মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে তিনি সম্মত হয়েছেন, যার ফলে ভারত থেকে রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। তবে এই ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সমঝোতার প্রাথমিক খসড়া ভারতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে বিরোধী দলগুলো এর শর্ত ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস ও বামপন্থি দলগুলো অভিযোগ করেছে, এই চুক্তি ভারতের কোনো লাভ বয়ে আনবে না। কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা একে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ বলে আখ্যা দেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে ভারত মার্কিন পণ্যের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হতে পারে, যা কৃষক ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের ক্ষতি করবে। তিনি তেল আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘মনিটরিং’ ব্যবস্থারও সমালোচনা করেন। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে ভারত রাশিয়া থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তেল আমদানি করছে, তবে আবারও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। সিপিএমও এই চুক্তিকে কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে আর নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। রোববার রাতে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিনে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ব্যাপক সমালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হয়। আগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। এই নির্দেশনা বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। কমিশনের আশ্বাসে ধারণা করা হচ্ছে, ভোটের আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কার্যকর হতে পারে।
বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মামনুর রহমান বিচারকাজ থেকে বিরত থাকার পর পদত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিচারপতি মামনুর রহমান কানাডা থেকে ই-মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠান এবং বিচারপতি নাঈমা হায়দার স্বহস্তে লিখিত পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে দুর্নীতি ও দলবাজ রায় দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বিচারকদের মধ্যে এই দুইজন ছিলেন উল্লেখযোগ্য। তাদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পদত্যাগ বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিচারকদের আচরণ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কোনো ধরনের পক্ষপাত হলে বর্তমান কমিশনের পরিণতি হাসিনা আমলের কমিশনের চেয়েও ভয়াবহ হবে। তিনি আরও বলেন, ভোট কারচুপি, মিডিয়া ব্ল্যাকআউট বা তথ্য অধিকার রোধে কোনো আইন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের বিধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইসি কোন পরিকল্পনার অধীনে এই বিধি জারি করেছে। তিনি দাবি করেন, সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে এই বিধি পরিবর্তন করতে হবে, না হলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে। এই বক্তব্যে নির্বাচনের আগে বিরোধী প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের উত্তেজনা ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন কমিশনকে আলটিমেটাম দিয়েছেন যে, সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়ে এই হুঁশিয়ারি দেন। এই নিষেধাজ্ঞা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জারি করা হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং জনগণের বিজয় হবে। তিনি অতীতের আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাকে অন্যায়ের আড়াল করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। মোহাম্মদপুরে মাদক ও অস্ত্রের বাণিজ্য বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিপথগামীদের ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি আরও বলেন, জামায়াত জনগণের সরকার গঠন করবে, দলীয় সরকার নয়। এর আগে নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটের দিন প্রিসাইডিং অফিসার ও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সদস্য ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে চলমান অস্থিরতার মধ্যে রোববার হঠাৎ পাকিস্তান সফরে যান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। লাহোরে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বৈঠকেও যোগ দেন। বৈঠক শেষে সেদিন রাতেই তিনি পাকিস্তান ত্যাগ করেন। লাহোর বিমানবন্দরে পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি তাকে বিদায় জানান। ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আইসিসি এবং তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। এই পরিস্থিতিতে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা লাহোরে গিয়ে পিসিবির সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে বিসিবি সভাপতি আমিনুলও উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, পাকিস্তান তিনটি শর্ত দিয়েছে, যা পূরণ হলে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হবে। এই বৈঠকগুলো বিশ্বকাপ ঘিরে সৃষ্ট কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সংসদ প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও করা হবে। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এর আগের দিন রবিবার ইসি এই নির্দেশনা জারি করে। ইসির নির্দেশনায় বলা হয়, শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ, আনসার, সাধারণ আনসার বা ভিডিপির ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য ফোন রাখতে পারবেন। বাকিদের জন্য নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে এই বিধি পরিবর্তন না হলে ইসি ঘেরাও করা হবে এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে তা আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বেসরকারি গণমাধ্যম একটি নির্দিষ্ট দলের বিজ্ঞাপন প্রচার করছে, অন্যদেরটি নিচ্ছে না এবং সতর্ক করেন যে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া র্যাব ও ডিজিএফআই অবিলম্বে বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করা সম্ভব না হলে সামরিক সদস্যদের সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনা উচিত। জবানবন্দিতে ভূঁইয়া বলেন, ডিজিএফআই আয়নাঘরের মতো অপসংস্কৃতি সৃষ্টি করে টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে। তিনি জানান, সেনাবাহিনী থেকে র্যাবে অফিসার পাঠানো বন্ধ করায় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার ওপর চাপ ছিল, তবে তিনি অফিসারের স্বল্পতার কারণে তা প্রত্যাখ্যান করেন। র্যাবের কর্মকাণ্ডের কারণে দায়িত্বকালীন সময় তার জন্য কষ্টদায়ক ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভূঁইয়া বলেন, সেনাবাহিনীর মধ্যে কলুষতা স্বীকার করা গৌরবহানিকর নয়; বরং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে সেনাবাহিনী আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাবে এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির প্রবণতা দূর হবে।
ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদিক কায়েম নির্বাচন কমিশনের চারশ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের নির্দেশনা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। সোমবার দুপুরে গুলশান-২ নম্বরে ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের পক্ষে আয়োজিত গণসংযোগে তিনি এই দাবি জানান। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক এবং কিছু পক্ষ কারচুপি করে ক্ষমতায় ফিরতে চায়। অনুষ্ঠানে ডা. খালিদুজ্জামান, শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সাদিক কায়েম বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার দেখে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তিনি তরুণ ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, তারা যেন কোনোভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিকৃত হতে না দেয়। তিনি আরও বলেন, খালিদুজ্জামানের নেতৃত্বে ঢাকা-১৭ আসন নিরাপদ থাকবে এবং জনগণের সঙ্গে থাকা নেতাকেই নির্বাচিত করা উচিত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তরুণদের বিজয়ের ধারা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জয়ে প্রতিফলিত হবে।
জামায়াতে ইসলামী আমির ঘোষণা দিয়েছেন যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আল্লামা মামুনুল হক বিজয়ী হলে তাকে মন্ত্রী করা হবে। সোমবার দুপুরে মোহাম্মদপুরে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, মামুনুল হক জয়ী হলে এলাকাবাসী একজন মর্যাদাবান মন্ত্রী পাবেন। সভায় জামায়াত আমির আরও বলেন, তাদের দল ক্ষমতায় গেলে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তিনি উল্লেখ করেন, সেই বাংলাদেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কোনো স্থান থাকবে না। এই ঘোষণা জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে দেওয়া হয়, যেখানে দলটি ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলোর অভূতপূর্ব সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে, যা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের দমন-পীড়নের সময়ের চিত্র থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং সরকার গঠনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তবে একসময় নিষিদ্ধ থাকা ইসলামপন্থি জামায়াতে ইসলামী এবার শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন এনসিপি। রয়টার্সের বরাতে বলা হয়েছে, জামায়াত এবার তাদের ইতিহাসের সেরা নির্বাচনি ফল করতে পারে, যদিও এককভাবে সরকার গঠন সম্ভব নাও হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, স্পষ্ট নির্বাচনি ফলাফল এলে ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং এর প্রভাব পড়বে চীন-ভারত সম্পর্কেও। শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি পালানোর পর বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, অন্যদিকে ভারত বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে। জামায়াতের মিত্র এনসিপি নয়াদিল্লির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তারা কোনো দেশের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নয় বলে জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটাররা এবার ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক প্রশ্নে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং তরুণ ভোটারদের ভূমিকা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি) পরিচালিত এক প্রাক-নির্বাচনি জনমত জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ১০৫টি আসনে এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ১০১টি আসনে জয় পেতে পারে। সোমবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপে আরও বলা হয়, অন্যান্য দল ১৯টি আসনে জয় পেতে পারে এবং ৭৫টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জরিপ অনুযায়ী, মোট ভোটের হিসাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সামান্য এগিয়ে রয়েছে—৪৪ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার তাদের পক্ষে, আর জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার। দেশের ৩০০ আসনে পরিচালিত এই জরিপে ৬৩ হাজার ৬১৫ জন ভোটার অংশ নেন, যাদের মধ্যে ৫৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ পুরুষ ও ৪২ দশমিক ৪১ শতাংশ নারী। অংশগ্রহণকারীদের ৯২ দশমিক ৯ শতাংশ জানিয়েছেন তারা ভোট দেবেন। জরিপে দেখা যায়, পুরুষ ভোটারদের মধ্যে বিএনপি জোট এগিয়ে, আর নারী ভোটারদের মধ্যে জামায়াত জোটের সমর্থন বেশি। ১০ শতাংশের বেশি ব্যবধানের আসনগুলোকে নিশ্চিত বিজয় এবং ১০ শতাংশের কম ব্যবধানের আসনগুলোকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার তেহরানে এক ফোরামে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান কখনোই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ত্যাগ করবে না। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হুমকির মুখেও তেহরান ভীত নয়, এমনকি আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন থাকলেও নয়। আরাগচি বলেন, ওয়াশিংটনের প্রতি ইরানের আস্থা সীমিত এবং তারা সন্দেহ করছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে সত্যিই গুরুত্ব দিচ্ছে কি না। তিনি আরও জানান, ইরান চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করছে, যারা পরমাণু সমঝোতায় কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। আরাগচি বলেন, ইরানের আচরণ নির্ধারণের অধিকার অন্য কারও নেই এবং যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও সমৃদ্ধকরণ বন্ধ হবে না। গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ওমানে আলোচনার পুনরারম্ভ করেছে, যেখানে তেহরান মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়। পশ্চিমা দেশ ও ইসরাইলের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে, তবে তেহরান তা অস্বীকার করেছে। আরাগচি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বড় শক্তিগুলোর কাছে স্বাধীনতার প্রতীক, বোমা তৈরির নয়। তিনি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক ইস্যু আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন।
দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান। বক্তব্যে তিনি নারী, কৃষক, তরুণ ও ধর্মীয় নেতাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীকরণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারেক রহমান বলেন, তিনি ও তার ভাই এই এলাকাতেই বড় হয়েছেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও জীবনের দীর্ঘ সময় এখানে কাটিয়েছেন। এলাকার সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও মানসিক সম্পর্ক রাজনৈতিকভাবে তাদের আরও দৃঢ় করেছে। তিনি জানান, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন করেছে এবং সরকার গঠন করতে পারলে জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি ঘোষণা দেন, গৃহিণী ও মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে এবং তরুণদের জন্য আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, রাজধানীতে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ৩৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাতজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সেখানে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। কমিশনার জানান, ডিএমপির আওতায় ১,৬১৪টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে, প্রতিটিতে চারজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য ডিএমপির ২৫ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরওয়ার ও এস এম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।