নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সাংবাদিকদের জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াত নেতার টাকা বহনের ঘটনায় এক গণমাধ্যম তাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করেছে। তিনি বলেন, তিনি কখনো বলেননি যে বড় অঙ্কের টাকা বহনে কোনো সমস্যা নেই এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করার তার কোনো এখতিয়ার বা ক্ষমতা নেই। আখতার আহমেদ ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন এবং নির্বাচনের আগে এমন অপতথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তার বক্তব্য ছিল কেবল অর্থের উৎস, পরিমাণ ও উদ্দেশ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে। ভুল উদ্ধৃতির ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অপতথ্য সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জামায়াত ইসলামীর প্রতিনিধি দল ও ১১ দলীয় জোটের নেতারা বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন, এবং তিনি তাদের ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি, রিটার্নিং অফিসার ও স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন। আখতার আহমেদ বলেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে যেন নির্বাচনটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে, কিছু রাজনৈতিক দল অতীতের মতো সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকার রূপগঞ্জ, বরিশাল, ঝালকাঠি ও বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। দলটি বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছে, তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৫৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবেন।
ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার স্যানিটেশন ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে ৩৭০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ কর্মসূচির আওতায় এই অর্থায়ন ঢাকার নদী ও খালের পানি দূষণ কমানো, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং স্থানীয় ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা এবং পাঁচ লাখ মানুষ উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার আওতায় আসবে। দূষণপ্রবণ ও সেবা বঞ্চিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে শিল্পবর্জ্য পরিশোধন, পানির পুনঃব্যবহার এবং সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে নদী ও খালে সরাসরি বর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া ডিজিটাল রিয়েল-টাইম দূষণ পর্যবেক্ষণ ও চারটি প্রধান নদীর জন্য সমন্বিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্বাচিত এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেখানে বর্জ্য সংগ্রহের কভারেজ বাড়ানো এবং নদী-খালের কাছাকাছি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নতুন সরকার ও তার মিত্রদের সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট চুক্তির ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়। রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে, যাতে বাংলাদেশ চীনা সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে। এর আগে, ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের পর বাংলাদেশের ওপর ভারতের প্রভাব কিছুটা কমে যায় এবং চীন তার উপস্থিতি বাড়ায়। সম্প্রতি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, যার মধ্যে ভারত সীমান্তের কাছে ড্রোন ফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চলছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং এতে কোনো তৃতীয় দেশ হস্তক্ষেপ করবে না। যুক্তরাষ্ট্রও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছে।
নেত্রকোনা-১ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ১২৪ কেন্দ্রের মধ্যে ১২২ কেন্দ্রে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি সূত্রে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফলাফলগুলো এখনো বেসরকারি পর্যায়ের গণনা অনুযায়ী। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ১২০ জন। একই প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন, ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির আসাদুজ্জামান বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন, রংপুর-৪ আসনে এনসিপির আখতার হোসেন এগিয়ে এবং ভোলা-৩ আসনে বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন এগিয়ে আছেন। তবে প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পরাজিত হয়েছেন। বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগর (লবি)। পোস্টাল ভোটসহ আলি আসগর পেয়েছেন ১,৪৮,৮৮৭ ভোট, আর মিয়া গোলাম পরওয়ার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১,৪৬,৮৮৮ ভোট। ১,৯৯৯ ভোটের ব্যবধানে আলি আসগর লবী জয়ী হয়েছেন। খুলনা-৫ আসনটি ফুলতলা, ডুমুরিয়া উপজেলা এবং গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত। আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্র ১৫০টি এবং ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮। খুলনা ব্যুরো সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার কয়েকটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন এবং জামায়াত ভোটের ফল নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক্যান ইন্সটিটিউট (আইআরআই)-এর একটি প্রতিনিধি দল বুধবার বিকেলে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, বৈঠকটি আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিবেদনে আইআরআই প্রতিনিধিদের নাম বা সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি এবং আলোচনার বিস্তারিত বিষয়বস্তুও প্রকাশ করা হয়নি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মু. সালাউদ্দিন আইউবী গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে ৯ হাজার ২৪৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ১২২টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, সালাউদ্দিন আইউবী ৯৯,৪০৭ ভোট পেয়েছেন এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান পেয়েছেন ৯০,১৬০ ভোট। গাজীপুর-৪ আসনে মোট ১১টি ইউনিয়ন, ৯৯টি ওয়ার্ড, ১২২টি ভোট কেন্দ্র ও ৬৫৪টি ভোট কক্ষ রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৩,২৫,৫৫৬ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৬০,০০৭ এবং মহিলা ভোটার ১,৬৫,৫৪৯ জন। ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে সালাউদ্দিন আইউবী বিপুল ভোটের ব্যবধানে কাপাসিয়া আসনের বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে পাবনা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছেন এবং পটুয়াখালীর চারটি আসনের মধ্যে বিএনপি তিনটি ও জামায়াত একটি আসনে জয় পেয়েছে। গাইবান্ধা-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছও বিজয়ী হয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে এবং ফলাফলকে সম্মানের সঙ্গে মেনে নিতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, সবার অংশগ্রহণই এই নির্বাচনকে অর্থবহ ও সফল করে তুলবে। ভাষণে সিইসি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, তাঁদের ত্যাগের ফলেই দেশ আজ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার দ্বারপ্রান্তে। তিনি ভোটদানকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে সচেতনভাবে এই দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন এবং অনভিপ্রেত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। নাসির উদ্দিন আশা প্রকাশ করেন যে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সাক্ষী হবে, যেখানে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।
