ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আগের রাতে ফোন করে হাবিবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, সাবেক এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পান, আর বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে ৬৬ হাজার ৫২৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। জারা ওই আসনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। তিনি তার পোস্টে দেশের জটিল পরিস্থিতিতে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য অধ্যাপক ইউনূস ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাসনিম জারা আরও জানান, তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন না এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের দীর্ঘ পথচলায় জনগণের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হওয়া প্রয়োজন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে পরিস্থিতি ‘ভয়ঙ্কর’ রূপ নিতে পারে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, আগামী মাসের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং উভয় পক্ষকেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি ইরান আলোচনায় অগ্রসর না হয়, তাহলে “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার” আবার শুরু হতে পারে, এবং এবার তা হবে আরও ভয়াবহ। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই ট্রাম্পের এই কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের কল্যাণের দায়িত্ব জনগণ বিএনপি ও দলের নেতা তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছে। তিনি জানান, এই নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন পেয়েছে এবং জোটের অনেক প্রার্থীও বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শতভাগ সন্তুষ্টি পাওয়া কঠিন হলেও তিনি মোটামুটি সন্তুষ্ট। তার মতে, আগের অনেক নির্বাচনে প্রাণহানি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হলেও এবার তেমন কিছু ঘটেনি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে ভোট না দেওয়ার সংস্কৃতি পুরোপুরি বদলানো যায়নি এবং আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে জনগণকে ভোটে আরও আগ্রহী করা সম্ভব হবে। তার বক্তব্যে নির্বাচনী সাফল্যের পাশাপাশি ভোটারদের অংশগ্রহণ পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতিও প্রতিফলিত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির শফিকুর রহমান শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন, তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের দিন যেখানে কার্যালয়টি ছিল নেতাকর্মীতে ভরপুর, আজ সেখানে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। বিবিসি সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সেখানে কেবল অল্প কয়েকজন কর্মী ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনের সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল তারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। কিন্তু এখন স্পষ্ট হয়েছে যে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করছে। সরকার গঠনের আশা পূরণ না হলেও জামায়াত এবার তাদের ইতিহাসে সর্বাধিক আসন পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর জামায়াত নেতারা বৈঠক করবেন এবং এরপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল প্রস্তুত ও ঘোষণার প্রক্রিয়া তাদের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেক স্থানে জামায়াতের প্রার্থীরা অল্প ভোটের ব্যবধানে রহস্যজনকভাবে পরাজিত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। জামায়াতের মতে, ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো মনে হয়েছে এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি। দলটি তাদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা ধৈর্য ধরেন এবং জোটের পরবর্তী ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করেন। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এনসিপিও নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার বিষয়ে অনুরূপ অভিযোগ তুলেছে, যদিও তাদের বক্তব্যের বিস্তারিত তথ্য সূত্রে প্রকাশ করা হয়নি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিজয়কে গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দলের গুলশান কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা বিএনপি নেতা তারেক রহমানের প্রতি রয়েছে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন। মাহদী আমিন আরও বলেন, বিএনপির সরকার হবে জনকল্যাণমূলক সরকার। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি এককভাবে ২১১টি আসনে জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল স্থগিত রয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণ সংহতি আন্দোলন ১টি, গণ অধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২টি, খেলাফত মজলিশ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে, মোট ২৯৯ আসনে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এই ফলাফলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হয়েছে এবং দলটি সরকার গঠনের অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের সব কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটের হার প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ভালো থাকায় ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার ২৯৯ আসনে ভোট দেন, যেখানে ৫০টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২,০২৮ জন। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী বিএনপি ২১১টি আসনে এগিয়ে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়েছে, এবং অন্যান্য ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলো ভাগ করেছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখা গেছে।
বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশটির জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) শুভেচ্ছা জানিয়েছে বেইজিং। শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এক বার্তায় জানায়, তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। অভিনন্দন বার্তায় দূতাবাস জানায়, চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে এবং দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে আগ্রহী। বার্তায় নির্বাচনের অবাধ ও সফল সম্পন্ন হওয়াকে প্রশংসা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেইজিং ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে এবং প্রতিরক্ষা ও চিকিৎসা খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়িয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের জন্য বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান এবং আগাম রমজান মোবারক বলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বার্তায় আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক সবসময় বজায় থাকবে। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এক্সে পোস্ট দিয়ে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, এই বিজয় বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন। দুই ভারতীয় নেতার এই শুভেচ্ছা বার্তা বাংলাদেশের নির্বাচনী ফলাফলের প্রতি আঞ্চলিক আগ্রহ ও দুই দেশের কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের ধারাবাহিকতাকে প্রতিফলিত করে।
