দেশের একমাত্র সমুদ্র শহর কক্সবাজারে বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ৫৯৮টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক সদস্য পেকুয়ার জি এম সি ইনস্টিটিউটে ভোট দিয়েছেন। সূত্র জানায়, ৩ হাজার ৬৮৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ চলছে এবং ১২ হাজার ২৫১ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত, উপকূলীয় এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প থাকায় কক্সবাজারকে স্পর্শকাতর বিবেচনা করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ১৩ হাজার ৪৯৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন, যার মধ্যে সেনা, বিজিবি, নৌ, বিমান, কোস্টগার্ড, র্যাব, আনসার ব্যাটালিয়ন ও পুলিশ সদস্য অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ৭ হাজার ৭৭৪ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য কেন্দ্রে দায়িত্বে আছেন। ৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন। ৪ হাজার ৫০৩ জন প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৭ হাজার ৭৪৮ জন পোলিং অফিসার ভোট পরিচালনায় নিয়োজিত আছেন।
বাংলাদেশে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনের ৪২ হাজার ৯৫৮টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে এবং একে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছে। কাতারভিত্তিক আল জাজিরা জানিয়েছে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোট শুরু হয়েছে এবং শেখ হাসিনার পতনের পর এটি প্রথম নির্বাচন। বিবিসি একে ‘জেন-জি বিক্ষোভে শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচন’ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছে। রয়টার্স একে ঐতিহাসিক নির্বাচন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ভারতের এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর এটি প্রথম ভোটগ্রহণ এবং পর্যবেক্ষকদের মতে বিএনপি জয়ী হতে পারে, জামায়াতও ভালো ফল করতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়া একে জাতীয় গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলেছে। পাকিস্তানের জিও টিভি একে ২০২৪ সালের বিদ্রোহের পর ঐতিহাসিক ভোট হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহকে প্রতিফলিত করছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে কুমিল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুড়িচং উপজেলার হরিপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও খাড়াতাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন ও জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন ভোট শুরুর পরপরই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি উৎসাহজনক ছিল। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ পুরুষদের তুলনায় বেশি ছিল এবং প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আসা তরুণদের মাঝেও ছিল উচ্ছ্বাস। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা কঠোর নজরদারি চালাচ্ছেন। প্রবীণ ভোটারদের সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে কুমিল্লার ১১টি আসনে ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোটার, প্রার্থী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
উত্তরাঞ্চলের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম বুধবার গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে পঞ্চগড়ের কিছু ভুয়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাত আড়াইটা নাগাদ দেওয়া ওই লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে রাজনৈতিক দালালি ও প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করছে। লাইভে তার সঙ্গে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে রাত ১১টার দিকে সারজিস ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মীরা পঞ্চগড় পৌর এনসিপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান রিলুর কাছ থেকে হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে। পরে তিনি ও ইকবাল হোসাইন রিলুর বাসায় গেলে স্থানীয় বিএনপি সমর্থকরা সেখানে জড়ো হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় এবং সারজিসের বিরুদ্ধে টাকার বস্তা নিয়ে প্রবেশের অভিযোগ তোলে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঈমী ইমতিয়াজ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাটি স্থানীয় নির্বাচনের আগে পঞ্চগড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনলাইন প্রচারণার প্রভাবকে সামনে এনেছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে সিলেট বিভাগজুড়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী মাঠে রয়েছে। ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে ডগ স্কোয়াড, ড্রোন ও সিসিটিভি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো পুলিশ সদস্যদের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি মনিটর করা হবে। বিভাগের চার জেলায় মোট ২,৮৮১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১,১২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব কেন্দ্রের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলায় ২১৭টি, সুনামগঞ্জে ৪৫১টি, হবিগঞ্জে ২৩৫টি এবং মৌলভীবাজারে ২২৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নির্ধারিত। দুর্গম হাওরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে হেলিকপ্টারের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩-৪ জন পুলিশ ও ১৫ জন আনসার মোতায়েন থাকবে। র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে যাতে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
