২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে তরুণী ভোটারদের উৎসাহমূলক অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মদিনাবাগ ন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে ভোটার সাম্মি আখতার (২৩) জানান, তিনি মা ও ছোট বোনকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন, যা তাদের পরিবারের প্রথম ভোটদান অভিজ্ঞতা। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসার মেহেদী হাসান জানান, দুপুর ১টা পর্যন্ত ২,২৮২ ভোটারের মধ্যে ৭১২ জন ভোট দিয়েছেন, যা মোট ভোটের প্রায় ২৭ শতাংশ। চারটি বুথেই নতুন তরুণ ভোটারদের লাইন সবচেয়ে দীর্ঘ ছিল। মদিনাবাগ কিন্ডারগার্টেন মহিলা ভোটকেন্দ্রেও একইভাবে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ২,৬৮৪ ভোটারের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬০০ ভোট কাস্ট হয়েছে। এ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত হাবিবুর রশিদ হাবিব, জাতীয় নাগরিক পার্টির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এনসিপি নেত্রী তাসমিন জারা, যার প্রতীক ফুটবল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১–৭ ও ৭১–৭৫ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬০ জন, এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৮২ জন। মোট কেন্দ্র ১৬৯টি এবং প্রার্থী ১২ জন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে শহিদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহারা নাফিছা। তিনি বলেন, ওসমান হাদি সাহসী ও বলিষ্ঠভাবে সত্য ও ন্যায়ের কথা বলতেন, তার উপস্থিতি ভোটের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিত। নাফিছা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর প্রশংসা করে বলেন, তিনিও সাহসিকতার সঙ্গে সত্য বলছেন এবং তরুণ প্রজন্ম যেন ওসমান হাদির পথ অনুসরণ করে এগিয়ে যায়। জামায়াতে ইসলামীকে নারী বিদ্বেষী বলা প্রসঙ্গে নাফিছা বলেন, তিনি মনে করেন দলটি নারী বিদ্বেষী নয়, বরং তাদের বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারায় ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তিনি জানান, তাদের প্রতি তার আস্থা তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক, তারা যেন দেশ সুন্দরভাবে পরিচালনা করে। ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯৭ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৫ জন, নারী ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৮ হাজার ৯৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্বাচনী অনিয়মের দুটি অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খেপুপাড়া নেছারুদ্দিন কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার সময় তাওহীদ ইসলাম (১৬) কে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে সোহাগ সিকদার (৪৬) নামের আরও একজনকে আটক করা হয়। একই দিন সকাল ৯টার দিকে কুয়াকাটা পৌর শহরের ইসলামপুর দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে ভোটের গোপন কক্ষে ছবি তোলার অভিযোগে বেলাল হোসেন (৪৬) কে আটক করা হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা হবে। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনী শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উত্তর সুদানে নীলনদে ফেরি ডুবে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক। ফেরিটিতে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষসহ মোট ২৭ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনাটি শেন্ডি এলাকার তাইবা আল-খাওয়াদ ও দেইম আল-কারের মধ্যবর্তী স্থানে ঘটে। ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানায়, নদীপথে নৌযান পরিবহনের দুর্বলতা ও মৌলিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অভাবই এ দুর্ঘটনার মূল কারণ। তারা আরও উল্লেখ করে যে, প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নাগরিক প্রতিরক্ষা দলের অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংগঠনটি দ্রুত বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও অনুসন্ধান সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণে দুই আনসার সদস্য ও এক কিশোরী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন আনসার সদস্য মো. জামাল মোল্লা, সুকান্ত মজুমদার এবং ১৩ বছর বয়সী আমেনা খানম। তাদের মধ্যে কিশোরীর বাম পায়ে ও আনসার সদস্যদের চোখের উপরে হালকা জখম হয়েছে। ঘটনার পর গোপালগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনমসহ মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় ভোটাররা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখা যায় এবং মনে হয় বাইরে থেকে কেউ ককটেল ছুড়ে মেরেছে। প্রিজাইডিং অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছিল, তবে মেইন গেটে বিস্ফোরণের পরও ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রয়েছে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যার পর গোপালগঞ্জ পৌর এলাকা ও টুঙ্গিপাড়ার অন্তত ১০টি ভোটকেন্দ্র ও আশপাশে একই ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে, যা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সৈয়দ মুফতি ফয়জুল করিম বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল নগরীর রুপাতলি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন। ভোট দেওয়ার পর তিনি কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদিও এ পর্যন্ত সব কিছু ভালোভাবে চলছে বলে জানান। তিনি সাংবাদিক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি ভোটারদের হাত পাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বরিশালের ১০টি উপজেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৮৩৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, ২৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩৪২টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১৫০০ সেনা সদস্য, ২৬৬৭ পুলিশ সদস্য, ১৪ প্লাটুন বিজিবি, ৬০ জন নৌবাহিনীর সদস্য, ১৫০ জন কোস্টগার্ড এবং ১০,৮২৯ জন আনসার সদস্য মাঠে কাজ করছেন। বরিশালের ৬টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ জন, যার মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩৮ জন, পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৮ হাজার ২২০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২০ জন।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনে নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিজ এলাকায় ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। রুমিন ফারহানা জানান, আশুগঞ্জের আটটি কেন্দ্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে দুপুরে সিল মারার চেষ্টা চলছে বলে তার কাছে খবর এসেছে। তিনি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে এসব কেন্দ্রের নাম পাঠিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আগের রাতে তার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের দুই কর্মীকে বিনা কারণে আটক করা হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার অভিযোগ, বিশেষ করে আশুগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে সিল মারার চেষ্টা চলছে। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই নেত্রী এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি ভবিষ্যতে তার সমর্থন চাইলে কী করবেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “দেখা যাক, আগে আমি জিতি।”
