বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দাবি করেছে যে তারা দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয় অর্জন করেছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর শুক্রবার নির্বাচন ভবনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফলে দলটি নিশ্চিত হয়েছে যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে এগিয়ে রয়েছে। তিনি জানান, জনগণ আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব বিএনপি ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছে। তিনি আরও বলেন, অতীতের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হলেও ভোটার অনাগ্রহ পুরোপুরি কাটেনি। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন এই ফলাফলকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন এই নির্বাচন। বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টিতে বিজয়ী হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ একটি করে আসন পেয়েছে, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে। আমীন বলেন, আগামী বিএনপি সরকার জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রশাসন গঠনে কাজ করবে।
রংপুর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে পরাজিত পক্ষ ফলাফল মেনে নিতে না পেরে উন্মাদের মতো আচরণ করছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পীরগাছায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, হারাগাছের বিভিন্ন কেন্দ্রে তার দলের এজেন্টদের থাকতে দেওয়া হয়নি এবং বাইরে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা তার দলের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং প্রচার টেবিল ভাঙচুর করেছে। আখতার হোসেন বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার ভোট কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরাই ভরসার গাড়ি ভেঙে দোষ তার দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরাজয়ের পরও বিএনপি হামলা অব্যাহত রেখেছে, এতে এনসিপির চারজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৬৩টি কেন্দ্রে আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট এবং এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত সাত হাজার পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, নিহতদের মধ্যে ২১৪ জন সরকারি বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এইচআরএএনএ জানায়, তারা ইরানের ভেতরে থাকা কর্মীদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে এবং সীমিত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে তথ্য সংগ্রহে সময় লাগছে, ফলে মৃত্যুর সংখ্যা ধীরে ধীরে হালনাগাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান সরকার ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত একমাত্র সরকারি হিসাবে জানিয়েছে, বিক্ষোভসম্পর্কিত ঘটনায় তিন হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। অতীতে হতাহতের সংখ্যা কম দেখানো বা প্রকাশ না করার অভিযোগ রয়েছে তেহরানের বিরুদ্ধে, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদনটি এমন সময়ে এসেছে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে উত্তেজনা চলছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান, তবে সতর্ক করেছেন যে চুক্তি না হলে ইরানের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা বিরোধীদলীয় সমর্থক, তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। শুক্রবার রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, কারচুপি ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দেশে অস্থিতিশীল ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, রংপুর, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ছাত্রশিবির কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে প্রায় শতাধিক কর্মী আহত হয়েছে এবং ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও হুমকি অব্যাহত রয়েছে। ছাত্রশিবির নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে সহিংসতা বন্ধ ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। তারা সতর্ক করে বলে, হামলা অব্যাহত থাকলে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। বরিশাল-১ থেকে বরিশাল-৬ পর্যন্ত সব আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হন। ঘোষণার সময় বিজয়ী প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন এবং নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ছয়টি আসনের ফলাফল একত্র করতে সময় লাগায় ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় কোনো বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপি নেতারা এ বিজয়কে গণতন্ত্র ও জনগণের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, বরিশাল অঞ্চলের জনগণ আবারও প্রমাণ করেছে এটি বিএনপির ঘাঁটি এবং তারা গণতন্ত্রের পক্ষে রায় দিয়েছে।
থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল শুক্রবার ঘোষণা করেছেন যে তার নেতৃত্বাধীন ভূমজাইথাই পার্টি ৮ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে তৃতীয় স্থানে থাকা থাকসিন সমর্থিত ফিউ থাই পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৫০০ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে ভূমজাইথাই পার্টি ১৯৩টি আসনে জয়ী হয়েছে, সংস্কারবাদী পিপলস পার্টি পেয়েছে ১১৮টি আসন এবং ফিউ থাই পেয়েছে ৭৪টি আসন। এই জোট আনুতিনের দলকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেবে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার পর একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনের পথ খুলে দেবে। ফিউ থাই নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর আনুতিন জানান, তারা একসঙ্গে দেশ পরিচালনা