দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল ইসলাম ঢাকা-৪ আসনে প্রায় তিন হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী রাত সাড়ে ৪টায় চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, জয়নুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট। এই ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে ঢাকা-৪ আসনের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে এবং জয়নুল ইসলামের জয় নিশ্চিত হয়েছে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংসদ নির্বাচনে সাতজন নারী প্রার্থী বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন হুম্মাম কাদের এবং বিএনপির আমিনুল পরাজিত হয়েছেন। এসব ফলাফল নির্বাচনের বিভিন্ন আসনে বৈচিত্র্যময় ফলাফলকে প্রতিফলিত করে।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ইশরাক হোসেন পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। এই ঘোষণার মাধ্যমে ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেনের নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। এটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ভোটের ফলাফল, যেখানে অন্যান্য আসনেও একাধিক প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের খবর পাওয়া গেছে। রিটার্নিং অফিসারের চূড়ান্ত ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা-৬ আসনের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে এবং ইশরাক হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) সংসদ সদস্যদের জানিয়েছে যে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তাঁর কন্যা কিম জু এ-কে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংস্থাটি পূর্বের মূল্যায়ন বাড়িয়ে জানিয়েছে যে এই কিশোরীই “সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি”। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিক পার্ক সন-ওন ও লি সঙ-গওন এই তথ্য গণমাধ্যমে জানান। লি বলেন, কিম জু এ সাম্প্রতিক সশস্ত্র বাহিনী দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে ক্রমবর্ধমানভাবে উপস্থিত হচ্ছেন এবং কিছু নীতিগত বিষয়ে মতামতও দিচ্ছেন। ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, যদি কিম জু এ এই মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শাসক ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসে অংশ নেন বা কোনো পদবি পান, তবে তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে জল্পনা আরও বাড়বে। তাঁর বয়স সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়, তবে ধারণা করা হয় তিনি এখনও কিশোরী। ২০২২ সালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় তাঁর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ঘটে এবং এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পিতার সঙ্গে দেখা গেছেন। এনআইএস আরও জানিয়েছে, কিম জং উন বর্তমানে একটি বড় সাবমেরিন নির্মাণের তত্ত্বাবধান করছেন, যা ১০টি সাবমেরিন-নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম এবং সম্ভবত পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর দ্বারা চালিত হতে পারে।
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রাথমিক ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ এগিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটের ৭৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ এবং ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ ‘না’। ঢাকার বিভিন্ন আসনসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আংশিক ফলাফল পাওয়া গেছে। ঢাকার ঢাকা-৫, ঢাকা-৬, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১৮ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রাধান্য দেখা গেছে। রাজধানীর বাইরে নেত্রকোণা, কুমিল্লা-১, ময়মনসিংহ-৭ ও ময়মনসিংহ-১১ আসনেও ‘হ্যাঁ’ ভোট এগিয়ে রয়েছে। তবে খাগড়াছড়িতে ‘না’ ভোট সামান্য এগিয়ে আছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৯৯টি সংসদীয় আসনের বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফল সংগ্রহ চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোট এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। আরও কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিশন আপডেট প্রকাশ করবে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী জেলার চারটি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে এবং নির্ধারিত সময় শেষে কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের ভোট নেওয়া হয়। পরে বিরতি দিয়ে ভোটগণনা শুরু হয়। সকালে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর তা বৃদ্ধি পায়, নারী-পুরুষ ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণে কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিএনপি মিডিয়া সেলের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, চারটি আসনের মধ্যে বিএনপি তিনটিতে এবং জামায়াতে ইসলামী একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। পটুয়াখালী-০১ আসনে বিএনপির এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী ১,৫০৯১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। পটুয়াখালী-০২ আসনে জামায়াতের ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মাসুদ ৯৯,৭৩৮ ভোটে জয়ী হন। পটুয়াখালী-০৩ আসনে বিএনপির নুরুল হক নূর ৯৬,৬৬৬ ভোটে এবং পটুয়াখালী-০৪ আসনে বিএনপির এবিএম মোশারফ হোসেন ১,২৩৩৩৪ ভোটে বিজয়ী হন। পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া জুড়ে পটুয়াখালীতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল।
বিএনপি ২০৭, এনসিপি ৬ সহ জামায়াত জোট ৭৭, অন্যান্য ১২ ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে এককভাবে সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। কেন্দ্র থেকে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ঘোষিত ২৯৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৭টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি (এর মধ্যে এনসিপি ৬টি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৭৫ শতাংশের বেশি ভোট ‘হ্যাঁ’ পক্ষে পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। দেশের ২৯৯টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, শেরপুর-৩ আসনের ভোট প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত করা হয়েছে। কমিশনের তথ্যমতে, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬১ শতাংশ। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবার দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয়টিতেই জয়ী হন। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী হন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর বলে অভিহিত করেন। বিএনপি নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে, আর জামায়াত একে বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল ইসলাম ঢাকা-৪ আসনে প্রায় তিন হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী রাত সাড়ে ৪টায় চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে জয়নুল ইসলাম পান ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট, আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের তানভীর আহমেদ পান ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট। ঢাকা-৪ আসনের ভোট গণনা শেষে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ঘনিষ্ঠ। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের ভোরে প্রকাশিত এই ফলাফল জয়নুল ইসলামের অল্প ব্যবধানে হলেও নিশ্চিত জয় নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার অন্যান্য আসনেও ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে—ঢাকা-১ ও ঢাকা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন এবং ঢাকা-৯ আসনে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