লক্ষ্মীপুরে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব রেখে রাতে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বাড়িতে খাবার খেতে গিয়ে দুই নির্বাচনি কর্মকর্তা আটক হয়েছেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এম এ ওসমানি ও পোলিং কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন। তারা লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের নলঠগি মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাদের আটক করা হয় এবং বর্তমানে তারা চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ফেনীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। উৎসবমুখর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে প্রশাসন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেনী জেলার ৬টি উপজেলা ও ৪২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৩টি সংসদীয় আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ১৭টি দলের ২৫ জন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৩০ হাজার এবং ৪২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে ৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও প্রায় সাড়ে ৫ হাজার আনসার, ৫ শতাধিক পুলিশ এবং বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্য নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।
আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে একটি কোর কমিটি সক্রিয় রয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন থাকবেন মোট এক লাখ চার হাজার ৬৬ জন সদস্য, যার মধ্যে সেনাবাহিনীর ১০ হাজার, বিজিবির ৪ হাজার ১২৩, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ১৩ হাজার ৭৯৬, মেট্রোপলিটন পুলিশের ২ হাজার ৪০৫, র্যাবের ১ হাজার ৬ এবং আনসারের ৭২ হাজার ৭৩৬ জন সদস্য রয়েছেন। রাজশাহী বিভাগে মোট ৫ হাজার ২৮৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ২ হাজার ৩১৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মাদ রোমিও নওরীণ খান বলেছেন, নির্বাচনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশালে নির্বাচনকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শনী মহড়ায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ও গণভোট নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সাত পদাতিক ডিভিশন বরিশাল বিভাগের সব জেলা, মাদারীপুর ও বাগেরহাট জেলায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন রয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে করে রিজার্ভ ফোর্স আনা হবে এবং সারা দেশে এ ধরনের অভিযান পরিচালনায় সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে। তিনি জনগণকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আহ্বান জানান, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে যায়। মহড়াটি সাত পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালীন জরুরি প্রতিক্রিয়া ও সমন্বিত কার্যক্রমের অনুশীলন করা হয়। এতে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার অংশ নেয় এবং বরিশাল বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবারের এ নির্বাচনের জন্য প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জেলার ১৬টি আসনের ১,৯৬৫টি কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহরজুড়ে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, যদিও বিধিনিষেধের কারণে প্রকাশ্যে প্রচার বন্ধ থাকায় তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, অনেকে শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়ে ভোট দিতে যাচ্ছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন ১,৯৬৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ১২,৫৯৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ২৯,১৬৫ জন পোলিং কর্মকর্তা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড মোতায়েন থাকবে, পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রশাসনের ভূমিকা সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন, তবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের জোট উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছেছে। বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং প্রশাসন অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা দেবে।
বাংলাদেশে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। উৎসবমুখর পরিবেশে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের ভোটদান কেন্দ্র নিয়েও আগ্রহ দেখা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন, আর জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীর মনিপুর বয়েজ হাইস্কুলে সকাল ৮টায় ভোট দেবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনায় ভোট দেবেন। এছাড়া এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও ১১ দলীয় জোটের নেতারাও নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ভোট দেবেন। বিএনপি ও জামায়াতের স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতারা কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় ভোট দেবেন বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে ভোটারদের আগ্রহ কমে গেলেও এবার নির্বাচনী পরিবেশে উৎসবের আমেজ ফিরে এসেছে। দিনব্যাপী ভোটগ্রহণের মধ্যে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোট শুরু হয়েছে। ২৯৯টি আসনে ৪২ হাজার ৯৫৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে, তবে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এক লাখ সেনা ও নয় লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছে। ১৫ বছর পর এটি প্রথম প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত গণভোট। ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তারা অংশ নিচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রে উত্তরণের একটি ঐতিহাসিক পরীক্ষা, যা দুই দশকের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অবসান ঘটাতে পারে। নির্বাচনের সফলতা নির্ভর করবে এর নিরপেক্ষতা ও পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।
ভারতের পুনেতে এমআইটি ওয়ার্ল্ড পিস ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত বিশ্ব সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশের স্টলে হামলা চালিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের সদস্যরা। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় তারা বাংলাদেশের স্টল গুঁড়িয়ে দেয় এবং জাতীয় পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেয় বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র ‘আমার দেশ’কে জানিয়েছে। হামলাকারীরা বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে স্টলে আক্রমণ চালায়। এর আগে কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের ভারতে অবস্থানের আইনি ভিত্তি জানতে চেয়ে পতাকা সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সাবিত্রী বাই ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উৎসবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। তারা শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত না হলেও নিরাপত্তার জন্য স্থান ত্যাগ করেন। এই ঘটনায় বাংলাদেশি ও অন্যান্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে দিল্লির প্রত্যক্ষ সমর্থনে বাংলাদেশবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড চলছে, যার মধ্যে কূটনৈতিক মিশনে হামলা ও ক্রীড়াবিদদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত।
১৭ বছর পর বাংলাদেশের প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ঘিরে নারীর অধিকারকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শেখ হাসিনার পতনের পর বৃহস্পতিবারের এই নির্বাচনে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্রনেতৃত্বাধীন রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে হাসিনার পতনের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আশায় দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস দেখা দিলেও, অনেক নারী আশঙ্কা করছেন যে রক্ষণশীল ইসলামী রাজনীতির পুনরুত্থান তাদের অর্জিত স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। হাসিনা আমলে নিষিদ্ধ ও নিপীড়িত জামায়াতে ইসলামী এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পাশাপাশি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সংস্কার ও দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণা চালালেও দলটি কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। দলের নেতার নারীনেতৃত্ব অস্বীকার ও বৈবাহিক ধর্ষণ অস্বীকারের মন্তব্য তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্রনেতাদের গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি জামায়াতের জোটে যোগ দিয়ে মাত্র দুই নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় হতাশা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের জনপ্রিয়তা পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি বিরক্তির প্রতিফলন। তবে নারী সংগঠনগুলো সতর্ক করছে, নারীর কর্মঘণ্টা কমানোর মতো নীতিমালা তাদের অর্জিত সমতার অগ্রযাত্রাকে উল্টে দিতে পারে।
ডাচ লেখক সিস নুটেবুম, যিনি তাঁর উপন্যাস, ভ্রমণলেখা ও অনুবাদের জন্য পরিচিত ছিলেন, ৯২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর প্রকাশনা সংস্থা ডে বেজিগে বাই জানিয়েছে যে তিনি তাঁর প্রিয় দ্বীপ মেনোরকায় শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। লেখকের স্ত্রী, আলোকচিত্রী সিমোন সাসেনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লেখকের বন্ধুত্ব, প্রজ্ঞা ও স্বকীয়তাকে গভীরভাবে মিস করা হবে। নুটেবুম ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ফিলিপ অ্যান্ড দ্য আদার্স’-এর মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসে খ্যাতি অর্জন করেন। ভূমধ্যসাগর ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় তাঁর দীর্ঘ হেঁটে ভ্রমণের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা এই বইটি অ্যান ফ্রাঙ্ক পুরস্কার পায় এবং ডাচ সাহিত্যের ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত ‘রিচুয়ালস’ উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান। এটি ১৯৮৮ সালে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয় এবং ইংরেজিতে অনূদিত তাঁর প্রথম কাজ ছিল। ১৯৩৩ সালে দ্য হেগে জন্ম নেওয়া নুটেবুম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর শৈশব হারান, যখন এক ব্রিটিশ বিমান হামলায় তাঁর পিতা নিহত হন। পরবর্তীতে ইউরোপজুড়ে, বিশেষ করে জার্মানিতে, তাঁর সাহিত্যিক খ্যাতি বৃদ্ধি পায় এবং তিনি ব্রাসেলস, নাইমেখেন, বার্লিন ও ২০১৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।