বাংলাদেশে ইতিহাসের আলোচিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট চলছে, যেখানে প্রথমবারের মতো ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত তরুণ ভোটাররা অংশ নিচ্ছেন। ঢাকা-৪ আসনের শ্যামপুর এলাকার হাজী সলিমুল্লাহ স্কুল ভোটকেন্দ্রে মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. রিফাত আহমেদ ও মো. শাহরিয়ার ইসলাম বৃহস্পতিবার জীবনের প্রথম ভোট দেন। তারা ‘আমার দেশ’কে জানান, এবার তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে আনন্দিত, আগের মতো বিশৃঙ্খলা বা জোর করে ভোট নেওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই। জাহিদুল ইসলাম জুলাই অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, তারা সেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং এবার গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে গর্বিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন, এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। তরুণ ভোটারদের এই উচ্ছ্বাস ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া জাতীয় নির্বাচনে নতুন নাগরিক অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আলমকে বৃহস্পতিবার সকালে যৌথ বাহিনী আটক করেছে। অভিযোগ করা হয়, তিনি গর্জনিয়া ফয়জুল উলুম কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রভাবিত ও ভোট ডাকাতির চেষ্টা করছিলেন। সকাল ১০টার দিকে সেনাবাহিনী তাকে আটক করে রামু থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। একই দিনে সকাল সাড়ে ৭টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, সৈয়দ আলমকে সন্দেহজনক কারণে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের ধানের শীষের পক্ষে ভোট নিতে চাপ দিচ্ছিলেন, পরে সেনাবাহিনী তাকে আটক করে। ঘটনাটি নিয়ে নির্বাচন কমিশন বা অন্য কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পৃথক সংবাদ সম্মেলনে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই নির্বাচনকে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত দেড় দশকে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর এবার জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটেছে। জামায়াত ১১ দলীয় জোট গঠন করেছে, যেখানে ইসলামী দলগুলোর প্রাধান্য রয়েছে, আর বিএনপি অংশীদার হয়েছে তাদের পূর্ববর্তী আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে। ভোটের আগের দিন টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলই একে অপরকে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। সারাদেশে নিরাপত্তা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন নিরাপদ ভোটের আশ্বাস দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নির্বাচনের পর আইনশৃঙ্খলা ও স্থবির অর্থনীতি হবে নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম বুধবার সকালে আটোয়ারী উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের বামনকুমার রাখালদেবী হাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। তার সঙ্গে ভোট দেন বাবা আক্তারুজ্জামান ও ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন সাকিব। সকাল থেকেই কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলে। ভোট শেষে সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীকে ভোট দিয়েছেন এবং একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে সহনশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদার ভূমিকার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতাকর্মীরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেছে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানান, মোট ৫ হাজার ৯৬৯ জন ভোটারের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পঞ্চগড়ে ২৮৬টি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের পশ্চিম ডেকরা গ্রামের স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোট দেওয়ার আগে তিনি পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করেন। ভোটকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছিল এবং উপস্থিত ভোটাররা প্রশাসনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। ডা. তাহের বলেন, নির্বাচন এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু হচ্ছে এবং এভাবে চললে ১১ দলীয় ঐক্যজোট বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। তিনি জানান, ২০০১ সালেও তিনি এখান থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, সারা দেশ থেকে ভালো খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জামায়াতে ইসলামী যেকোনো ফলাফল মেনে নেবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দেন। সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে তিনি কেন্দ্রে পৌঁছান এবং ভোট শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। ইউনূস বলেন, আজকের দিনটি মহা আনন্দের দিন এবং এটি নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। তিনি জানান, সারাদিনব্যাপী এই জন্মদিন উৎসব হিসেবে পালন করা হবে এবং এর মাধ্যমে অতীতের দুঃস্বপ্নময় সময়কে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা হলো। তিনি সবাইকে গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং শেষে সবাইকে ‘ঈদ মোবারক’ জানিয়ে বিদায় নেন। এই ঘটনাটি প্রধান উপদেষ্টার প্রতীকী অংশগ্রহণকে তুলে ধরে, যা দেশের নতুন সূচনা ও গণঅংশগ্রহণের বার্তা বহন করে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তবর্তী সরকারের সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল কেন্দ্রে, ঢাকা-১০ আসনের অধীনে তিনি ভোট প্রদান করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১০ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৮২,১৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৯৯,৯৬৪ জন, নারী ভোটার ১,৮২,২২৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৬টি। এই আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির রবিউল ইসলাম রবি (ধানের শীষ), জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের জসিম উদ্দিন সরকার (দাঁড়িপাল্লা), বহ্নি বেপারি (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল আউয়াল (হাতপাখা), লেবার পার্টির আবুল কালাম আজাদ (আনারস), আমার বাংলাদেশ পার্টির নাসরিন সুলতানা (ঈগল), সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের আনিসুর রহমান (ছড়ি), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আবু হানিফ হৃদয় (হাতি) এবং আম জনতার দলের আব্দুল্লাহ আল হুসাইন (প্রজাপতি) রয়েছেন। ঢাকা-১০ আসনে ভোটগ্রহণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কুষ্টিয়া যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মাজেদকে বৃহস্পতিবার সকালে খাজানগর এলাকা থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, নির্বাচনে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন এমন তথ্যে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী সময়ে সম্ভাব্য ভোটার ভয়ভীতি রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনো মাজেদের হেফাজতের মেয়াদ বা শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। কুষ্টিয়া ও অন্যান্য জেলায় নির্বাচনী কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পর মাজেদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।