বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সব উপদেষ্টা, সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের স্ত্রী-স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবরের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তার সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণ দ্রুত প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে এবং ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়া সব সরকারি কর্মকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে। এই প্রকাশনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের ২৯৯টি আসনে ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে, যার মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য তথ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত ‘মিডিয়া সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান। আখতার আহমেদ বলেন, শেরপুর-৩ ব্যতীত সব আসনে ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী উপকরণ পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো রিটার্নিং অফিসার থেকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছানো হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়, এরপর ফলাফল ধাপে ধাপে সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হবে। এবারই প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের জন্য আলাদা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যা গণনায় কিছুটা সময় নিতে পারে, তবে ফল প্রকাশে বিলম্ব হবে না। নির্বাচন কমিশন নিয়মিত তথ্য সরবরাহ ও ব্যাখ্যা দেবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর আশপাশে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১০ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যৌথবাহিনীর প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনের সময় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত টহল, চেকপয়েন্ট ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। রামু ক্যান্টনমেন্টের ১০ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ও সার্বক্ষণিক টহল চালানো হচ্ছে। কাঁটাতারের বেড়া মজবুত করা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য একাধিকবার রিহার্সালও সম্পন্ন হয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুপতা জানান, ৩ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৪৬টি যৌথ অভিযান চালিয়ে ৫৯ জন অপরাধী ও ১,১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ধারালো অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, যৌথ প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ নির্বাচন সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ জয়ী হলে বাংলাদেশ জিতে যাবে। মঙ্গলবার রাতে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ পক্ষের বিজয় হলে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে, অতীতের নির্যাতন-নিপীড়নের অবসান ঘটবে এবং তার ন্যায়সংগত বিচার হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির পরিবারও তখন বিচার পাবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াত তরুণদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চায়। তিনি জানান, দলটি যুবকদের বেকার ভাতা নয়, বরং কাজের সুযোগ দিতে চায়। তার বক্তব্যে গণভোটকে জাতীয় পুনর্জাগরণের সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সব উপদেষ্টা ও তাঁদের স্ত্রী-স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবরের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩০ জুন ও ২০২৫ সালের ৩০ জুন তারিখের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদের পরিবর্তনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সম্পদ ১৫ কোটি ৯ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ৭ কোটি ১০ লাখ থেকে বেড়ে ৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা হয়েছে। আদিলুর রহমান খানের সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে ৯৮ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। ড. আসিফ নজরুল, লে. জে. (অব.) আব্দুল হাফিজ ও শেখ বশিরউদ্দীনের সম্পদও বেড়েছে, তাঁদের স্ত্রীদের সম্পদেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই প্রকাশনা অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে জনগণের জন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের আর্থিক তথ্য উন্মুক্ত করেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান তুষার জানান, মঙ্গলবার বিকেলে জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তুষার গণমাধ্যমকে জানান, রিজভী দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। রিজভীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সহকারীর বক্তব্যই এখন পর্যন্ত একমাত্র আনুষ্ঠানিক তথ্য হিসেবে জানা গেছে। দলীয় বা চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সূত্র থেকে অতিরিক্ত তথ্য বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটকে দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ভবিষ্যৎনির্ধারক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে ভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন একটি গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন এবং এটি জনগণের ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষার সাংবিধানিক প্রকাশ। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল ও দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি প্রবাসী ও ডাক ভোটের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা আশ্বাস দেন যে নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করবে এবং জনগণকে গুজব থেকে সতর্ক থেকে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোটের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে সরাসরি প্রচারিত এই ভাষণে তিনি জনগণকে স্বাধীনভাবে ভোট ও গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ঘোষণা করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার তার দায়িত্ব শেষ করবে। ড. ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্দেশ দেন যেন তাদের নেতা-কর্মীরা কোনো ধরনের সহিংসতা, ভয়ভীতি, কেন্দ্র দখল বা ভোটে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা না করে। তিনি সতর্ক করেন, গুজব বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড রাষ্ট্র সহ্য করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনী প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় শান্তিপূর্ণ হয়েছে, যা রাজনৈতিক সংযম ও জনগণের সচেতনতার ফল। ভাষণে তিনি তরুণ ও নারী ভোটারদের বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। তিনি নারীদের প্রশংসা করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব এবং ক্ষুদ্রঋণ ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য।
বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মঙ্গলবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে। ৩০ জুন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট পরিসম্পদ ছিল ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ১৪ কোটি এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে এক কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা। তিনি জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার ইত্যাদি কারণে এই বৃদ্ধি ঘটেছে। তাঁর স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদ এক বছরে কমে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকায়, যা আগের অর্থবছরে ছিল দুই কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। আয়কর আইনে বলা হয়েছে, একজন করদাতার স্থাবর-অস্থাবর, আর্থিক ও মূলধনী সম্পত্তির সমষ্টিই পরিসম্পদ। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে সব উপদেষ্টা দ্রুত তাঁদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও এটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে এবং সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ন্যায়পাল নিয়োগের জন্য অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো মাধ্যমে গুজব ছড়ানো রাষ্ট্র কোনোভাবেই সহ্য করবে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানান, যেন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতা-কর্মীরা বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ভোটে প্রভাব বিস্তারের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়। তিনি বলেন, ত্রুটিপূর্ণ বা সহিংস নির্বাচন দেশের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনে এবং জনগণের মত উপেক্ষা করলে শেষ পর্যন্ত জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়। ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় শান্তিপূর্ণ হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। তিনি এই পরিবেশকে সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল বলে উল্লেখ করেন। তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে ইউনূস বলেন, গত ১৭ বছর ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও তারা ভোট দিতে পারেননি, তবু তারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন লালন করেছেন। তিনি নারীদের মুক্তিযুদ্ধ থেকে অর্থনীতি পর্যন্ত অবদানের প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং’ অ্যাকাউন্ট খোলার বয়সসীমা ২৫ বছর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সোমবার জারি করা নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, আগে ১৮ বছরের নিচের শিক্ষার্থীরাই এ সুবিধা পেতেন। এখন থেকে অ্যাকাউন্টধারীরা ডেবিট কার্ডের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডও ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া ‘স্কুল ব্যাংকিং’ নাম পরিবর্তন করে এখন থেকে এটি ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন নীতিমালায় অভিভাবকের আবেদনের ভিত্তিতে মাসিক এটিএম উত্তোলনের সীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৫ হাজার টাকা। শিক্ষার্থীরা মাসে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জমা রাখতে পারবেন এবং অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ স্থিতি হতে পারবে ৩ লাখ টাকা। বিদেশে পড়াশোনার জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন হবে না, একই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রেমিট্যান্স গ্রহণ ও শিক্ষা–সংক্রান্ত লেনদেন করা যাবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য অভিভাবকের গ্যারান্টিতে ঋণ নেওয়ার সুযোগও থাকবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রায় দুই দশক লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ৬০ বছর বয়সী এই রাজনীতিক বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, এই নির্বাচন তারেক রহমানের জন্য এক বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তন হতে পারে। ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তারের পর চিকিৎসার জন্য দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশে ফিরে বীরোচিত সংবর্ধনা পান তারেক রহমান। বর্তমানে হাসিনা নয়াদিল্লিতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং কোনো একক দেশের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা না বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দশ বছর নির্ধারণ, দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতে বৈচিত্র্য আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। দেশে ফিরে তিনি সংযম, সমঝোতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি সমর্থকদের নতুন আশায় উজ্জীবিত করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানান—নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় শান্তিপূর্ণ হয়েছে, যা রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল। ড. ইউনূস তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। তবু তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন লালন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নারীরা মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব গণআন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন এবং দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং এটি জাতির সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে যারা ঋণ খেলাপিদের মনোনয়ন দিয়েছে, তাদের লজ্জা হওয়া উচিত। সোমবার চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের শেষ নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জনগণের রায় প্রভাবিত করা যাবে না। সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আখতার আহমদ। প্রধান বক্তা হিসেবে আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, তিনি চকরিয়া ও পেকুয়ার সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। নির্বাচিত হলে তিনি পেকুয়ায় সরকারি কলেজ ও সোনালী ব্যাংক স্থাপন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, ‘মাতামুহুরী’ নামে নতুন উপজেলা গঠন, চকরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সভায় হাজারো জামায়াত ও ছাত্রশিবির কর্মীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনায় থাকলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত কারিগরি ও জটিল। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ শেষে ধাপে ধাপে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ড. সালেহউদ্দিন জানান, সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ৪২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে, যাতে গ্রাহকরা তাদের জমা রাখা অর্থ পুরোপুরি ফেরত পান। এখন সেই দায়িত্ব সম্পন্ন হওয়ার পর শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, একাধিক ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) নেতিবাচক হওয়ায় প্রচলিত নিয়মে ক্ষতি পূরণ করা কঠিন। ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য পদ্ধতি হিসেবে আংশিক শেয়ার বরাদ্দ বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। তবে কোন মডেল কার্যকর হবে তা নির্ধারণে সময় লাগবে। অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারে আস্থা পুনর্গঠন জরুরি।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।