২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব চীন সাগরে জাপানের কোস্টগার্ড কিউশু দ্বীপের নাগাসাকি জেলার কাছে চীনের একটি মাছধরা নৌযান জব্দ করেছে। জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে অবস্থানকালে থামার নির্দেশ অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে নৌযানটিকে ধাওয়া করে আটক করা হয়। এতে ক্যাপ্টেনসহ ১১ জন নাবিক ছিলেন, যাদের সবাইকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে কোস্টগার্ড জানিয়েছে। চার বছর পর এ ধরনের ঘটনা ঘটল; সর্বশেষ ২০২২ সালে চীনের নৌযান জব্দ করেছিল জাপান। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ তাইওয়ান নিয়ে টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে, আর জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইস্যুটি আবারও আলোচনায় এসেছে। এই জব্দ অভিযান জাপান-চীন সম্পর্কের সূক্ষ্ম সামুদ্রিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যকে নতুন করে সামনে এনেছে।
ফেনী জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ফেনী-১ আসনে বিএনপির রফিকুল আলম মজনু ১,১৯,৯০৪ ভোট পেয়ে জামায়াতের এসএম কামাল উদ্দিনকে পরাজিত করেন, যিনি পান ৯২,০০০ ভোট। ফেনী-২ আসনে বিএনপির জয়নাল আবেদিন ১,৩১,২১০ ভোটে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু পান ৮০,০৫৮ ভোট। ফেনী-৩ আসনে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু ১,৫৭,৪২৫ ভোট পেয়ে জামায়াতের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিককে (১,০৮,১৬০ ভোট) পরাজিত করেন। ফেনী-১ আসনে ভোট পড়েছে ৫৬.৪১ শতাংশ, ফেনী-২ আসনে ৫১.৮৭ শতাংশ এবং ফেনী-৩ আসনে ৫৪.৪৭ শতাংশ। তিনটি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত ‘হ্যাঁ-না’ ভোটে তিন আসনেই ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়েছে। এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ও ভোটগ্রহণ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ডাকযোগে ভোট দেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে ফেনীতে বিএনপির এই পূর্ণ জয় স্থানীয় নির্বাচনী চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, জামালপুরের পাঁচটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিটি আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীরা ছিলেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী। জামালপুর-১ থেকে জামালপুর-৫ পর্যন্ত আসনে বিএনপি প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ১ লাখ ৭২ হাজার ১২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে জামায়াতের নাজমুল হক সাঈদী পান ৯৩ হাজার ৬৬১ ভোট। জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে সুলতান মাহমুদ বাবু ৯৫ হাজার ৬৭৮ ভোটে জয়ী হন, জামায়াতের মো. ছামিউল হক পান ৬১ হাজার ৬৫৫ ভোট। জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ২ লাখ ৬ হাজার ২১৪ ভোটে জয়ী হন, জামায়াতের মুজিবুর রহমান আজাদী পান ৭৯ হাজার ৬০৭ ভোট। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ি) আসনে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৬ ভোটে জয়ী হন, জামায়াতের এডভোকেট আব্দুল আওয়াল পান ৪৪ হাজার ১৬১ ভোট। জামালপুর-৫ (সদর) আসনে এডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৪ ভোটে জয়ী হন, জামায়াতের মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার পান ১ লাখ ১৩ হাজার ২০১ ভোট। এই ফলাফলে জামালপুর জেলায় বিএনপির পূর্ণ বিজয় নিশ্চিত হয়েছে, যেখানে জামায়াত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান করেছে।
নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিজয়ী হয়েছে বলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি একটি আসন, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া), জয়ী হয়েছেন জাতীয় কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ। বিএনপি প্রার্থীরা নোয়াখালী-১ থেকে নোয়াখালী-৫ পর্যন্ত আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয় অর্জন করেন। নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৩ ভোটে জয়ী হন। নোয়াখালী-২ আসনে জয়ী হন জয়নুল আবদিন ফারুক ৮৩ হাজার ৯৮২ ভোটে। নোয়াখালী-৩ আসনে সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু ১ লাখ ৪১ হাজার ৩১ ভোটে, নোয়াখালী-৪ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহান ২ লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোটে এবং নোয়াখালী-৫ আসনে ব্যবসায়ী মো. ফখরুল ইসলাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮ ভোটে বিজয়ী হন। হাতিয়ায় এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদ ৯০ হাজার ১১৮ ভোটে জয়ী হন, বিএনপির মাহবুবের রহমান শামীম পান ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, হাতিয়ায় দলের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছয়জন শীর্ষ নেতা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘোষিত ফলাফলে জানানো হয়েছে, এই ছয়জন নবনির্বাচিত সংসদে এনসিপির প্রতিনিধিত্ব করবেন। ঢাকা-১১ আসনে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। রংপুর-৪ আসনে সদস্য সচিব আখতার হোসেন পান ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট। কুমিল্লা-৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ১ লাখ ৬০ হাজার ৮১ ভোটে জয়ী হন। নোয়াখালী-৬ আসনে যুগ্ম সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, কুড়িগ্রাম-২ আসনে যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০৩ ভোটে, এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোটে বিজয়ী হন। এই ফলাফল এনসিপির জন্য জাতীয় রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক প্রবেশের ইঙ্গিত দেয়, যা জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গঠিত দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় ভোট দেওয়ার কারণে স্ত্রী বিবি জহুরাকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইসমাইল হোসেন কাওসার। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী ভোট দিয়েছেন জানতে পেরে কাওসার রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিন তালাক উচ্চারণ করেন এবং তাকে ঘরে ঢুকতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কাওসারকে আটক করে মারধর করে, পরে জনতার ভিড় বাড়লে তিনি পালিয়ে যান। এলাকাবাসীর তথ্যমতে, প্রথমবার ভোটার হওয়ায় জহুরা তিন সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। কাওসার ঘুম থেকে উঠে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন। তিনি ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং এলাকায় উগ্র মেজাজের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা জানান, তিনি স্ত্রী ও শ্বশুরকে একাধিকবার মারধর করেছেন এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেন। বর্তমানে তিন সন্তান নিয়ে জহুরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন এবং সংসার চালাতে অন্যের বাড়িতে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।