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। শুক্রবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এই অভিযান পরিচালনা করে। ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় বিজিবির একটি বিশেষ দল কৌশলগত অবস্থান নেয়। ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে সন্দেহভাজন একটি ট্রাক পৌঁছালে চালক বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পরিত্যক্ত ট্রাকটি তল্লাশি করে পাথরের নিচে বস্তার ভেতরে লুকানো ভারতীয় প্রসাধনী ও বিপুল পরিমাণ মেলানোসাইল ওষুধ উদ্ধার করা হয়। হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান, পাচারের উদ্দেশ্যে আনা এসব অবৈধ পণ্যসহ ট্রাকটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামাল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়ে এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের আলোচনার সময় তিনি এই আদেশে সই করেন। আদেশে নির্দিষ্ট করে শুল্কের হার উল্লেখ করা হয়নি, তবে উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ইরান থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পণ্য বা সেবা গ্রহণ করা দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে। ট্রাম্প আদেশটি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না। এর আগে বছরের শুরুতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরান ও তার বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন। তিনি এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন যে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নামবে। নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়াবে। এছাড়া, আগামী ১০ বছরে দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ করবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। তবে ভারত ট্রাম্পের এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। এর আগে নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, রাশিয়া থেকে তেল কেনা তাদের জাতীয় স্বার্থের অংশ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) ঢাকাসহ দেশের সব দোকান, বাণিজ্যবিতান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। শনিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সমিতি এ তথ্য জানিয়েছে। একই কারণে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকও ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা এবং ভোটগ্রহণে কোনো বাণিজ্যিক বা আর্থিক কার্যক্রমের বিঘ্ন না ঘটানো। এতে ধারণা করা হচ্ছে, দুই দিনের এই বন্ধের ফলে নাগরিকরা নির্বিঘ্নে ভোট ও গণভোটে অংশ নিতে পারবেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে।
রাজনীতি বিশ্লেষক আবদুল লতিফ মাসুম মনে করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বাংলাদেশে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন প্রয়োজন হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি নেতা তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান উভয়েই নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন, বিজয়ী দল যেই হোক না কেন। লেখকের মতে, এই উদ্যোগ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে। প্রবন্ধে বাংলাদেশের অতীত জোট সরকারের অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেপালের জাতীয় সরকারের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। মাসুম বলেন, জাতীয় সরকার তখনই সফল হয় যখন দলগুলো মতাদর্শের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ করে। তিনি উপসংহারে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জাতীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার মতে, সব প্রধান দলকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ঐক্যের সরকার গঠিত হলে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং বিভক্ত বাংলাদেশে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনাকে ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই আলোচনা প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার। আরাগচি জানান, আলোচনাগুলো ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে এবং তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ঐকমত্যের ইঙ্গিত রয়েছে, যদিও মার্কিন হামলার আশঙ্কা দূর করতে কোনো রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়নি। আরাগচি বলেন, আলোচনাগুলো কেবল পারমাণবিক ইস্যু ঘিরেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং শান্ত, হুমকিমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, ইরান তার অবস্থান ও উদ্বেগ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে এবং অপর পক্ষের বক্তব্যও মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আল বুসাইদি দুই পক্ষের বার্তা আদান–প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আরাগচি আরও জানান, পরবর্তী দফা আলোচনার সময় ও পদ্ধতি ওমানের মাধ্যমে পরামর্শের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের পর গত আট মাসে যে গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভা শনিবার সকালে হবিগঞ্জ নিউফিল্ড মাঠে শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া এই সভায় সভাপতিত্ব করছেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমান। স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন, আর সকাল ১০টার মধ্যে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেবেন বলে জানানো হয়েছে। এই জনসভা জেলার নির্বাচনি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক প্রচারণা জোরদার করতে এই আয়োজন করেছে। সভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সভায় আলোচ্য বিষয়, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বা নির্দিষ্ট নির্বাচনি বার্তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী লড়াই ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পাওয়া রেদোয়ানকে এখন বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের শক্ত উপস্থিতির কারণে ভোট বিভাজনের আশঙ্কার মুখে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষোভ ও দলীয় কোন্দলের কারণে শাওন মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। রেদোয়ানের পক্ষে কাজ না করায় চান্দিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় অসন্তোষ আরও বেড়েছে। বিএনপি কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, রেদোয়ানের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, বিপরীতে শাওন দমন-পীড়নের সময় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। বর্তমানে এই আসনে তিন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে—বিএনপির রেদোয়ান আহমেদ, বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন এবং ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের সোলায়মান খান। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির মূল প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ চাপে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।