যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বাহরাইনে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি মার্কিন বাহিনীর নয়, ইরানের নিয়ন্ত্রণে। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ছত্রছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা প্রণালি নিয়ে আলোচনা করেছেন। গারিবাবাদি সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, হরমুজের সংজ্ঞা ইরানের নিয়ন্ত্রণে, সেন্টকমের অধীনে নয়। তিনি বলেন, বাহরাইনের সামরিক শীর্ষ সম্মেলন পারস্য উপসাগরে আইনি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। তার মতে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে হস্তক্ষেপ বন্ধ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। তার এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র জানায় যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, লেবানন ও সিরিয়াসহ ১২টি দেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা বাহরাইনে বৈঠক করে প্রণালির মাধ্যমে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দোহা বৈঠকে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক লেক লুসার্ন সম্মেলনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত হয়েছিল। কাতারি কর্মকর্তারা জানান, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন শেষে আলোচনাগুলো পুনরায় শুরু হবে এবং দ্রুত পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরান বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানান, অবরুদ্ধ থাকা ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি অংশ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় ব্যবহারের বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না এবং এমনটি হলে চলমান সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ স্মারকের শর্তাবলি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তেল আবিবকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর যদি সেই নির্দেশ মানা না হয়, তাহলে ইরান উপযুক্ত জবাব দেবে। আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের জনগণ ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এর আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নিয়ে মন্তব্য করেন যে ‘মৃত্যু অবধারিত’। কাৎজের এই মন্তব্যকে আরাগচি ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেন। এই বক্তব্য বিনিময় ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান রক্ষায় প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মহিষকুড়া এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫০০ কেজি জেলি পুশ করা বাগদা ও গলদা চিংড়ি জব্দ করেছে। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর চিংড়ি বিক্রি রোধে নেওয়া হয়। র্যাব সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চিংড়ির ওজন বাড়াতে তরল জেলি পুশ করছিলেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিপিসি-১ কোম্পানি কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিয়াদ ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিউল ইসলাম। অভিযানে বিপুল পরিমাণ তরল জেলি ও সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জনসম্মুখে জব্দকৃত চিংড়িগুলো ধ্বংস করা হয়, কারণ এগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
মাদারীপুরের শিবচর হয়ে চলা ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথে সিগন্যাল ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও ক্যাবল চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব চুরির কারণে সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ছে, ফলে রেলকর্মীরা বিকল্প ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনা করছেন। এতে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব ঘটছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, মার্চ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত পদ্মা ও শিবচর স্টেশনে একাধিকবার ট্র্যাক সার্কিটের যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। এসব যন্ত্রাংশ হারানোর ফলে ব্লক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে এবং ট্রেন নিয়ন্ত্রণে জটিলতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রেলকর্মীরা রেলপথে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত পুলিশ টহলের দাবি জানিয়েছেন। রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ভাঙ্গা জংশন থেকে পদ্মা স্টেশন পর্যন্ত দীর্ঘ পথের কারণে টহল দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তবে চুরি প্রতিরোধে টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সামাজিক বন বিভাগের মূল্যবান গাছ প্রতিদিন রাতে কেটে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব গাছ বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুরের বিভিন্ন করাতকলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, কাঠ ব্যবসায়ীরা অসাধু বন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এসব গাছ কিনে নিচ্ছেন এবং জব্দ করা কাঠও অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। বিট কর্মকর্তা মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি বনরক্ষা কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে যোগসাজশে জব্দ করা কাঠ বিক্রি করেছেন এবং তার সহযোগিতায় জব্দকৃত গাছের গোড়া উধাও হয়েছে। বনরক্ষা কমিটির সদস্যরা জানান, অবৈধভাবে কাটা একটি আকাশমনির গাছ জব্দের অনুরোধ করলেও তিনি ব্যবস্থা নেননি। কর্মকর্তারা বিষয়টি অন্য দপ্তরে পাঠানোর কথা বলেন, আর মজিবুর রহমান জনবল সংকটকে দায়ী করেন। বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনজুমান সুলতানা জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমএইচ-৬০এস সিহক হেলিকপ্টার বুধবার জরুরি অবতরণ করেছে। এতে এক মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন এবং তিনজন আহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং ঘটনাটি কোনো বৈরী হামলার কারণে ঘটেছে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম স্কোয়াড্রন জানিয়েছে, নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ ও সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ থেকে মোতায়েন করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাগরে হেলিকপ্টারের জরুরি অবতরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ পানিতে নামার সময় ভারী ওজনের কারণে উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বিক্ষিপ্ত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার পয়ারী ইউনিয়নে খরিয়া নদীর ওপর বাঁশের সেতু ভেঙে পড়ায় ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গড়পয়ারী ও গুপ্তেরগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী এই সেতুটি স্থানীয়দের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি ছিল এলাকাবাসীর একমাত্র পারাপারের পথ। বর্তমানে সেতুর একাংশ ভেঙে যাওয়ায় ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে খেয়া নৌকার পরিবর্তে বাঁশ ও চাউগাছের ফালি দিয়ে এই অস্থায়ী সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটি নড়বড়ে হওয়ায় প্রায়ই ভেঙে পড়ে এবং গ্রামবাসীকে বছরে কয়েকবার নিজস্ব অর্থে মেরামত করতে হয়। কৃষিপণ্য উৎপাদনে প্রসিদ্ধ গুপ্তেরগাঁও গ্রামের কৃষকদের বাজারে যেতে অতিরিক্ত পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, খরিয়া নদীর ওপর ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ ও সংযোগ সড়ক উন্নয়নের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তিনি বরাদ্দকৃত অর্থ অন্যত্র নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
টাঙ্গাইলের মধুপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে কমিউনিটিভিত্তিক বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প চার বছরেও শেষ হয়নি। ২০২১–২২ অর্থবছরে নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সাবমার্সিবল পাম্প, গভীর নলকূপ ও পাইপলাইন স্থাপনের জন্য প্রায় এক কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারকে ৬০ শতাংশ বিল প্রদান করা হয়েছে এবং তিনি এখন লাপাত্তা। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক স্থানে বোরিং করা নলকূপ অকেজো, কিছু মোটর নষ্ট এবং পানির ট্যাংক বা পাইপলাইন স্থাপনই হয়নি। কোথাও কোথাও নির্ধারিত পরিবারের পরিবর্তে মসজিদ ও মাজারে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, চার বছর আগে টাকা ও কাগজপত্র জমা দিলেও এখনো তারা পানি পাচ্ছেন না। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও ঠিকাদারের অবহেলার কারণে কাজ সম্পূর্ণ হয়নি, তবে দ্রুত শেষ করার জন্য একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের স্থবিরতা স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়িয়েছে এবং সরকারি প্রায় দেড় কোটি টাকার অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় নেশা ছাড়ার আশায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে নিজেকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন জাহানাবাদ গ্রামের মাদকাসক্ত জহুরুল ইসলাম। টানা তিন দিন ইউএনও কার্যালয়ে একই আবেদন নিয়ে আসার পর বুধবার (১ জুলাই) ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে পাঁচ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেন। পরে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এ দণ্ড প্রদান করেন। জহুরুল ইসলাম এর আগে মাদক মামলায় ছয় মাস কারাভোগ করলেও নেশা ছাড়তে পারেননি। থানার ওসি জানান, তিনি নিজেই ইউএনও কার্যালয়ে এসে বারবার অনুরোধ করেন যেন তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, জহুরুল ইসলামের পরিবারের এক সদস্যও তার সঙ্গে এসে একই অনুরোধ করেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইন অনুযায়ী দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র সান ফ্রান্সিসকোতে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে। ৬৫ মিনিটে ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগান লাল কার্ড দেখায় দলটি ১০ জনে নেমে গেলেও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে জয় নিশ্চিত করে। মালিক টিলম্যান ও বালোগানের গোলে পূর্ণ দর্শকভরা স্টেডিয়ামে জয় উদযাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও ছন্দে আধিপত্য দেখায় স্বাগতিকরা। ২৪ মিনিট পর্যন্ত ৭৮ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে টিলম্যানের শুরু করা আক্রমণ থেকে বালোগান গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়া সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও এডিন জেকোর চোট ও সুযোগ নষ্টে ব্যর্থ হয়। লাল কার্ডের পরও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ দৃঢ় থাকে। আগামী ৭ জুলাই শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সালের কোয়ার্টার ফাইনালের সাফল্য ছুঁয়ে দেখার স্বপ্নে এগিয়ে যাচ্ছে স্বাগতিকরা।