জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন করা সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানান, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে অবস্থানরত দক্ষিণ আফ্রিকার সেনাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এবং সেনা প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা গত ২৭ বছর ধরে কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে এবং বর্তমানে সেখানে ৭০০ জনেরও বেশি সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর সময় প্রায় ১১ হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য সেখানে কর্মরত ছিলেন। কঙ্গোতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করাই এই মিশনের মূল দায়িত্ব, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা বেড়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে এবং ২০২৬ সালের শেষের আগেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। রামাফোসার কার্যালয় জানিয়েছে, সেনা প্রত্যাহারের পরও কঙ্গো সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকবে এবং স্থায়ী শান্তির প্রচেষ্টায় দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সমর্থন করবে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারদের আগামী মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে ভোট দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট জমা না পড়লে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। রোববার কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যারা এখনো খামের ওপর মুদ্রিত কিউআর কোড স্ক্যান করেননি, তাদের মঙ্গলবার মধ্যরাতের মধ্যে স্ক্যান সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তা সালীম আহমাদ খানের তথ্যমতে, আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ তিন হাজার ৪৪১ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে চার লাখ ২৮ হাজার ৮২৮টি ডাকযোগে দেশে পৌঁছেছে। প্রবাসীদের পাশাপাশি নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররাও এবার ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন। কমিশন জানিয়েছে, মঙ্গলবারের মধ্যে ডাকঘরে খাম জমা দিলে তা সময়মতো রিটার্নিং অফিসে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে পৌঁছানো ব্যালটগুলোই গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে, বাকিগুলো বাতিল করা হবে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ‘রিফর্ম বুক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে গৃহীত সংস্কার উদ্যোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। শনিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার গভীর অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের সময় দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ মাসে সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন ও সংশোধিত আইন প্রণয়ন করেছে এবং ৬০০টিরও বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে তদারকি জোরদার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাবদিহি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন ও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও অগ্রগতি হয়েছে। প্রেস উইং জানায়, এসব সংস্কার নতুন শাসনব্যবস্থার পথে প্রথম ধাপ। যদিও ১৬ বছরের ক্ষতি ১৮ মাসে পূরণ সম্ভব নয়, তবুও বাংলাদেশ কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে দৃঢ়ভাবে সরে এসেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাকিস্তানের লাহোরে পৌঁছেছেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) উদ্যোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে তার জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া, পাকিস্তানের বয়কট অবস্থান এবং এই সংকট নিরসনের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। সংকটের সূত্রপাত হয় মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশের ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে। বাংলাদেশ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করলেও আইসিসি স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা পাকিস্তান ‘রাজনৈতিক’ ও ‘অন্যায্য’ বলে আখ্যা দেয় এবং বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়। পাকিস্তান সরকার জানায়, বাংলাদেশ না খেললে তারা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না, যা আইসিসির জন্য বড় বাণিজ্যিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। লাহোরের বৈঠকে নতুন প্রস্তাব উঠতে পারে যা উভয় দেশকেই সন্তুষ্ট করতে পারে। বৈঠকের ফলেই নির্ধারিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের অচলাবস্থা কাটবে কিনা, নাকি সংকট আরও গভীর হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩৪ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নির্বাচন মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী ইশতেহারটি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী এবং উপস্থিত ছিলেন দলের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা। ইশতেহারে ইসলামি মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সংস্কার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাওলানা ইউসুফী বলেন, এই ইশতেহার দেশের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইনসাফভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের বাস্তব রূপরেখা। এতে ইসলামি শিক্ষা উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও জাতীয় ঐক্য জোরদারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের আত্মরক্ষামূলক ও প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে জাতীয় সংকটে স্বাধীনতার প্রহরী হিসেবে প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় নেতারা দেশবাসীকে ইশতেহারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা কার্যকর থাকবে। এছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জরুরি সেবা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। ওষুধ, জরুরি দ্রব্য, সংবাদপত্র পরিবহন এবং বিদেশগামী বা বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্যও বিশেষ অনুমতি থাকবে। প্রার্থী, এজেন্ট, সাংবাদিক ও টেলিযোগাযোগ সেবার যানবাহনও নির্দিষ্ট শর্তে চলাচল করতে পারবে। জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার প্রয়োজনে বিধিনিষেধ কঠোর বা শিথিল করতে পারবেন।
