ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সাত সভাপতি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১), কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন (ঢাকা-১২), সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪), কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (পটুয়াখালী-২), সালাহউদ্দিন আইউবী (গাজীপুর-৪) এবং হাফেজ রাশেদুল ইসলাম (শেরপুর-১)। আরও নয়জন সাবেক সভাপতি নির্বাচনে অংশ নিলেও তারা পরাজিত হয়েছেন। মোট ৬৮ জন প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই ফলাফল দলটির নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রভাব ও উপস্থিতি আরও স্পষ্ট করেছে। নির্বাচনের এই ফল জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বুকারজয়ী ভারতীয় লেখিকা ও সমাজকর্মী অরুন্ধতী রায় বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে উৎসবের জুরি সদস্যদের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে জুরি সভাপতি উইম ওয়েন্ডার্সসহ অন্যদের বক্তব্যে তিনি মর্মাহত ও বিরক্ত হয়েছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জার্মান সরকারের গাজায় ইসরাইলের প্রতি সমর্থন বিষয়ে প্রশ্ন করলে ওয়েন্ডার্স বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকা উচিত। অরুন্ধতী রায় এই মন্তব্যকে ‘বিবেকহীন’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, গাজায় যা ঘটছে তা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরাইলের গণহত্যা। তার মতে, শিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে নীরব থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, গাজায় যুদ্ধ বন্ধে শিল্পীদের তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। ১২ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা এই উৎসবে অরুন্ধতীর ১৯৮৯ সালের চলচ্চিত্র ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ানস’ প্রদর্শিত হওয়ার কথা ছিল, তবে তিনি অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
ভারতের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে তাদের স্পিন আক্রমণকে। কলম্বোর শুকনো উইকেট স্পিনারদের জন্য সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, বিশেষ করে আবরার আহমেদ ও সাইম আইয়ুবের জন্য। দুজনই ব্যাক-স্পিন নির্ভর বোলার, ফলে তাদের ক্যারম বল উইকেটে স্কিড করে বোল্ড ও এলবিডব্লিউয়ের সুযোগ বাড়াবে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বৈচিত্র্যই মূল চাবিকাঠি, কারণ ব্যাটসম্যানরা দ্রুত শট খেলেন এবং ক্যারম বল পড়তে না পারলে সামঞ্জস্য করা কঠিন হয়। আবরার ও সাইম দুজনেরই বোলিংয়ে রয়েছে বৈচিত্র্য। আবরার এখন ক্যারম বলের অপব্যবহার করেন না, আর সাইম যোগ করেছেন সাইড-স্পিন, যা ভারতীয় স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর মতো। উসমান তারিকের ব্যতিক্রমী বোলিং অ্যাকশনকেও সম্ভাব্য চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের শুকনো উইকেটে এই স্পিন বিকল্পগুলো পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে।
লন্ডনের হাইকোর্ট রায় দিয়েছে যে ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ’-কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে নিষিদ্ধ করার ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তটি অবৈধ ও বেআইনি। শুক্রবার দেওয়া এই রায়ে সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরি একে গ্রুপের জন্য বড় জয় হিসেবে অভিহিত করেন। গত বছরের জুলাই মাসে ইসরাইল-সংযুক্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে প্রবেশপথ অবরোধ ও লাল রঙ স্প্রে করার মতো কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদ আদালতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞাকে ‘অসংগতিপূর্ণ’ বলা তিনি মেনে নিতে পারেন না। সরকার জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। আদালত জানিয়েছে, আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে এবং এটি মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকারে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হস্তক্ষেপ। লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের রায় সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে এবং সংগঠনের কার্যক্রমে সমর্থন জানানো এখনো ফৌজদারি অপরাধ। সরকারের আপিলের সুযোগ নিয়ে শুনানি হবে ২০ ফেব্রুয়ারি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দেশের সব সিটি করপোরেশনে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের আমবাগান শহীদ ওয়াসিম স্মৃতি পার্কে বসন্ত উৎসবের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা পালিয়ে যান এবং অন্তর্বর্তী সরকার করপোরেশনগুলো বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ করে। আদালতের নির্দেশে তিনি মেয়রের দায়িত্ব পেলেও বর্তমানে চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ড কাউন্সিলরবিহীন অবস্থায় চলছে, ফলে নাগরিকরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। নিয়ম অনুযায়ী মেয়র হিসেবে তার মেয়াদ আরও প্রায় চার বছর বাকি থাকলেও জনগণের স্বার্থে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, জনপ্রতিনিধি ছাড়া নাগরিকসেবা কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে সরকার চাইলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব, এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