করবেন। একসময় থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সফল দল ফিউ থাই এবার সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে, যা দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। ভূমজাইথাই পার্টি পূর্বে ফিউ থাই নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ ছিল, তবে গত জুনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রা ও সাবেক কম্বোডিয়ান নেতা হান সেনের ফোনালাপ ফাঁসের পর তারা জোট থেকে বেরিয়ে যায়। পরে আদালতের আদেশে পেতাংতার্নকে বরখাস্ত করা হয় এবং আনুতিন তার স্থলাভিষিক্ত হন। ডিসেম্বর মাসে তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে আগাম নির্বাচনের ডাক দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভূমিধস জয় অর্জন করেছে। মহানগর ও জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। ভোটারদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করলেও জামায়াতে ইসলামী মাত্র দুটি আসনে জয় পায়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নগরজুড়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ—কেন বিএনপি সফল হলো আর প্রচারে এগিয়ে থেকেও ভোটে পিছিয়ে পড়ল জামায়াত। জামায়াতপন্থি পেশাজীবী নেতা ইঞ্জিনিয়ার মানজেরি খোরশেদ আলম বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ এস আলম গ্রুপের দখল করা পাঁচটি ব্যাংক পুনরুদ্ধারের পর চাকরিচ্যুত কর্মীদের ক্ষোভ জামায়াতের বিপক্ষে গেছে। উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবী প্রার্থী দেওয়া হলেও তারা গণমুখী ছিলেন না। অন্যদিকে বিএনপির গণভিত্তিক রাজনীতি, আওয়ামী লীগের নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং তারেক রহমানের নতুন নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের আখতার কবির চৌধুরী বলেন, জোট ব্যবস্থাপনায় বিএনপি জামায়াতের চেয়ে দক্ষতা দেখিয়েছে এবং মধ্যপন্থি ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপিকে এখন জনগণের প্রত্যাশা সামলে এই জয়ের ধারা বজায় রাখতে হবে।
সিরিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-তানফ সামরিক ঘাঁটি থেকে অবশিষ্ট সেনা ইউনিট প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক ও জর্ডান সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ এরপর সিরীয় আরব সেনাবাহিনী গ্রহণ করেছে। সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরীয় ও মার্কিন পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এলাকা এখন নিরাপদ। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সিরীয়-ইরাকি-জর্ডান সীমান্তে সামরিক ইউনিট মোতায়েন শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই সীমান্তরক্ষী বাহিনীও মোতায়েন করা হবে। আমেরিকার কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেনা প্রত্যাহার সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি পূর্বনির্ধারিত শর্তের অংশ। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারদের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে এবং আইএসআইএল হুমকির জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। পেন্টাগন ২০২৫ সালের এপ্রিলে ঘোষণা করেছিল যে ২০১৯ সাল থেকে সিরিয়ায় মোতায়েন করা সেনারা প্রত্যাহার করা হবে, যা এখন বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০১৪ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় আইএসআইএলবিরোধী বৈশ্বিক অভিযানের কেন্দ্র হিসেবে আল-তানফ ঘাঁটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েক মাস আগে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা আইএসআইএলবিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার পর এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হলো।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একমাত্র প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ) আসনে তিনি মাত্র ২,৯০৬ ভোট পেয়েছেন, যা মোট ভোটারের ০.৫২ শতাংশ। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন এবং ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪টি। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এনসিপি প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। একই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুরুল আলম (১,১৮৮ ভোট) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী এমদাদুল হক (৮৭০ ভোট) জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৪টিতে জয় পেয়েছে এবং বাকি দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা।
লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ১১ দল সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জগতবের, জোংড়া, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন ও পাটগ্রাম পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্রে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৫টার পর থেকে একাধিক কেন্দ্রে ফলাফল প্রদানে গড়িমসি ও গণনায় কারসাজির অভিযোগও করেন তিনি। ঘোষিত ফলাফলের সঙ্গে প্রিজাইডিং অফিসারের গণনাপত্রের অসঙ্গতি এবং ব্যালটের পূর্ণ হিসাব প্রতিফলিত না হওয়ার বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে একটি বাতিল ভোটও না থাকা অস্বাভাবিক এবং এটি পরিকল্পিত কারসাজির অংশ হতে পারে। কিছু প্রিজাইডিং অফিসারের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে বলেও উল্লেখ করেন। আনোয়ারুল ইসলাম রাজু জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদনসহ ১৩৭টি কেন্দ্রের গণনা সিটের ফটোকপি জমা দেওয়া হয়েছে এবং হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার ভোট পুনর্গণনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পুনর্গণনা হলে প্রকৃত ফলাফল পরিবর্তিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ দ্বিগুণেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে মুন্সীগঞ্জ–২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নুরমহল আশরাফী ফলাফল ঘোষণা করেন। ফল ঘোষণার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন এবং বিজয়ী প্রার্থী আল্লাহ তাআলার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে আব্দুস সালাম আজাদ পান ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৪ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাজেদুল ইসলাম পান ৫৮ হাজার ৫৭৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কে. এম. বিল্লাল পান ১৩ হাজার ৩৮৭ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. নোমান মিয়া পান ২ হাজার ৮৫৭ ভোট এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আশিক মাহমুদ পান ৬৫১ ভোট। কে. এম. বিল্লাল, মো. নোমান মিয়া ও আশিক মাহমুদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৩৩ জন, এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯০ হাজার ২৩৯ এবং নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৯৪ জন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দল এনসিপি উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও বিজয়ী প্রার্থীর ব্যবধান ছিল দ্বিগুণেরও বেশি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর শুক্রবার বাদ জুমা সারা দেশে দোয়া ও শোকরানা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা যেমন বরিশাল, রাজবাড়ী, ভোলা, ময়মনসিংহ ও বগুড়ার মসজিদ ও দলীয় কার্যালয়ে এসব দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বরিশালের গৌরনদীতে কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে স্থানীয় বিএনপি শোকরানা দোয়া আয়োজন করে, রাজবাড়ীর আঞ্জুমানই কাদরিয়া মসজিদ ও ভোলার উত্তর বাজার মারকাজ জামে মসজিদেও একই ধরনের দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। রাজবাড়ীতে নবনির্বাচিত এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ শহীদ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। ভোলায় সাবেক এমপি মো. হাফিজ ইব্রাহিম মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, বিজয় উপলক্ষে কোনো আনন্দ মিছিল হবে না এবং তারেক রহমান দেশের উন্নয়নের জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে স্থানীয় বিএনপি আনন্দ মিছিল স্থগিত করে মসজিদে দোয়া কর্মসূচি পালন করে। দোয়া মাহফিলগুলোতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিএনপি নেতৃত্বের সুস্থতা এবং প্রয়াত নেতাদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী ফুলবাজারে ফুলচাষিরা ফুলের দামে ব্যাপক পতনের মুখে পড়েছেন। ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ফুলের চাহিদা থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের কারণে বিক্রি কমে গেছে। গত বছর যেখানে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছিল, এবার তা প্রায় ৫ কোটি টাকায় নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের কারণে পরিবহন বন্ধ থাকায় পাইকারি ক্রেতারা বাজারে আসতে পারেননি বলে চাষিরা জানান। চাষিরা জানান, গোলাপ প্রতি পিস ৭–৮ টাকা, গ্লাডিওলাস ৬–১২ টাকা, রজনীগন্ধা ৩–৫ টাকা, জারবেরা ৬–৮ টাকা, গাঁদা প্রতি হাজার ২০০–৩০০ টাকা, জিপসী প্রতি আটি ৪০–৫০ টাকা এবং চন্দ্রমল্লিকা একশ পিস ১৫০–২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ থাকায় স্থানীয়ভাবে ফুল সরবরাহেও সমস্যা হয়েছে। স্থানীয় ফুলচাষি সংগঠনগুলোর নেতারা জানান, জাতীয় নির্বাচন ও আসন্ন রোজার কারণে বাজারে মন্দা দেখা দিয়েছে এবং চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দুই ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বড় ভাই আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটের ফলাফলে মোস্তাফিজুর রহমান ২৩ হাজার ৭৮৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি ১ লাখ ৮ হাজার ২১০ ভোট পান, আর আজিজুর রহমান পান ৮৪ হাজার ৪২৩ ভোট। ফল ঘোষণার পর মোস্তাফিজুরের সমর্থকেরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোটার চয়ন পাটোয়ারী জানান, দুই ভাইয়ের লড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় তিনি খুশি এবং আশা করেন, তারা একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি বড় ভাইয়ের হাত ধরেই রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের উন্নয়নে কাজ করতে চান। তিনি আরও বলেন, জনগণ উন্নয়ন ও নীতির পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধি হয়ে কাজ করবেন। ভাইয়ের মধ্যে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ–১ (শৈলকূপা) আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি জামায়াত মনোনীত পরাজিত প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমানের বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। শৈলকূপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ফুলের তোড়া দেন এবং নিজের গলায় থাকা বিজয়ের মালা তার গলায় পরিয়ে দেন। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। মতিউর রহমান বলেন, নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়েছে এবং মানুষ নিরাপদে আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিজয়ী প্রার্থী শৈলকূপা ও ঝিনাইদহের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবেন। আসাদুজ্জামান বলেন, জয়-পরাজয় থাকলেও ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রাখতে হবে এবং ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ গড়তে হবে। নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভের পর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পরাজিত প্রার্থী মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট পেয়েছেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।