ঢাকা মহানগরের ১৩টি আসনের পোস্টাল ভোট গণনা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে শুরু হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণনা শুরু হয় বলে জানা গেছে। বিভিন্ন আসনের প্রিসাইডিং অফিসাররা জানান, সামান্য সময়ের ব্যবধানে ভোট গণনা শুরু হয় এবং প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে। ঢাকা-৪, ঢাকা-৬ ও ঢাকা-৮ আসনের প্রিসাইডিং অফিসাররা জানান, গণনা সাড়ে ৫টা থেকে সোয়া ৬টার মধ্যে শুরু হয়েছে। ঢাকা-৮ আসনের প্রিসাইডিং অফিসার জানান, তিনজন প্রার্থীর এজেন্টের উপস্থিতিতে গণনা শুরু হয়। এই গণনা ঢাকা মহানগরের সব ১৩টি আসনকে অন্তর্ভুক্ত করছে। শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষে এই পোস্টাল ভোট গণনা শুরু হয়েছে। সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন এখনো ৬ হাজারের বেশি কেন্দ্রের ভোটের হার পায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। হোয়াইট হাউজে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিকমাধ্যমে তিনি এ মন্তব্য করেন। আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন ঘণ্টার বৈঠকে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত, যাতে দেখা যায় কোনো চুক্তি সম্ভব কি না। তিনি নেতানিয়াহুকে জানান, এমন একটি চুক্তি করা তার প্রশাসনের অগ্রাধিকার। এটি সম্ভব না হলে কী হয় তা দেখা হবে। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর এটি নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সপ্তম বৈঠক। নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, আলোচনায় ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন নেতানিয়াহু। ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি দমন-পীড়নের পর ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান গত সপ্তাহে পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা শুরু করে।
গাজা শান্তি বোর্ডে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যোগদানকে প্রহসন বলে অভিহিত করেছে হামাস। বুধবার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির নেতা ওসামা হামদান বলেন, অস্ত্র সমর্পণ ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে কোনো খসড়া প্রস্তাব পাননি তারা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামাস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। হামদান বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরাইলের দখলদারিত্ব থাকবে, ততক্ষণ প্রতিরোধকে বৈধ অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও জানান, ফিলিস্তিনি জনগণ বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া যেকোনো ধরনের অভিভাবকত্ব প্রত্যাখ্যান করে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, যেকোনো আন্তর্জাতিক বাহিনীর ভূমিকা গাজা উপত্যকার সীমান্ত পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর উচিত ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে আক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করা।
বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশটির গণতন্ত্রের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলো সকালে ধীরে ধীরে ভোটারে পূর্ণ হয়ে ওঠে, এবং ফলাফল শুক্রবার ঘোষণা হওয়ার কথা। প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছিল। হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন এবং অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন; তার দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা তারেক রহমান, যিনি ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসনের পর দেশে ফিরেছেন, সরকার গঠনের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী, যা হাসিনার পতনের পর পুনরায় প্রভাবশালী হয়েছে। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক উপস্থিত রয়েছেন। এই নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন করতে পারে, যেখানে প্রায় ৫০ লাখ প্রথমবারের ভোটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ভোট গ্রহণ শেষে তিনি ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী ও ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানান। ইউনূস রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকে এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্য অটুট থাকে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং এটি একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের নতুন যাত্রা সূচনা করেছে। ইউনূস একে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট সর্বোচ্চ ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর যত দ্রুত সম্ভব নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করবে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান শেষে আসিফ নজরুল বলেন, ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার গঠন করা হবে। তিনি আরও জানান, রমজানের আগেই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা ও নতুন সরকার গঠনের সময়সূচি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত যেন তারা ভোটকেন্দ্র না ছাড়েন। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি এই আহ্বান জানান, যা সারাদেশের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনের বিষয়ে অভিযোগ তুলেছে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেছেন, বাংলাদেশের চলমান নির্বাচন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই ভাবেননি ভোট এমন উৎসবের রূপ নেবে। সারাদিন শতাধিক কেন্দ্র পরিদর্শন করে তিনি দেখেছেন মানুষের আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস, এবং তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে একটি সুন্দর নির্বাচন ও সুন্দর ফলাফল আসবে। তিনি আরও বলেন, এই সুন্দর নির্বাচনের জন্য তারা ১৫ বছর ধরে সংগ্রাম করেছেন। তার মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ একটি নির্বাচিত সরকার পাবে। তার বক্তব্যে নির্বাচনের প্রতি জনগণের অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো দেশব্যাপী ৪২ হাজার ৬৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রের ভোটের হার পায়নি। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে গড় ভোটগ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। বিকেল সোয়া ৪টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে এবং বাকি কেন্দ্রগুলোর তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনটি আসনের শতাধিক কেন্দ্রে ভোট বন্ধের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করা হবে এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। আগাম মন্তব্য জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আখতার আহমেদ আরও জানান, এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যা দেখা যায়নি এবং দুপুরে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বিকেলের দিকে তা বাড়ছে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের অগ্রগতি ও সার্বিক চিত্র নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে।