র্যাবের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, জনগণ যেন নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই র্যাব সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত র্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। তিনি জানান, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৭০০টি টহল দল সক্রিয় রয়েছে এবং প্রতিটি ব্যাটালিয়নে রিজার্ভ দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সদর দপ্তরের অধীনে ৩০টি টহল দল সেন্ট্রাল রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কক্সবাজারে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে এবং বোমা নিষ্ক্রিয় ইউনিটকে সাতটি জোনে ভাগ করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি আসনে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, মহাসড়ক ও সংবেদনশীল এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। র্যাব ভোটারদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। এই ভাষণটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোট উপলক্ষে প্রদান করা হয়। ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘আমার দেশ’ এ এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। ভাষণটি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি ঘিরে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে কমিশনের ভূমিকা ও জনগণকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করার দায়িত্বের প্রতিফলন দেখা যায়। তবে ভাষণের বিষয়বস্তু বা নির্দিষ্ট নির্দেশনা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের জামায়াত জোটের প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী চাঁদাবাজি রোধে নতুন ওয়েবসাইট chandabaaj.com চালু করেছেন। বুধবার তিনি নিজেই ওয়েবসাইটটির উদ্বোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পাটওয়ারী জানান, দেশের যেকোনো স্থানে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে নাগরিকরা যেন প্রমাণসহ তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করতে পারেন, যাতে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। এনসিপি জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ওয়েবসাইটটিতে আটটি রিপোর্ট জমা পড়েছে। এসব রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাটওয়ারী বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে চাঁদাবাজদের কোনো স্থান থাকবে না। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিক অংশগ্রহণে অপরাধ দমন ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির নতুন এক ডিজিটাল পদক্ষেপ হিসেবে ওয়েবসাইটটি কাজ করবে বলে এনসিপি আশা করছে।
নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মঙ্গলবার থেকে পাঁচ দিন ঢাকায় ৩২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের (সিএমএম) তত্ত্বাবধানে। ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৮৯(এ), ৭৩(২বি) ও ৭৪(২বি) ধারার অধীনে। অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৩২ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নাম ও তাদের নির্বাচনি এলাকার দায়িত্ব বণ্টন উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে যোগদান করবেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে তাদের অবহিত রাখবেন। প্রতিদিন নির্ধারিত ছকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার তথ্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনী সময়ে ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী বলেছেন, ভোটের সময় ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার আমেনা প্লাজায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ধর্মীয় পোশাকের প্রতি সম্মান থাকলেও তা যেন ভোটার পরিচয় যাচাইয়ে বাধা না হয়। তিনি সতর্ক করেন, বিশেষ পোশাক জাল ভোট প্রদানে সহায়তা করতে পারে। সাকি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে প্রশাসন যদি কোনো দলের পক্ষে প্রভাবিত হয়, তবে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল ও কালো টাকার ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম উপেক্ষিত হতে পারে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের জনগণ কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নেবে না এবং কেউ তা করতে চাইলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি মেহেদি হাসান পলাশ। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেকসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মিডিয়া ওয়াচ বাংলাদেশ জানিয়েছে, মূলধারার গণমাধ্যমগুলো গত ১৮ দিনে নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বিএনপিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা সমন্বয়ক প্লাবন তারিক এই তথ্য উপস্থাপন করেন। ২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯টি প্রিন্ট, ৫টি অনলাইন ও ৭টি ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রিন্ট মিডিয়ায় বিএনপির নির্বাচনী সংবাদ প্রকাশ হয়েছে ৭৪৭টি, জামায়াতের ৩৬৪টি। অনলাইন মাধ্যমে বিএনপির প্রচারসংক্রান্ত সংবাদ ছিল ১,৪৯৮টি এবং জামায়াতের ৮২৭টি। টেলিভিশনের সন্ধ্যা ও রাতের বুলেটিনে বিএনপি গড়ে ১০৫ মিনিট এবং জামায়াত ৫৪ মিনিট প্রচার পেয়েছে। বিশ্লেষণে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, সমকাল, কালের কণ্ঠ ও যমুনা টেলিভিশনসহ মোট ২১টি গণমাধ্যম অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্লাবন তারিক বলেন, এই বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় কোন দল কতটা কভারেজ পেয়েছে তা পরিমাণগতভাবে নির্ধারণ করা। তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ গণমাধ্যম ভারসাম্য রাখতে পারেনি এবং বিএনপির প্রচারকে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।