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে আইএইএর কোনো পরিদর্শনের অধিকার নেই। এই তথ্য ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে। গালিবাফ আরও জানান, বর্তমানে আইএইএ পরিদর্শকদের কেবল বুশেহর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও তেহরান রিঅ্যাক্টরে প্রবেশাধিকার রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে আইএইএর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও একই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। ফলে আইনিভাবে এই প্রবেশাধিকার বন্ধ রয়েছে। এই মন্তব্য আসে ঠিক সেই সময়, যখন আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের আওতায় জাতিসংঘের পরিদর্শকদের ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশাধিকার পেতে হবে। গালিবাফের প্রতিক্রিয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে।
দুবাইয়ে আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৬ সালের ১২ জুন দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল শাখা তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশকে জানায়। এরপর ১৯ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৪৪ পৃষ্ঠার নথি পাঠানো হলেও এখনো কোনো সাড়া মেলেনি। ওই নথিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার তথ্য, আদালতের আদেশ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও অর্থ পাচারের অভিযোগসহ বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুবাই সাধারণত বড় ব্যবসায়িক স্বার্থসম্পন্ন ব্যক্তিদের হস্তান্তর করে না, ফলে বেনজীরকে ফেরানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কূটনৈতিক চ্যানেলেও চেষ্টা চলছে, যেখানে সরকার জানাচ্ছে যে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোলের রেড নোটিসের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। এদিকে দুবাইয়ে তার ঘনিষ্ঠ মহল, বিশেষ করে সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদ ও ব্যবসায়ী ফাইজুল ইসলাম, মুক্তির তদবির চালাচ্ছেন। বেনজীরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। দুর্নীতি তদন্ত শুরু হলে তিনি ২০২৪ সালের মে মাসে দুবাই পালিয়ে যান।
কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনাকে ‘সঠিক দিকের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক গর্ডন গ্রে। তিনি আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই বৈঠক প্রমাণ করেছে যে দুই পক্ষই চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আন্তরিক। গ্রের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আলোচনা ইতিবাচক হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের সামনে এখনো বেশ কিছু জটিল ইস্যু রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন সবচেয়ে তাৎক্ষণিক স্বার্থ হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়া, কারণ দীর্ঘ যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনায় দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এই আলোচনাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পথে একটি সতর্ক কিন্তু ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও উভয় দেশের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ বৈশ্বিক হালাল বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর এবং এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সফরে হালাল শিল্পে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের এই বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার ও একক সনদের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মালয়েশিয়া ১৯৭০-এর দশক থেকে ধাপে ধাপে একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। দেশটির হালাল বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ১১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মধ্যে খাদ্য ও পানীয় খাতের অংশ ৮৫ বিলিয়ন ডলার। জাকিম সংস্থা হালাল সনদ প্রদান করে এবং হালাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে। বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই কৃষিভিত্তিক। আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি ও একক সনদ নিশ্চিত করা গেলে এবং একটি হালাল অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা করা গেলে রপ্তানি বহুগুণে বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।