ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তারা সবাই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। বৃহস্পতিবার ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় গণভোটের পাশাপাশি, যার মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা–৩ থেকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মাগুরা–২ থেকে নিতাই রায় চৌধুরী, বান্দরবান থেকে সাচিং প্রু এবং রাঙ্গামাটি থেকে দীপেন দেওয়ান। বিএনপি এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ছয়জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল, যাদের মধ্যে দুজন বাগেরহাট–১ ও বাগেরহাট–৪ আসনে পরাজিত হন। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একজন করে সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছিল, কিন্তু তারা দুজনই পরাজিত হন। মোট ৭৯ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে ২২টি নিবন্ধিত দল ৬৭ জনকে মনোনয়ন দেয় এবং ১২ জন স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হন। এই ফলাফল বিএনপির সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বে তুলনামূলক সাফল্যকে নির্দেশ করে, কারণ বিজয়ী চারজনই দলের মনোনীত প্রার্থী।
চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একমাত্র প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ২ হাজার ৯০৬ ভোট পেয়েছেন, যা মোট ভোটের ০.৫২ শতাংশ। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন এবং ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪টি। ঘোষিত ফলে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, আর জামায়াতের মো. আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট। চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ফলাফল নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ পেতে হয় জামানত রক্ষার জন্য। চট্টগ্রাম-৮ আসনে সেই সংখ্যা ছিল প্রায় ২৩ হাজারের বেশি। এনসিপি প্রার্থী এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ আসনে আরও দুই প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৪টিতে এবং জামায়াত ২টিতে জয় পেয়েছে।
২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনের সামনে সমর্থকদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় আপ্লুত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জুমার নামাজে যাওয়ার আগে তিনি গাড়ি থামিয়ে উপস্থিত জনতার সঙ্গে কথা বলেন, তাদের ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং নিজের জন্য দোয়া চান। জনতার অনেকে জানান, তারা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে তারেক রহমানের সঙ্গে থাকতে চান। এর আগের দিন অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠনের পথে রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ের ফলে তারেক রহমানই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই বিজয়ী হন। সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদর দপ্তর মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন এবং অর্থনীতিকে সচল রাখা। শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও আগামী সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে। মির্জা ফখরুল জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে বিজয়ী হয়েছে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করবে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তিনি বলেন, এটি একদিকে আনন্দময়, অন্যদিকে বিষাদময়, কারণ প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই বিজয় দেখতে পারেননি। তিনি নির্বাচনের পরিবেশকে উৎসবমুখর, স্বচ্ছ ও গণঅভ্যুত্থানের ফসল হিসেবে বর্ণনা করেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে আসবে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের অনানুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি ২০৯টি আসনে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে এবং এনসিপি ছয়টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ভোট শেষে এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের অপেক্ষা চলছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শপথের পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভার শপথের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সর্বাধিক আসনপ্রাপ্ত বিএনপি নতুন সরকার গঠন করবে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় সর্বাধিক আসনপ্রাপ্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর এলাকায় ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও শুক্রবার সকালে দুই দফায় সংঘর্ষে অন্তত তিন থেকে চারজন আহত হন এবং দুটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা থেকে শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথপুর ও পিয়ালীমারী কেন্দ্রে পূর্বে বিএনপি বেশি ভোট পেত। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপি প্রায় ১,৪০০ ভোট এবং জামায়াত প্রায় ১,০০০ ভোট পায়। ফলাফল ঘোষণার পর জামায়াত সমর্থকদের উল্লাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং অভিযোগ ওঠে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সংঘর্ষ বাধে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও পরদিন সকালে বাবর আলী ও তার চাচাতো ভাই সাদিকুল ইসলামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটে। পুলিশ জানায়, ভোটের কম ব্যবধান নিয়ে অসন্তোষ থেকেই হামলার সূত্রপাত হয়। বর্তমানে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে এবং প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ঝিনাইদহে শুক্রবার নির্বাচন-পরবর্তী তিনটি পৃথক সহিংস ঘটনায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলায় বিভিন্ন প্রতীকের সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কালীগঞ্জ শহরের নীমতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের সময় তিন বিএনপি নেতা আহত হন। গুরুতর আহত জাবেদ আলীকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডঙ্গা ইউনিয়নের ভিটেশ্বর গ্রামে ধানের শীষ ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থকদের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন, তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একই ইউনিয়নের খড়াশুনি গ্রামে কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থক কওসার বিশ্বাসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে সকালে কালীগঞ্জের খালকুলা গ্রামে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে তিনজন আহত হন। কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকটি দলের আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে চলছে। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা জানা গেছে। এর আগে শুক্রবার সকালে ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতের কার্যালয়ে নেতাকর্মীশূন্য পরিবেশ দেখা গিয়েছিল। তবে দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। সাংবাদিক ও দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়, ফলে কার্যালয় এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। বৈঠকের আলোচ্যসূচি বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। বৈঠক শেষে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ফলাফল স্থগিত এবং বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোতে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোঃ আমিনুল হক। শুক্রবার তিনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন, যেখানে তিনি তদন্তের মাধ্যমে পুনঃভোট গ্রহণের আহ্বান জানান। আবেদনে আমিনুল হক অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ এবং নির্বাচনী আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের আগের রাতে অর্থ বিতরণের ভিডিও প্রমাণ রয়েছে এবং পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ৪০টিরও বেশি কেন্দ্রে এজেন্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল শিট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ভোট গণনার আগেই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া এবং ভোট শুরুর আগেই সীল মারা ব্যালট বই পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, ঘোষিত ভোটের সঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসারদের সরবরাহকৃত ফলাফল ও ডাকযোগে প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যানে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি আরপিও-এর ৯১এ ধারা অনুযায়ী ফলাফল স্থগিত ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি করেছেন।
সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য নেতারা। এই শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানকে দেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই বিজয় কেবল একটি দলের নয়, এটি জনগণের বিজয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণ গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে। ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করে তারেক রহমান দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং প্রতিশ্রুতি দেন একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার।
যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে যে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তটি অবৈধ। লন্ডনে কয়েক মাসের আইনি লড়াই শেষে এই রায় ঘোষণা করা হয়, যা সংগঠনটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরির দায়ের করা বিচারিক পুনর্বিবেচনা আবেদনের ফল। বিচারপতি ভিক্টোরিয়া শার্প বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা বাকস্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকারের ওপর গুরুতর হস্তক্ষেপ সৃষ্টি করেছে এবং এটি আইনসম্মত ছিল না। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ওই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী সদস্যপদ গ্রহণ, প্রকাশ্যে সমর্থন বা প্রতীক প্রদর্শন করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড। নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাজ্যজুড়ে শতাধিক মানুষ সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। সরকার দাবি করে, গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে কর্মীরা দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করে প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি সাধন করেছিলেন। এই রায়ের ফলে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর থেকে সন্ত্রাসী তকমা প্রত্যাহার হয়েছে এবং সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা শুধু রাজনৈতিক নেতাদেরই নয়, তাদের বাড়িঘর ও পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দিচ্ছে। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ লেখেন, সারাদেশে এনসিপি ও জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে এবং তাদের পরিবারও হুমকির মুখে। তিনি বিজয়ী পক্ষকে তাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের শুরু যদি বিরোধী মতের মানুষদের নিপীড়নের মধ্য দিয়ে হয়, তবে তা জাতির জন্য লজ্জাজনক হবে। এই অভিযোগ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সহিংসতা ও ভয়ভীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে, যদিও সূত্রে কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া বা তদন্তের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ফোনে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন এবং শুভেচ্ছা জানান। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদী জানান, বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনি আনন্দিত। মোদী তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারেক রহমানের প্রচেষ্টায় তার সমর্থন ও শুভকামনা থাকবে। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে গভীরভাবে আবদ্ধ। ভারতের পক্ষ থেকে দুই দেশের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতি অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। এই বার্তায় নির্বাচনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থী শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ভোটারদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না এলেও জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক জায়গায় সামান্য ভোটে পিছিয়ে থাকা প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি চায়। দলীয় নেতা-কর্মীদের ত্যাগ ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই প্রচেষ্টা বৃথা যাবে না। জনগণের আস্থা অর্জনের যাত্রা থামবে না, বরং আরও সংগঠিত ও দক্ষ হতে হবে। পোস্টের শেষে তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিজয় মানে প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পরীক্ষা। তিনি গঠনমূলক সমালোচনা ও জনগণের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি আবাসিক ভবনে বৃহস্পতিবার রাতে বন্দুক হামলায় দুইজন নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরো ক্যাম্পাসে লকডাউন জারি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টা ১৫ মিনিটে হিউজেইন স্যুটস ছাত্রাবাস কমপ্লেক্সের একটি অ্যাপার্টমেন্টে গুলির ঘটনা ঘটে। তবে হামলার কারণ বা সন্দেহভাজন কেউ পলাতক আছে কি না—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় এবং আহত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রকাশ করা হয়নি। ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। এটি অরেঞ্জবার্গ শহরে অবস্থিত, যা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কলম্বিয়া থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে। অরেঞ্জবার্গে অবস্থিত ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য প্রতিষ্ঠিত আরেকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো ক্লাফলিন বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, তদন্তে সহায়তার জন্য সাউথ ক্যারোলাইনা ল’ এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং শুক্রবারের সব ক্লাস বাতিল করা হয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।