বহুল প্রত্যাশিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোট বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশের ২৯৯টি আসনের ৪২ হাজার ৯৫৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনা। দীর্ঘ ১৫ বছর পর জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের নেতৃত্ব বেছে নিয়েছে এবং একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত গণভোটে অংশ নিয়েছে। মোট ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়, যেখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় অংশ নিতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন এক লাখ সেনা ও নয় লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে। প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেয়। এবারের প্রচারণা ছিল ডিজিটালনির্ভর, যেখানে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ‘জুলাই সনদ’ নামে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটে ভোটাররা গোলাপি ব্যালটে মত দেন। এই নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভোটাররা দীর্ঘদিন পর শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সকাল থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঢাকার ১৫ নম্বর আসনের হালিম ফাউন্ডেশন স্কুল কেন্দ্রে ভোটাররা জানান, তারা কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পারছেন। অনেকে বলেন, আগের নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও এবার তারা নিজের হাতে ভোট দিতে পেরে আনন্দিত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯১ সালে এরশাদের পতনের পর গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলেও শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে ভোটাধিকার সীমিত ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সেই শাসনের অবসান ঘটে, যেখানে ১৪০০ মানুষ প্রাণ হারান। অনেকেই এটিকে দেশের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে দেখছেন। ভোটারদের মতে, এবার তারা সত্যিকারের স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন এবং এটি জাতির জন্য এক স্মরণীয় দিন। ভোটাররা আশা প্রকাশ করেছেন, এই শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ভবিষ্যতের নির্বাচনে বজায় থাকবে এবং গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোট কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলে ভোট স্থগিতের দাবি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচনের দিন বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে জোটের প্রতিনিধিদল এই দাবি জানায়। একই দিন সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেলের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের ৪৮৬টি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। ৫৯টি কেন্দ্রে জাল ভোট এবং তিনটি স্থানে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। জোটের অভিযোগ, এসব অনিয়ম নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোট স্থগিত করা জরুরি। নির্বাচন কমিশন এখনো এই দাবির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি, পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী সংসদীয় আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তবে হাসিনার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ থেকে কেউ অংশ নেননি। নির্বাচনে কেন্দ্র-ডানপন্থী বিএনপি এবং ইসলামপন্থী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে, যেখানে ছাত্র আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া একটি দলও অংশ নিয়েছে। ফলাফল শুক্রবার ঘোষণা হওয়ার কথা। সংসদীয় ভোটের পাশাপাশি নাগরিকরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে গণভোটেও অংশ নেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভঙ্গুর বলে বর্ণনা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় দশ লাখ পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী নেতা মুহাম্মদ ইউনুস ঢাকায় ভোট দিয়ে বলেন, দেশটি এক দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে নতুন স্বপ্ন শুরু করেছে। বিএনপির তারেক রহমান ও জামায়াতের শফিকুর রহমানও রাজধানীতে ভোট দেন, যা আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশের ২৯৯টি আসনের ৪২ হাজার ৯৫৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পুরো প্রক্রিয়া ছিল শান্তিপূর্ণ। ভোট শেষে গণনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে, যা গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মোট ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করেছে, যেখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। একই দিনে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভোটাররা দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট ব্যবহার করেছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে এক লাখ সেনা ও নয় লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ভোটকে ঘিরে সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। অনেকেই নিজ গ্রামে গিয়ে ভোট দেন। প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর ওপর ফেনী-২ আসনে ভোট চলাকালে হামলার চেষ্টা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের শেখ মজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, দুপুরে মঞ্জু কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে বিএনপির কর্মী আব্দুল হান্নান ও শহিদের নেতৃত্বে একদল কর্মী আপত্তিকর মন্তব্য করে এবং একপর্যায়ে মঞ্জুর দিকে তেড়ে আসে। ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা মঞ্জুকে ঘিরে রক্ষা করে এবং পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় তালহা নামে এক সমর্থককে মারধর করা হয়। ধর্মপুর ইউনিয়নের জোয়ার কাছাড় কেন্দ্রের পাশে মঞ্জুর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট আনম আব্দুর রহিমের ওপরও হামলা চালিয়ে তাকে আহত করা হয় এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয় বিএনপি ক্যাডার জামাই কামরুলের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলে মঞ্জুর সমর্থকরা জানান। এছাড়া পাঁচগাছিয়া, শর্শদী ও ফরহাদনগর এলাকায়ও সংঘর্ষে কয়েকজন ঈগল সমর্থক ও এক জামায়াত নেতা আহত হন। ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক জানান, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মোবাইল টিম পাঠানো হয়েছে এবং ভোট গ্রহণে কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি বলেন, হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় নিয়মিত মামলা করা হবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।