দেশের সব মাদরাসা আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে টানা দেড় মাসের ছুটিতে যাচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এই ছুটি মোট ৪৬ দিনব্যাপী হবে। ছুটির মধ্যে রয়েছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারির শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি, এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে পবিত্র রমজানের ছুটি। পরবর্তী ছুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ১৭ মার্চ শবেকদর, ২০ মার্চ জুমাতুল বিদা, ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে মাদরাসাগুলো ২৯ মার্চ থেকে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করবে। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ দিনের ছুটি থাকবে পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে, যা চলবে ২৪ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবিক ও সহানুভূতিশীল দিক নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘সবার আগে হাসিমুখ’ ঢাকায় মুক্তি পেয়েছে। এতে মানুষ ও প্রাণীর প্রতি তার নীরব সহমর্মিতা এবং অসহায় পরিবার ও অবহেলিত প্রাণীর পাশে দাঁড়ানোর গল্প তুলে ধরা হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর স্টার সিনেপ্লেক্সে তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের নেতৃবৃন্দ ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারেক রহমান বছরের পর বছর মানুষের ও প্রাণীর কল্যাণে কাজ করেছেন, কিন্তু কখনো প্রচার করেননি। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, তিনি ভেবেছিলেন এটি রাজনৈতিক তথ্যচিত্র হবে, কিন্তু দেখার পর বুঝেছেন এটি একজন মানুষের মানবিকতার গল্প। নির্মাতা জুবায়ের বাবু বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং একজন মানুষের নিভৃত মানবিক প্রচেষ্টার প্রতিচ্ছবি। প্রিমিয়ার শেষে অতিথিরা তথ্যচিত্রটির নির্মাণ ও বিষয়বস্তুর প্রশংসা করেন এবং একে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন। তথ্যচিত্রটি সামাজিক মাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাত সহ্য করা হবে না। রোববার সকালে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে আনসার সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে জেলেও যেতে হতে পারে। তিনি সকল সদস্যকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। মহাপরিচালক বলেন, আনসার বাহিনীর দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বরং ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাও। কেউ যদি এই নিয়মানুগ দায়িত্বে ব্যর্থ হয়, তা সহ্য করা হবে না। অনুষ্ঠানে আনসার বাহিনীর উপমহাপরিচালক ড. সাইফুর রহমান এবং চট্টগ্রাম জেলা কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচনের আগে আনসার সদস্যদের শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত হওয়ার গুজবে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রোববার ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট স্থগিত হওয়ার বিষয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ইসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) নির্ধারিত তারিখেই শেরপুর-৩ আসন ব্যতীত ২৯৯টি সংসদীয় আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ইসি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা নির্বাচন ও গণভোট স্থগিত সংক্রান্ত কোনো ধরনের অপপ্রচারে কান না দেন এবং বিভ্রান্ত না হন।
প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০২৬ দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষা অধিকার সংসদ। সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত মেয়াদে কোনো জনসম্পৃক্ততা, অংশীজন পরামর্শ বা জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন সমীচীন নয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা আইন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন আইন, যা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণ, প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং বিস্তৃত নাগরিক আলোচনার প্রয়োজন। সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করে যে বর্তমান প্রেক্ষাপটে খসড়া আইনটি অনুমোদন পেলে গণতান্ত্রিক আলোচনা ও অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হবে। তারা খসড়ায় সংজ্ঞাগত অস্পষ্টতা, শাসন কাঠামোর অনির্দিষ্টতা এবং বাস্তবায়ন নির্দেশনার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে, যা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। শিক্ষা অধিকার সংসদ প্রস্তাব করেছে, শিক্ষা আইন ২০২৬ বর্তমান পর্যায়ে অনুমোদন না দিয়ে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া হোক, যাতে সব অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি শক্তিশালী ও সর্বজনগ্রাহ্য আইন প্রণয়ন সম্ভব হয়।
স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনটি হবে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর। তিনি সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোথাও কারচুপির ঘটনা ঘটলে তা জানাতে হবে, যাতে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। রোববার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি পুনরায় আশা প্রকাশ করেন যে নির্বাচনটি হবে ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল, এবং একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর দাখিল করা বেতনসংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিতে জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা, অর্থ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিবসহ হিসাব মহানিয়ন্ত্রককে সদস্য করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কমিটি তিনটি কমিশনের দাখিলকৃত প্রতিবেদনের বেতনসংক্রান্ত বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সুপারিশ তৈরি করবে। এর আগে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল, যাদের ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে যৌথবাহিনীর অভিযানে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৬২২ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার ভোরে শুরু হওয়া এই অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন। কক্সবাজার জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পালংখালী, থাইংখালী ও বালুখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। রোহিঙ্গাদের ঘর ভাড়া দেওয়ার অপরাধে ১৩টি মামলায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং তিনজন বাড়ির মালিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ২১১ জন পুরুষ, ১৯৬ জন নারী ও ২০০ জন শিশু রয়েছে। তারা উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। গ্রেপ্তার রোহিঙ্গাদের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। প্রশাসন জানায়, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ক্যাম্পের বাইরে অবৈধ বসবাস বন্ধ করতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএসডিএ-এর এটি ছিল দ্বিতীয় গভর্নিং বডি সভা। সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এনএসডিএ একটি শক্তিশালী কাঠামো। তিনি সতর্ক করে বলেন, সনদ জালিয়াতি কর্মীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে এবং চাকরিদাতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যা জালিয়াতি রোধে সহায়ক হবে এবং দেশের ব্র্যান্ড ইমেজকে শক্তিশালী করবে। সভায় পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মান একীভূত করবে, সরকারি অর্থের অপচয় কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সনদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।