চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ৭৫,৯৫২ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক ওমর ফারুক ছাতাকে পরাজিত করেন। ওমর ফারুক ৭২,২৭৭ ভোট পান, ফলে জসিম উদ্দিন আহমেদ ৩,৭৭৫ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নির্বাচিত হন। অধ্যাপক ওমর ফারুক ছাতা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ১১ দলীয় জোট ও লিবারেল অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলির ছেলে। এই ফলাফলটি ছিল বেসরকারি গণনার ভিত্তিতে প্রকাশিত। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাবনা-৫, পটুয়াখালী, মেহেরপুর-১ এবং গাইবান্ধা-৫ আসনেও বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন, যা বিভিন্ন অঞ্চলে বিরোধী জোটের অগ্রগতি নির্দেশ করে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১৭৭টি কেন্দ্রের সবগুলোতে মোট ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুখ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট, ফলে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৮৪০ ভোটে। কক্সবাজার-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৬৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৫ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯২ জন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সালাহউদ্দিন আহমদের জয় সব কেন্দ্রেই ছিল একতরফা, যা বিএনপি প্রার্থীর প্রতি ভোটারদের দৃঢ় সমর্থন নির্দেশ করে। একই প্রতিবেদনে পটুয়াখালী, মেহেরপুর, গাইবান্ধা ও লক্ষ্মীপুরের কয়েকটি আসনেও বিএনপি ও মিত্র প্রার্থীদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন অঞ্চলে দলের শক্তিশালী অবস্থানকে ইঙ্গিত করে।
নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট গণনা শেষে এই ফলাফল নিশ্চিত করা হয়। প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী তিনি ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৯০৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট, ফলে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৩৭৯। সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা ভোট গণনা শেষে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। নীলফামারী-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৫১,৮১৪ জন, যার মধ্যে পুরুষ ২,২৬,৭২৮, মহিলা ২,২৫,০৮১ এবং হিজরা ভোটার ৫ জন বলে জানানো হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক জেলা সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৪ ভোট পান। রংপুর-৪ আসনটি পীরগাছা ও কাউনিয়া এলাকা নিয়ে গঠিত। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে আমার দেশ অনলাইন এই ফলাফল প্রকাশ করে। এই ফলাফলে ১১ দলীয় জোটের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে এনসিপির প্রার্থী শক্তিশালী বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন। প্রতিবেদনে ফলাফলকে বেসরকারি বলা হয়েছে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিতকরণের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘোষিত ফলাফলে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ২৩ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে চৌগাছা উপজেলার ৮১টি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ পান ৭৬ হাজার ৩৫৩ ভোট, আর বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী পান ৬৭ হাজার ৪৭৬ ভোট। এতে ফরিদ ৮ হাজার ৮৭৭ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ঝিকরগাছা উপজেলার ৯৪টি কেন্দ্রে ফরিদ পান ৯২ হাজার ১৪৫ ভোট, যা প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১৪ হাজার ৬৯০ ভোট বেশি। বিএনপি প্রার্থী মোছা: সাবিরা সুলতানা ঝিকরগাছায় পান ৭৭ হাজার ৪৫৫ ভোট। এই বেসরকারি ফলাফল জামায়াতে ইসলামীর জন্য যশোর অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দলটির সাম্প্রতিক নির্বাচনী পারফরম্যান্সে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে নাটোর জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু এবং নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে আব্দুল আজিজ। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ১১টা ১ মিনিটে। নাটোর-১ আসনে ১২৫ কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টির ফলাফলে ফারজানা শারমিন পুতুল পেয়েছেন ৭২,৯৭০ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৬৪,০৩০ ভোট। নাটোর-২ আসনে দুলু পেয়েছেন ১,৪২,৩৬৭ ভোট, তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী পেয়েছেন ১,২২,৭৩৯ ভোট। নাটোর-৩ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম আনু পেয়েছেন ১,১৯,৫৮৫ ভোট, বিএনপির বিদ্রোহী দাউদার মাহমুদ পেয়েছেন ৬৫,৩০৯ ভোট। নাটোর-৪ আসনে আব্দুল আজিজ পেয়েছেন ১,৭১,৪৭১ ভোট এবং জামায়াতের আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ১,৩৫,০৭৭ ভোট। রাত ১০টা পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল না পৌঁছালেও স্থানীয়ভাবে এই ফলাফল নিশ্চিত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. রুহুল আমিন বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, এ আসনে মোট ১৭৪টি ভোটকেন্দ্র ও একটি পোস্টাল কেন্দ্রসহ মোট কেন্দ্র সংখ্যা ছিল ১৭৫। রুহুল আমিন পোস্টাল ভোটের ২ হাজার ৫৮৯ ভোটসহ মোট ২ লাখ ১০ হাজার ১১১ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পোস্টাল ১ হাজার ১৬৫ ভোটসহ মোট ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৯ ভোট পান। ফলাফলে দেখা যায়, রুহুল আমিন ৪৬ হাজার ৮১২ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। শুরু থেকেই তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রে এগিয়ে ছিলেন এবং পোস্টাল ভোট যুক্ত হওয়ার পর ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। ফলাফল ঘোষণার পর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস দেখা যায়। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ফলাফল চূড়ান্ত করা হবে।
সুনামগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্র ঘোষিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে জেলার পাঁচটি আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান পান ৯১ হাজার ১৭৬ ভোট। সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির নাছির উদ্দিন চৌধুরী ৯৭ হাজার ৭৯২ ভোটে জয়ী হন, জামায়াত প্রার্থী এডভোকেট শিশির মনির পান ৫৭ হাজার ৮০৬ ভোট এবং তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাছির উদ্দিনকে অভিনন্দন জানান। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির কয়ছর এম আহমদ ৯৬ হাজার ৬৬৬ ভোটে নির্বাচিত হন, বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন পান ৪১ হাজার ৯৮৪ ভোট। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির এডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল ৯৭ হাজার ৫৫৫ ভোটে জয়ী হন, ১১ দলীয় জোটের এডভোকেট শামছ উদ্দিন পান ৭৪ হাজার ১৮ ভোট। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির কলিম উদ্দিন মিলন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৭ ভোটে বিজয়ী হন, ১১ দলীয় জোটের আব্দুস সালাম আল মাদানি পান ৯৯ হাজার ৯২৮ ভোট।
রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মোট ৪৩টি ভোটকেন্দ্রের বেসরকারি চূড়ান্ত ফলাফল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঘোষণা করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী এ টি এম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৪৩ হাজার ৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার ধানের শীষ প্রতীকে ২২ হাজার ১০০ ভোট পেয়েছেন। লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল ১২ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আশরাফ আলী হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ৯৬৩ ভোট এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) প্রার্থী আজিজুর রহমান তারা প্রতীকে ৮৮ ভোট পেয়েছেন। একইসঙ্গে ৪৩টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫৫ হাজার ৪৭৭ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ১৮ হাজার ৩১৫। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই ফলাফল বেসরকারি এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরবর্তীতে দেওয়া হবে।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, দুটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়নের ১৪০টি ভোটকেন্দ্রের গণনায় সান্টু পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ২৮০ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৭০ হাজার ৭১৯ ভোট। এতে সান্টু ৬৯ হাজার ৪৬১ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বানারীপাড়া উপজেলায় সান্টু পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮৫০ ভোট এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৩২ হাজার ১১৩ ভোট। উজিরপুর উপজেলায় সান্টু পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৩০ ভোট, আর প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬১৯ ভোট। এসব প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বরিশাল-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফলাফলগুলো বেসরকারি ভিত্তিতে প্রাপ্ত এবং চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা এখনো হয়নি।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১,৭২,০৬১ ভোট, আর বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন (ধানের শীষ প্রতীক) পেয়েছেন ১,২৭,০২৫ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৯১,৭৮৭ জন, যার মধ্যে লোহাগাড়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ভোটার ২,৪২,১৭১ জন। তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন—জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী (হাতপাখা প্রতীক)। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে গাইবান্ধা-৫ আসনে জামায়াতের আরেক প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা পেয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঢাকা-১৭ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে দলটি। বৃহস্পতিবার রাতে দলটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়। ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যায় এই ফলাফল পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় ঢাকা-১৭ আসনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন এবং শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপির অপু বিজয়ী হয়েছেন। এদিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে তিনি ৮৯,৮৬১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পেয়েছেন ৮২,২১০ ভোট। বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকত আলী ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪,৯৪৯ ভোট। বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) থেকে প্রেরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এটি দেশের বিভিন্ন আসনের ঘোষিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলের অংশ। অন্যান্য আসনের মধ্যে পটুয়াখালীর চারটি আসনে বিএনপি তিনটি ও জামায়াত একটি আসনে জয় পেয়েছে, মেহেরপুর-১ আসনে বিজয়ের পর শোকরানা নামাজ আদায় করা হয়েছে, গাইবান্ধা-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ বিজয়ী হয়েছেন এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপির খায়ের ভূঁইয়া বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। এই ফলাফল জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নির্বাচনী উপস্থিতি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করছে।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১০৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা গেছে, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সফিকুল আলম হেলাল পেয়েছেন ৪১ হাজার ২০৯ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭৭ ভোট। ফলাফল অনুযায়ী কুমিল্লা-৮ আসনে জাকারিয়া তাহের সুমনের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে কুমিল্লা দক্ষিণের প্রতিবেদক জানান, সব কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতেই এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পটুয়াখালী, মেহেরপুর, গাইবান্ধা ও লক্ষ্মীপুরের কয়েকটি আসনেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ফলাফলগুলো বেসরকারিভাবে ঘোষিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরবর্তীতে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী-১ আসনের সব ১৫৬টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৭০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. নূরুল ইসলাম পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৭৮৫ ভোট। ফলাফলে দেখা যায়, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্রে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে ছিলেন এবং উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন। ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়ায় তার এগিয়ে থাকার ধারা বজায় ছিল। তবে এটি বেসরকারি ফলাফল। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।