ধানের শীষের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন ঢাকা-১৮ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির ভোরে ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট। রাত ৪টায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এই তথ্য জানান। ঢাকা-১৮ আসনের এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল ধানের শীষ ও শাপলা কলির প্রার্থীর মধ্যে। রিটার্নিং অফিসারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জাহাঙ্গীর হোসেনের জয় নিশ্চিত হয়, যার ব্যবধান ছিল প্রায় ৩৩ হাজার ভোটের বেশি। এই ফলাফল দেশের অন্যান্য আসনের ঘোষিত ফলাফলের ধারাবাহিকতায় এসেছে, যা বিভিন্ন দলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী পারফরম্যান্সের চিত্র তুলে ধরছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা–ফুলছড়ি) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়ারেছ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৮৭ হাজার ৯১৩ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. ফারুক আলম সরকার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৭২ হাজার ৭৪১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। আব্দুল ওয়ারেছ ১৫ হাজার ১৭২ ভোটের ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেন। এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৯৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৫৪ জন। প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রশাসনের তথ্যমতে, দিনব্যাপী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এটি প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল। চূড়ান্ত ফলাফল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।
২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের প্রধান ও সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেভিড ড্রেয়ার ঢাকার মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক নিঘাত সিদ্দিকীও নির্বাচনের পরিবেশকে ইতিবাচক ও আন্তরিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নারী, তরুণ ও প্রবীণ ভোটারদের দীর্ঘ সারি প্রমাণ করে যে নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক ছিল। তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং ১০ লাখেরও বেশি নিরাপত্তা সদস্য সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে জামায়াতের প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়াকে পরাজিত করেন, যিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২ ভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে আসনটির ১৫১টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৭, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫৮ এবং হিজড়া ভোটার ৫ জন। আবুল খায়ের ভূঁইয়া বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুহুল আমিন ভূঁইয়া জেলা জামায়াতের আমীর। এই ফলাফল বিএনপির জন্য এলাকায় শক্ত অবস্থান নির্দেশ করে, যদিও চূড়ান্ত ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের যাচাই শেষে প্রকাশিত হবে।
নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৮১,৪১৫ ভোট পেয়েছেন বলে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ফলাফলে জানানো হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া পরিষদ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ উল ইসলাম মৃধা হাঁস প্রতীকে ৪৫,৪০১ ভোট পান। ১১ দলীয় জোটের মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা রাকিবুল ইসলাম রিকশা প্রতীকে ২৪,৯৬৮ ভোট পান। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৮০,৯২৯ জন। ফলাফলটি বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো বাকি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার বিভিন্ন আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন, যেমন ঢাকা-১ ও ঢাকা-২ আসনে, আর ঢাকা-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জয়ী হয়েছেন জয়নুল ইসলাম। এই ফলাফলগুলো চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রাথমিক প্রবণতা নির্দেশ করছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন আসনে বেসরকারি ফলাফল প্রকাশিত হচ্ছে।
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ১১ দলীয় সমর্থিত প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তারকে পরাজিত করেছেন। ১০২টি কেন্দ্রের অধিকাংশে নাদিরা এগিয়ে থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের ভোটে ফলাফল বদলে যায়। কেন্দ্রে নাদিরা ধানের শীষ প্রতীকে পান ৬৪ হাজার ২৯১ ভোট, আর হানজালা রিকশা প্রতীকে পান ৬৩ হাজার ৫১১ ভোট। পোস্টাল ব্যালটে হানজালা পান ১ হাজার ৩৯৮ ভোট এবং নাদিরা পান ২৩৩ ভোট। এতে হানজালার মোট ভোট দাঁড়ায় ৬৪ হাজার ৯০৯ এবং নাদিরার ৬৪ হাজার ৫২৪। স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা ৩৬ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ইসলামি আন্দোলনের আকরাম হোসেন পান ৬ হাজার ২০৫ ভোট, অন্য প্রার্থীরা পান তিন হাজারের কম ভোট। বিজয়ের পর হানজালা বলেন, এটি সত্যের বিজয় এবং তিনি ইনসাফ ও ন্যায্যতার জন্য লড়ে যাবেন। আসনটিতে মোট ৫৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয় এবং বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও দুই বিদ্রোহীসহ ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও পাবনা জেলা আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে ৩ হাজার ৬৮৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আবু তালেব মন্ডল পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট, হাবিব পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯২ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮৪১ ভোট। সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার ১২৯টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ঈশ্বরদীতে ৮৪টি এবং আটঘরিয়ায় ৪৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। দিনভর ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদান করতে দেখা যায়। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল জামায়াত, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, এই বিজয় ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার মানুষের বিজয় এবং তিনি এলাকার উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান। ফলাফল ঘোষণার পর তার সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো একটি আসনে জয় পেয়ে সংসদ সদস্য পদ অর্জন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বরগুনা-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে ৪ হাজার ১৭৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, অলি উল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২ ভোট এবং নজরুল ইসলাম মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৬ ভোট। বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন। এ আসনে ৩৭ হাজার ৯৬০ জন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন এবং ৬ হাজার ২৯৮ জন পোস্টাল ভোটার রয়েছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এই ফলাফল দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।