আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোট ৫২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সব কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং পুরো উপজেলা এখন কড়া নিরাপত্তা বলয়ে রয়েছে। অতীতের সহিংসতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা, স্থানীয় বিরোধ ও ভৌগোলিক কারণকে ঝুঁকির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুটি প্লাটুন বিজিবি, তিনটি প্লাটুন সেনাবাহিনী ও একটি প্লাটুন ব্যাটেলিয়ান আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবেন ১৩ জন আনসার সদস্য, যার মধ্যে তিনজন অস্ত্রধারী। পাশাপাশি পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় ভোটাররা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আস্থা প্রকাশ করলেও কিছু ভোটার উদ্বেগও জানিয়েছেন, যা পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা নির্দেশ করে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটের আগে ও পরে কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় জমায়েত, মিছিল ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর রিজার্ভ টিম প্রস্তুত রয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা যায়।
বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ক গণভোট। এটি দুই দশকের স্বৈরাচারী শাসনের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এই নির্বাচনের আয়োজন করছে। ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় তারা অংশ নিচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক লাখ সেনা ও নয় লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে। ভোটাররা দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন—একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, অন্যটি ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের গণভোটের জন্য। প্রচারণা ছিল শান্তিপূর্ণ ও ডিজিটালমুখী, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক যাত্রার ঐতিহাসিক মাইলফলক হলেও এর সাফল্য নির্ভর করবে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। ১৫ বছরের প্রহসনের নির্বাচনের পর জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দৌলতদিয়া ঘাট ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক পরিবহনকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির হাসান খান। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রমাণিত হওয়ায় পোড়াদাহগামী একটি পরিবহনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান চলাকালে পরিবহন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আদায়কৃত অতিরিক্ত ভাড়া তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়। মুনতাসির হাসান খান জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রশাসন যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে। স্থানীয় যাত্রীরা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে যাত্রী হয়রানি অনেকাংশে কমে যাবে।
দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় হামলার পর লুট হওয়া আটটি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিক্ষুব্ধ জনতা থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি লুট করে। দেড় বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চারটি চায়না রাইফেল, দুটি পিস্তল, দুটি গ্যাসগান ও দেড় শতাধিক গুলি উদ্ধার সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তবে ওসি ইসমাইল হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. হাফিজুর রহমান স্বীকার করেছেন, ঠিক কতগুলো অস্ত্র লুট হয়েছিল তা নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। হাটিকুমরুল এলাকার ভোটাররা বলেছেন, অস্ত্র উদ্ধারের নিশ্চয়তা না থাকলে ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পেতে পারেন অনেকে। সচেতন মহল মনে করছে, অস্ত্র উদ্ধারে বিলম্ব পুরো জেলার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং নির্বাচনের আগে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
রংপুরে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ১১ দলীয় জোটের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনী প্রচার শেষ হলেও অনিয়ম ও কালো টাকার ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। তাদের দাবি, প্রার্থীরা ভোটারদের নগদ অর্থ, শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করছেন। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভোজের আয়োজন ও টাকা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে প্রশাসন অবগত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জোট নেতারা। রংপুর জেলার ছয়টি আসনে মোট ৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জোট নেতারা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থীরা আচরণবিধি ভঙ্গ করে এখনো রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়ে রেখেছেন। প্রশাসনকে জানানো হলেও তা অপসারণ করা হয়নি। বিভিন্ন আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। এনসিপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচন কমিশন এখনো নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে পারেনি এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বলেন, প্রশাসন কোনো পক্ষপাত করছে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র একদিন বাকি। বৃহস্পতিবার সকালে সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত গোপালগঞ্জ জেলায় শুরুতে শঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচার শুরু হলেও সহিংসতা হয়নি, ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছরের সহিংসতার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১,৪০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব দায়িত্ব পালন করবেন। সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। জেলায় মোট ভোটার ১০ লাখ ৯২ হাজার এবং কেন্দ্র ৩৯৭টি, যার মধ্যে ৩৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। তিনটি আসনে বিএনপি, ১১ দলীয় জোট ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে কিছু নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানীয় নেতার নির্বাচনে বয়কট আহ্বান ও ভোটারদের কেন্দ্রে না যাওয়ার অনুরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আগামীকাল শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ, যেখানে বগুড়া জেলাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলার সাতটি আসনে মূল লড়াই হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। সাধারণ ভোটার ও বিশ্লেষকদের মতে, এবার শুধু দলীয় প্রতীক নয়, উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাই ফল নির্ধারণ করবে। বিএনপি নেতাকর্মীরা সাতটি আসনই দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দিতে চান, অন্যদিকে জামায়াত অন্তত দুটি আসনে জয়ের আশা করছে। বগুড়ার ১২ উপজেলা ও ১১ পৌরসভা মিলিয়ে মোট ভোটার প্রায় ২৯ লাখ ৮২ হাজার। নয়টি দলের ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়া ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ঘাঁটি হলেও এবার ছয়টি আসনে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। স্থানীয় ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে নদীভাঙন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান। কিছু এলাকায় ভোট কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে এবং এক প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপি ও জামায়াতের জোট ভাঙার ফলে এবার ভোটে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ রয়েছে এবং তারা উন্নয়নমুখী ও সুশাসন প্রত্যাশী নেতৃত্ব চান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌথ বাহিনীর মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মেহেদী হাসান চৌধুরীর নেতৃত্বে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। মহড়ায় একটি ভোটকেন্দ্রে সম্ভাব্য সহিংস পরিস্থিতির অনুকরণে দেখা যায়, একদল সন্ত্রাসী ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে জিম্মি করে ফেলে। সেনাবাহিনী ও বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এপিসি যানসহ অভিযান পরিচালনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মহড়ার অংশ হিসেবে আহত সেনাসদস্য ও অন্যান্য আহতদের উদ্ধারে একটি হেলিকপ্টারও অংশ নেয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনে মোট ৮০৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে ৫৭৪টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) ভোরে সেনাবাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ও একজন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র উদঘাটন হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর আর্মি ক্যাম্পের অধীন ৯ বেঙ্গলের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে একটি বসতবাড়ির পাশ থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করে। সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্রগুলো হেফাজতে নেয় এবং সন্দেহভাজন মারুফ হাসান তাহসিনকে আটক করে। সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, মারুফ হাসান তাহসিন ও অজুফা বেগম দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ওই এলাকার সাংবাদিক ফরহাদকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রগুলো ঘটনাস্থলে রেখে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অজুফা বেগমের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। স্থানীয় সূত্র জানায়, সাংবাদিক ফরহাদ প্রায় দুই বছর ধরে জমি দখল নিয়ে হয়রানি ও হুমকির মুখে ছিলেন। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ অভিযানে একটি গভীর ষড়যন্ত্র উদঘাটনের পাশাপাশি সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা অবনতি আগেভাগেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
দেশজুড়ে সংসদ নির্বাচনের আমেজের মধ্যেও পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর উপকূলীয় নদীপথে বসবাসকারী বেদে সম্প্রদায়ের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া আসেনি। কচা ও বলেশ্বর নদে নৌকায় অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী বেদে পরিবারগুলো জানিয়েছে, ভোটের সময় প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর কেউ আর খোঁজ নেন না। তারা বলেন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে এমন ব্যক্তিকেই ভোট দিতে চান। জীবিকার তাগিদে বছরের বেশির ভাগ সময় তারা নিজ এলাকা থেকে দূরে থাকায় অনেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না। বেদে সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, সরকার ও জনপ্রতিনিধি বদলালেও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। সুনামগঞ্জ থেকে আসা মিরাজুল বলেন, তাদের কোনো ঘরবাড়ি নেই, নৌকাতেই জীবন কাটে। বিক্রমপুরের সর্দার ছাত্তার মোল্লা বলেন, নাগরিক সুবিধা না থাকায় সন্তানদের পড়াশোনা করানো কঠিন। বেদে নারী আচিয়া বেগম বলেন, শেষ বয়সে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা চান, কিন্তু কেউ তাদের কথা শোনে না। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে প্রায় ৬৩ লাখ যাযাবর জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেদে রয়েছে ৮ লাখেরও বেশি। বর্তমানে বিক্রমপুর ও সুনামগঞ্জ থেকে আসা দুটি বেদে বহর ইন্দুরকানীর শহীদ ফজলুল হক মনি সেতুর দুই প্রান্তে অবস্থান করছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের ফলসাটিয়া ব্রীজের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যান ও সেলফি পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন, যার মধ্যে কাভার্ডভ্যান চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বরংগাইল হাইওয়ে থানার ওসি জানান, আহতদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, অতিরিক্ত গতিতে অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে কাভার্ডভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় যাত্রী ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সেলফি পরিবহনের বেপরোয়া গতি ও অদক্ষ চালকদের কারণে এই মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। টানা ছুটির কারণে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে রাজধানী থেকে গ্রামের পথে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সেলফি পরিবহনের চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও দ্রুত যাত্রী পরিবহনের প্রতিযোগিতায় নেমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন, যা আরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে টানা চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকা ও শিল্পাঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের পথে রওনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে পাটুরিয়া ও আরিচা ফেরিঘাটে এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ যাত্রী ও পরিবহন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, পুরো পরিস্থিতি ঈদের ভ্রমণের মতো উৎসবমুখর। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক কারখানায় তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে শ্রমিকরা ভোট দিতে ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে নিজ এলাকায় ফিরছেন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও যানবাহনের স্বল্পতার কারণে কিছু পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা ভাড়া বৃদ্ধি ও দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, যানজট নিরসন ও যাত্রী হয়রানি রোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি ও পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিনের মধ্যে যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তান ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করায় বড় আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। লাহোরে আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বৈঠকের পর সোমবার রাতে পাকিস্তান সরকার দলকে ম্যাচ খেলার অনুমতি দেয়। ফলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল। খবরে বলা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই আইসিসির সবচেয়ে বেশি আয় হয়। পাকিস্তান যদি বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকত, তবে সম্প্রচার, গেটমানি ও স্পন্সরসহ মোট ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ১,৯৮৫ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ত সংস্থাটি। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিল। পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় আইসিসি বড় আর্থিক সংকট থেকে বেঁচে গেছে এবং ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ঝুঁকি নিরসনে মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চকরিয়া উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ উপলক্ষে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ারের সঞ্চালনায় সভায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৯ বিএসটির মেজর মারুফুল ইসলাম, চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর কর্মকর্তাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে কর্মকর্তারা যৌথভাবে পরিচালিত মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে চকরিয়ার ১৩০টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের বডিওর্ন ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ মহড়ার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র এলাকায় যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইসরাইলের চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরীসহ অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং উভয় পক্ষই সামরিক সংঘাত এড়াতে আগ্রহী, তবে কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। ট্রাম্প গত গ্রীষ্মে ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সে সময় তেহরান তার কঠোর অবস্থানকে গুরুত্ব দেয়নি। তিনি জানান, বর্তমান আলোচনা আগের চেয়ে ভিন্ন এবং এবার ইরান চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও আগ্রহী। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি চায়, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি নিশ্চিত করেছেন, সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।