ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১৫১টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের (জামায়াত জোট) প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ নূর রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৬২ হাজার ৯১৬ ভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল ও বিএনপি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। আফরোজা খানম রিতা সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর বড় মেয়ে এবং বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই ফলাফল এখনো বেসরকারি এবং নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই এটি চূড়ান্ত হবে।
জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ও সাবেক এমপি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। ১৬৭টি কেন্দ্রের সবকটির অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে তিনি বিএনপি প্রার্থী আলমগীর হোসেনকে ২৬ হাজার ৪৭৩ ভোটে পরাজিত করেন। আলমগীর হোসেন পান ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৫ ভোট। পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৭ জন, এর মধ্যে ভোট দেন ২ লাখ ৪১ হাজার ৩৩৫ জন। পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আহাম্মেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন ১ লাখ ৬ হাজার ৩৮৭ ভোট পেয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী শামীম সাঈদী পান ৯৭ হাজার ১৪৩ ভোট। পিরোজপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী রুহুল আমীন দুলাল ৬৩ হাজার ১৩২ ভোট পেয়ে জয়ী হন, ইসলামী আন্দোলনের ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী ও এনসিপির ডা. শামীম হামিদী যথাক্রমে ৩৫ হাজার ৬২৩ ও ৩৫ হাজার ৩১২ ভোট পান। ফলাফল অনুযায়ী পিরোজপুর জেলায় বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই বিভিন্ন আসনে জয় পেয়েছে, যা অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ইঙ্গিত দেয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ১ লাখ ৭২ হাজার ৪০২ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামকে পরাজিত করেন। নজরুল ইসলাম পান ১ লাখ ৮ হাজার ৯০৯ ভোট। ১৮৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে আবু আশফাক ৬৩ হাজার ৪৯৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। ঢাকা-১ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৭ জন এবং পোস্টাল ব্যালটের ভোট ৮ হাজার ৫১৮টি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম খন্দকার আবু আশফাককে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জনগণের রায়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য দল-মত নির্বিশেষে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন এবং গণতান্ত্রিক সহনশীলতা বজায় রাখবেন। চূড়ান্ত ফলাফল নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর নিশ্চিত হওয়ার কথা।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে ২০ হাজার ৭২৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আসনের ১২৭টি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সূত্র অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডা. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট। ফলে ডা. শফিকুর রহমানের জয় নিশ্চিত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্যান্য আসনেও জামায়াতের প্রার্থীরা ভালো ফল করেছেন। ঢাকা-৪ আসনে জয়ী হয়েছেন জয়নুল ইসলাম এবং ঢাকা-৬ আসনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন ইশরাক। ভোটের ফল নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াত।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর এটি ছিল নতুন সরকার গঠনের প্রথম নির্বাচন। বিদেশি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) পর্যবেক্ষণ দলের প্রধান ও সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেভিড ড্রেয়ার নির্বাচনের পরিবেশকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর বলে উল্লেখ করেন। তিনি ঢাকায় একটি কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক নিঘাত সিদ্দিকীও নির্বাচনের পরিবেশকে ইতিবাচক ও আন্তরিক বলে মন্তব্য করেন এবং নারী, তরুণ ও প্রবীণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে এবং ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে গড় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪৭.৯ শতাংশ। চূড়ান্ত ফলাফল ও উপস্থিতির হার পরে জানানো হবে।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) সংসদীয় আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, মোট ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। আসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৪০৬, যা সাম্প্রতিক সময়ে এ আসনে অন্যতম বড় ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিএনপির দলীয় সূত্রে এই ফলাফল নিশ্চিত করা হয়েছে, যা সীতাকুণ্ড এলাকায় বিরোধী দলের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে পাবনা-৫, পটুয়াখালী, মেহেরপুর-১ এবং গাইবান্ধা-৫ আসনেও বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন, যা বিভিন্ন অঞ্চলে বিরোধী জোটের অগ্রগতি নির্দেশ করে।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পাবনা-২ আসনের ফলাফল বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. সেলিম রেজা হাবিব বিজয়ী হন। পাবনা-২ (বেড়া-সুজানগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ২১৩,৯৫০ ভোট এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়ি পাল্লা প্রতীকে ৭৫,৩৮৭ ভোট পাওয়া যায়। স্থানীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই ফলাফল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এই ফলাফল বিএনপির আরও কয়েকটি আসনে জয়ের ধারাবাহিকতার অংশ, যার মধ্যে রয়েছে পাবনা-৫, পটুয়াখালীর চারটির মধ্যে তিনটি আসন এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থীর বিজয়।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী এমএ হান্নান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, চিংড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হান্নান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক এবং ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদকে ৪,৬২৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ১১৮টি কেন্দ্রের ভোট এবং দেশি চাকরিজীবী ও প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, এমএ হান্নান ৭৩,৮৪২ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হারুনুর রশিদ পান ৬৯,২১৫ ভোট, আর ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পান ৬৬,৫০৫ ভোট। এই বেসরকারি ফলাফল বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী দলের মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন।
নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধির তথ্যমতে, বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে নেত্রকোনার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চারটি আসনে বিজয়ী হয়েছে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আসনে জয় পেয়েছে। এই তথ্য ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আমার দেশ অনলাইন প্রকাশ করেছে। বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন নেত্রকোনা-১ আসনে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নেত্রকোনা-২ আসনে প্রফেসর ডা. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ আসনে ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং নেত্রকোনা-৪ আসনে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। নেত্রকোনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাবনা-৫ আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছেন, পটুয়াখালীর চারটি আসনের মধ্যে বিএনপি তিনটিতে এবং জামায়াত একটি আসনে জয় পেয়েছে, এছাড়া গাইবান্ধা-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ বিজয়ী হয়েছেন।
হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জি কে গউছ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ১৩৭টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কাজী মহসিন আহমেদ পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৫৮১ ভোট। এই তথ্য জানান জি কে গউছের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট হাজী এনামুল হক। একই রাতে আরও কয়েকটি আসনের ফলাফল প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৬ আসনে দলীয় প্রার্থীদের জয়ের খবর পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভোটের ফল নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জামায়াত কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বেসরকারি এই ফলাফল অনুযায়ী জি কে গউছের জয় নিশ্চিত হলেও চূড়ান্ত ঘোষণা এখনো নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফলাফলের অপেক্ষায়।
অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. রুহুল আমীন ও বাহুবলের সহকারী রিটার্নিং অফিসার লিটন চন্দ্র দে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, রেজা কিবরিয়া নবীগঞ্জে ৭২ হাজার ৫৯৪ এবং বাহুবলে ৩৮ হাজার ৪৭৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম রিকশা প্রতীকে ৫৫ হাজার ২৪৫ ভোট পান। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী শেখ সুজাত মিয়া ঘোড়া প্রতীকে ৩৪ হাজার ৪৬২ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ বদরুর রেজা চেয়ার প্রতীকে ৫ হাজার ২৪৪ ভোট এবং বাসদের কাজী তোফায়েল আহমেদ মোটরগাড়ি প্রতীকে ৬৩৯ ভোট পান। প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় রেজা কিবরিয়ার এই জয়কে বড় ব্যবধানের বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ফলাফলটি এখনো বেসরকারি।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বাবর ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২ ভোটে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৩০৯ ভোট। এই ফলাফলে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থীর নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাবনা-৫ আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছেন, পটুয়াখালীর চারটি আসনের মধ্যে বিএনপি তিনটিতে এবং জামায়াত একটিতে জয় পেয়েছে। মেহেরপুর-১ আসনে বিজয়ের পর শোকরানা নামাজ আদায় করা হয়েছে এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে জামায়াতের আব্দুল ওয়ারেছ বিজয়ী হয়েছেন।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জামায়াতে ইসলামী জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ১ লাখ ৭৫ হাজার ২০৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪১ ভোট। ফলাফলের ভিত্তিতে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মিঠাপুকুর (রংপুর) থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আসনে জামায়াত প্রার্থীর জয় ছিল একতরফা এবং ভোটের ব্যবধান ছিল উল্লেখযোগ্য। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী রংপুর অঞ্চলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পটুয়াখালী, মেহেরপুর ও গাইবান্ধা আসনেও বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছেন, যা সামগ্রিকভাবে তাদের নির্বাচনী সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভোট গণনা শেষে এই ফলাফল জানা যায়। অনানুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, ফজলুর রহমান পেয়েছেন মোট ১,৩২,৫৫৩ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৫,৬৪৬ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,০৮,৩৫২ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,১১,১৮২ জন, নারী ভোটার ১,৯৭,১৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। সারাদেশে এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১,১২০ জন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পটুয়াখালীর চারটি আসনের মধ্যে বিএনপি তিনটিতে এবং জামায়াতে ইসলামী একটি আসনে জয় পেয়েছে, যা বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফলাফল নির্দেশ করে।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান (রাসেল) এই ফলাফল ঘোষণা করেন। ১১০টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট। বিজয়ের প্রতিক্রিয়ায় ড. মিলন বলেন, এই বিজয় কচুয়াবাসীর বিজয় এবং তিনি এটি কচুয়ার জনগণকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি কচুয়ার জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের অন্যান্য আসনেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন, যা সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলের অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।