ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনে কোনো কেন্দ্রে মব হামলার চেষ্টা হলে শুধু সেই কেন্দ্র নয়, পুরো আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করবে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। বিষয়টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আইজিপি বলেন, নির্বাচন ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং কেউ নির্বাচনে বাধা দিতে পারবে না। তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—কেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও আনসারও কাজ করছে। গত নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের এবার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ২৭ হাজার ৯৯৫ বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে, ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করা হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তিনি ব্যর্থতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন না, কারণ মাংস ও মাছের দামের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে নেই। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ১৫–১৬ মাসের কাজ দিয়ে সবকিছু বিচার করা যায় না। তিনি জানান, আগে গবাদি পশু মোটাতাজাকরণে অনিয়ম ছিল, যা পরিবর্তন করে মানসম্মত উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সোনার ব্যবহার করে অতিরিক্ত মাছ আহরণের কারণে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রাপ্যতা কমে গিয়েছিল, যা বন্ধ করতে তারা সক্ষম হয়েছেন। ফরিদা আখতার আরও বলেন, বিদ্যুতে রিবেটসহ ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১৫ লাখে উন্নীত হয়েছে। তিনি জানান, সুন্দরবন ও হাওর এলাকার জেলেরা ভিজিএফ সহায়তা পাবেন, যা মৎস্যসম্প্রদায়ের সুরক্ষায় সরকারের পদক্ষেপকে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন নির্বাচনি ওয়েবসাইট চালু করেছে। ভোটের তিন দিন আগে দলটি ওয়েবসাইট উদ্বোধনের ঘোষণা দেয়। ‘চলো বাংলাদেশ’ শিরোনামের এই ওয়েবসাইটের ঠিকানা https://cholobangladesh.net/। এতে ‘চলো একসঙ্গে গড়ি বাংলাদেশ’ স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভোটারদের দলীয় প্রতীকে ভোট দিতে ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, ওয়েবসাইটটিতে রয়েছে দলের নির্বাচনি ইশতেহার, প্রার্থী পরিচিতি, ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর তথ্য, শরিক প্রার্থীদের বিবরণ ও ক্যাম্পেইন কিটসহ নানা উপকরণ। এছাড়া এতে রয়েছে বিভিন্ন প্রচারণা ও তথ্যসমৃদ্ধ ফটো ও ভিডিও গ্যালারি। ওয়েবসাইটটি বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় তৈরি করা হয়েছে এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগে ডিজিটাল মাধ্যমে ভোটারদের কাছে তাদের প্রচারণা ও জোটের তথ্য পৌঁছে দিতে চায়।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারা দেশে সংঘটিত ৩১৭টি সহিংস ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সারা দেশে মোট ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গনি রোডে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে প্রাক্-নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। আইজিপি বলেন, নির্বাচনে সারা দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৫ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে, পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ দল ও জরুরি পরিস্থিতিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। নিরাপত্তা জোরদারে ৮০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। তিনি আরও জানান, গত ৫ আগস্ট লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র ছাড়াও সাধারণ মানুষের থানায় জমা রাখা হাজারের বেশি অস্ত্র লুট হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সফল নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে, যা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। মঙ্গলবার গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জামায়াত দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে ভোটারদের, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছে। তিনি দাবি করেন, দলটির প্রধানের নিজ আসনেও এমন ঘটনা ঘটছে, যা নৈতিকতার পরিপন্থী। মাহদী আমিন নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের আচরণবিধি ও ১৯৭২ সালের জনগণের প্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারা উদ্ধৃত করে বলেন, ভোটারদের অর্থ বা উপঢৌকন দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, খুলনা-১সহ বিভিন্ন আসনে জামায়াত প্রার্থীরা ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন এবং কুমিল্লা ও বগুড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির বিজয় অনিবার্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। ভোট ও দীর্ঘ ছুটি কাটাতে গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঢাকা–ময়মনসিংহ ও ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বাস সংকটের সুযোগে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কয়েক গুণ বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা। যাত্রীরা জানান, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের ভাড়া সাধারণত ২০০–২৫০ টাকা হলেও বর্তমানে ৫০০–৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অনেকেই বাস না পেয়ে ট্রাকে করে ৩০০–৪০০ টাকায় যাত্রা করছেন। ঈদের সময়ের মতোই ঘরমুখো মানুষের ঢল দেখা গেছে। নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি এবং পরদিন শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মানুষ একযোগে বাড়ি ফিরছেন। হাইওয়ে পুলিশের ওসি সাওগাত হোসেন জানান, যানজট নিরসন ও অতিরিক্ত ভাড়া রোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর সোমবার ইরান সরকার কঠোর অবস্থান নেয় এবং দেশজুড়ে ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান চালায়। একই সঙ্গে তেহরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দেয়। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অভিযানে প্রধান সংস্কারপন্থি জোটের মুখপাত্র জাভাদ ইমামসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আটক করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের সময় ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক চলছিল, যা উভয় পক্ষই ‘ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেছে। এর আগে শনিবার নোবেলজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদির কারাদণ্ড বাড়ানো হয় এবং সোমবার গ্রেপ্তার করা হয় বিরোধী নেতা মেহদি কারুবির ছেলে হোসেইন কারুবিকে। ইরান সরকার বিক্ষোভগুলোকে ‘দাঙ্গা’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, এর পেছনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি রয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর বর্তমান পরিস্থিতিকে সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেহরান এখন একদিকে বিরোধীদের দমন করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগের পথ খুঁজছে।
জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা ভারি তুষারপাতে দেশটিতে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। জানুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই তুষারপাত জাপানের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাকে বরফে ঢেকে ফেলেছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। জাপান সাগরমুখী উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র যানজট ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, উত্তরাঞ্চলের আওমোরি প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ছাদে জমে থাকা বরফ ধসে পড়া বা বরফ পরিষ্কার করতে গিয়ে পিছলে পড়ার কারণে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, আওমোরিতে বরফের পুরুত্ব বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৩ মিটার, যা চার ফুটেরও বেশি। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশব্যাপী নির্বাচনি সফর সম্পন্ন করেছেন। ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড় থেকে শুরু হওয়া এই ১৫ দিনের সফর ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেটের জনসভায় শেষ হয়। আটটি বিভাগের ৪৩টি জেলায় অর্ধশতাধিক বড় জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের আয়োজনে এসব সভায় তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি সাত হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করেন, যার বেশিরভাগ হেলিকপ্টারে এবং বাকিটা সড়কপথে। পাশাপাশি ঢাকা-১৫ আসনে নিজ এলাকায়ও গণসংযোগ ও জনসভায় অংশ নেন। দলীয় সূত্র জানায়, তার এসব সভা-সমাবেশে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি জামায়াত ও ১১ দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিলে সংস্কার ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, তরুণদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষা সংস্কারের অঙ্গীকারও তুলে ধরেন তিনি। বিএনপির হামলার অভিযোগে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় আসে। কিছু গণমাধ্যমে বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রকাশের পর জামায়াতের প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট মাধ্যম দুঃখপ্রকাশ করে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু করেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রচারে তিনি ১৯ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৩টি জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য দেন। এসব সভায় তিনি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশ গঠনের পরিকল্পনা ও আঞ্চলিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ঐতিহ্য অনুসরণ করে তারেক রহমান সিলেট থেকেই প্রচার শুরু করেন। তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও অধিকাংশ সফরে সঙ্গে ছিলেন। চট্টগ্রামে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা, ফরিদপুরকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ঘোষণা এবং ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ ও প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে বগুড়ায় পৈতৃক ভিটায় ফিরে এসে তারেক রহমানের এই সফর নির্বাচনের আগে তার জাতীয় উপস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস আশা প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সামগ্রিক নির্বাচনি পরিবেশ ইতিবাচক এবং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। গণতন্ত্র, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের নীতির ভিত্তিতে ইইউ মিশন একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার প্রত্যাশা করছে। ইজাবস জানান, নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে এবং কিছু এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে নির্বাচন প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক হয়। পর্যবেক্ষকেরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন এবং প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন শেষে প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ থাকবে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রি-মোড় এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। টানা চার দিনের ছুটি পেয়ে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় মহাসড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ঈদের সময়ের মতোই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কেউ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে, আবার কেউ পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে নিজ নিজ এলাকায় যাচ্ছেন। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, কয়েকটি পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যেখানে স্বাভাবিক ভাড়া ২০০ টাকা, সেখানে বর্তমানে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, যা যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সাওগাত হোসেন জানান, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ একযোগে কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ শুরু করেছে শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিচার, যারা জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করবে এবং প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। গত ১২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে। প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি অভিযোগ এনেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে তাদের প্ররোচনা ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডাররা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে রংপুর ও ঢাকায় হাজারো ছাত্র-জনতাকে হত্যা ও আহত করে। অভিযোগে যৌথ অপরাধমূলক দায় ও ঊর্ধ্বতন দায়িত্বের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে তিনি ২৮৬টি মামলা করে সাড়ে চার লাখ ছাত্র-জনতাকে আসামি করেন। সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ছাত্র-জনতা দমনে সহায়তা ও উসকানি দেন। এই বিচার জুলাই বিপ্লব-সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোটের চার দিনের ছুটি পেয়ে গাজীপুরের পোশাককর্মীরা নিজ নিজ বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। প্রায় সব কারখানায় ছুটি দেওয়ায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক একসঙ্গে যাত্রা শুরু করায় ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারির আগের রাতে চন্দ্রা, সফিপুর ও বাড়ইপাড়ায় প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনো অনেক শ্রমিক ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছেন। শ্রমিকরা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত যানবাহন পাচ্ছিলেন না এবং সকালে সুযোগ বুঝে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন। এতে ঘরমুখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বেশির ভাগ শ্রমিকই জানান, তারা নিজ নিজ এলাকায় ভোটার। মহাসড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, চন্দ্রা হয়ে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা, ফলে ওই এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। পুলিশ মহাসড়ক সচল রাখতে ও শ্রমিকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের একযোগে যাত্রা শিল্পাঞ্চলে ভোটকালীন সময়ে পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে কোনো প্রচার চালানো যায় না। সোমবার ছিল প্রচারের শেষ দিন, সারা দেশে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা বড় আকারে গণমিছিল ও শোডাউন করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়ে দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চান। আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন। নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল ও ২ হাজার ৩৩ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র। বিএনপি সর্বাধিক ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে। প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা ও ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবেন, পাশাপাশি ৩৫ হাজার দেশীয় ও সাড়ে তিনশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক কাজ করবেন। ইসি জানিয়েছে, সব জেলায় ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত থাকায় ২৯৯ আসনে ভোট হবে এবং পরে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।