আমেরিকার নাগরিক ও শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গুরপাতওয়ান্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন ভারতীয় নাগরিক নিখিল গুপ্ত। ৫৪ বছর বয়সী গুপ্ত বিচারক সারাহ নেটবার্নের আদালতে স্বীকার করেন, ২০২৩ সালে তিনি পান্নুনকে হত্যার জন্য এক ঘাতককে ভাড়া করেছিলেন। আদালতে তিনি জানান, ঘাতককে ১৫ হাজার ডলার প্রদান করেছিলেন, তবে যাকে তিনি ঘাতক ভেবেছিলেন, তিনি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পান্নুন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘শিখ ফর জাস্টিস’-এর নেতা, যা ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে স্বাধীন খালিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচার চালায়। আমেরিকার অ্যাটর্নির দপ্তর জানায়, ২০২৩ সালের জুনে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ বিমানবন্দরে নিখিল গুপ্তকে আটক করা হয় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ মে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে তিনি ২০ থেকে ২৪ বছরের কারাদণ্ড পেতে পারেন। এফবিআই জানায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার কারণেই পান্নুনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সংস্থাটি আরও জানায়, গুপ্ত ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের সঙ্গে কাজ করতেন, যিনি বর্তমানে পলাতক। এই মামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও অটোয়া অভিযোগ করেছে, তাদের ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, তবে নয়াদিল্লি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১২ ফেব্রুয়ারি) খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ড. রেজা কিবরিয়া অনানুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলের মনোনীত প্রার্থী মুক্তাদির সিলেট-১ আসনে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট। বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ আসনে ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম পান ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট। খন্দকার মুক্তাদির ও রেজা কিবরিয়া দুজনই তাঁদের বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন। মুক্তাদির ১৯৯১ সালের বিএনপি সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মালিকের পুত্র। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী ও কূটনীতিক শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে। শাহ এএমএস কিবরিয়া জাতিসংঘের এসকাপের সাবেক মহাসচিব ছিলেন এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় তিনি নিহত হন।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। শনিবার দুপুরে হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়াপাড়ায় জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের নিজ বাসভবনে এ অনুষ্ঠান হয়। তিনি বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। দুই নেতা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন, যা নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর গণতান্ত্রিক সৌজন্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনীতিকরা এ ঘটনাকে রাজনৈতিক সম্প্রীতির ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে রাজশাহী-৩ আসনে টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। অধ্যাপক আজাদ নির্বাচিত সংসদ সদস্যের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন, আর মিলন বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও জনগণের কল্যাণই তাদের অভিন্ন লক্ষ্য। চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে শফিকুল হক মিলন ১,৭৬,৩১৮ ভোটে বিজয়ী হন এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আবুল কালাম আজাদ পান ১,৩৭,৯২৭ ভোট। এই সৌজন্যমূলক আচরণকে স্থানীয়রা রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে ১৯ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট না পেলে ৫০ হাজার টাকার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এবার বাজেয়াপ্ত জামানতের মোট পরিমাণ দাঁড়াবে সাড়ে নয় লাখ টাকা। বরিশাল-১ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দুজন, বরিশাল-২ আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন, বরিশাল-৩ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজন, বরিশাল-৪ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দুজন, বরিশাল-৫ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজন এবং বরিশাল-৬ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। এসব প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাসদ, গণঅধিকার পরিষদ, এনপিপি ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থীরা রয়েছেন। ফলাফলটি বরিশাল অঞ্চলে ছোট রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সীমিত ভোটপ্রাপ্তি এবং তাদের আর্থিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে শত শত প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, রাজশাহী, গাজীপুর, কুমিল্লা, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলার প্রতিবেদনে জানা গেছে, বহু প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের ন্যূনতম অংশ না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সিরাজগঞ্জে ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জন এবং কুমিল্লায় ৮৩ জনের মধ্যে ৫৭ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয় বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। দিনাজপুর, গাইবান্ধা, পিরোজপুর, বরগুনা, পাবনা ও অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও জামানত হারিয়েছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এ তালিকায় রয়েছেন। বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তের এ ফলাফল ভোটের অসম বণ্টন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা প্রতিফলিত করছে।
ইসরাইলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অন্তত ৫০ হাজার ৬৩২ জন সদস্যের ইসরাইলি নাগরিকত্বের পাশাপাশি এক বা একাধিক বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে। স্বচ্ছতা বিষয়ক সংগঠন ‘হাটজ্লাচা’ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পর সেনাবাহিনী সম্প্রতি এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১২ হাজার ১৩৫ জন সৈন্যের রয়েছে মার্কিন নাগরিকত্ব, এরপর ৬ হাজার ১২৭ জনের ফরাসি এবং ৫ হাজার জনের রাশিয়ান নাগরিকত্ব। এছাড়া ৩ হাজারেরও বেশি সৈন্যের রয়েছে জার্মান ও ইউক্রেনীয় নাগরিকত্ব, এবং ১ হাজারেরও বেশি সৈন্যের রয়েছে ব্রিটিশ, রোমানিয়ান, পোলিশ, ইথিওপিয়ান ও কানাডিয়ান নাগরিকত্ব। আরও জানা গেছে, ৪ হাজার ৪৪০ জন সৈন্যের দুটি বিদেশি নাগরিকত্ব এবং ১৬২ জনের তিনটি বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, সেনাবাহিনী স্পষ্ট করেনি এই সদস্যরা সক্রিয়, রিজার্ভিস্ট নাকি উভয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ইসরাইলি গণমাধ্যমের হিসাবে, দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার সক্রিয় সৈন্য এবং ৪ লাখ থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ রোববার ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যা ৭টায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শফিকুর রহমানের বাসায় এবং রাত ৮টায় বেইলী রোডে নাহিদ ইসলামের বাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপি মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং আগামী দিনে দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা চান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯ আসনে জয় পায়। মামলাজনিত কারণে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং এনসিপি ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই সাক্ষাৎগুলো নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহযোগিতা ও ঐক্যের বার্তা জোরদার করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ঘাঁটি রাজশাহীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বড় ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) ও রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে দলটি পরাজিত হয়েছে, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমান ও ডা. আব্দুল বারি সরদার যথাক্রমে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ এবং ১ লাখ ১৮ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। রাজশাহী-২, ৩, ৫ ও ৬ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয় পেলেও প্রত্যাশিত ব্যবধান অর্জন করতে পারেননি। তৃণমূল নেতারা জানান, সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলীয় বিভক্তি এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অভাবের কারণে এই ফল হয়েছে। অনেক কর্মী ভোটের দিন মাঠে সক্রিয় ছিলেন না, ফলে ভোটের হার কমে যায়। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে এই ফলাফল দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার হোসেন ও তৌফিক আহম্মদের মতে, এই ফল প্রমাণ করে ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তারা সতর্ক করেছেন, সংগঠন পুনর্গঠন ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার না করলে ভবিষ্যতে আরও আসনে এমন ফল হতে পারে।
নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাসাবাড়ি, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। জামায়াতের দাবি, নির্বাচনে ব্যাপক জয়ের পর ক্ষমতায় আসতে যাওয়া বিএনপি নেতাকর্মীরাই এসব সহিংসতার জন্য দায়ী। ভোটের রাতেই অন্তত ২১টি সহিংসতার তথ্য তুলে ধরে দলটি জানায়, এসব ঘটনায় সাধারণ ভোটার ও সমর্থকরাও আক্রান্ত হয়েছেন, যা তৃণমূলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান। শুক্রবার রাতে ১১ দলীয় জোটের বৈঠকে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে সোমবার বাদ আসর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, ফেনী, দিনাজপুর, খুলনা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ-বিরামপুর, হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এ পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১৯৯টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। রিটার্নিং অফিসের তথ্যমতে, মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ১০ হাজার ৬১২ জন, ভোট প্রদান করেন ৪ লাখ ৭ হাজার ২৭৭ জন এবং বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১ হাজার ১৮৮টি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম পান ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পাওয়ায় পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আবদুল্লাহ (৪১৮ ভোট, ফুটবল প্রতীক), শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ শাহ (১৫২ ভোট, ঘোড়া প্রতীক), বাসদের আব্দুল হাকিম (৪৪৯ ভোট, মই প্রতীক), জাতীয় পার্টির রেজাউল হক (২৬৮৯ ভোট, লাঙ্গল প্রতীক) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুর আলম সিদ্দিক (১৬৫৯ ভোট, হাতপাখা প্রতীক)।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।