রাজধানীর পুরান ঢাকার আগামাসি লেন, আগা সাদেক রোডে অবস্থিত একটি জুতার কারখানায় মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সাততলা ভবনটির চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা তালহা বিল জসিম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ তদন্ত শেষে জানানো হবে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ফায়ার সার্ভিসের কাজে সহায়তা করেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার দল জাতীয় সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে জনগণ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে নবনির্বাচিত জামায়াত এমপিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। শপথের আগে সংসদে দলের ভূমিকা নির্ধারণে এই সভার আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, ন্যায়ের কাজে সহযোগিতা ও অন্যায়ে বাধা প্রদানই হবে দলের মূলনীতি। ডা. শফিকুর রহমান জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে কিছু অনিয়ম থাকলেও সামগ্রিকভাবে ভোট শান্তিপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, সরকারের ভালো কাজে জামায়াত সহযোগিতা করবে, তবে জাতির ক্ষতি হলে বিরোধিতা করবে। দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠনে সরকারি দলের ভূমিকা অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে সরকার ও বিরোধীদলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গণতন্ত্রের সুস্থধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত জনগণের পাশে থাকবে এবং নির্বাচনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে।
সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বিএনপি মনোনীত নবনির্বাচিত এমপি এম এ হান্নানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ‘আমার দেশ’-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সংসদ সদস্য দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বৈষম্যহীনভাবে নাসিরনগরের উন্নয়নে কাজ করবেন এবং সকল নাগরিকের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সৈয়দ আবদাল আহমদ বিএনপির প্রয়াত মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসূফের উদাহরণ টেনে বলেন, একজন প্রকৃত জননেতা হতে হলে দলীয় সীমার বাইরে উঠে সকলকে সমানভাবে দেখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউসূফ তার এলাকার যেকোনো ব্যক্তিকে আইনগত সহায়তা দিতে কখনো কার্পণ্য করেননি। ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে নবনির্বাচিত এমপি সচেষ্ট হবেন বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফিজ উদ্দিন এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার সৈয়দ শাফিনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানান, সরকার যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের সঙ্গে কাজ করছে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করতে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে পারস্পরিক শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করার কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও জানান, জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স, রেলওয়ে সরঞ্জাম, গ্রিন টেকনোলজি ও উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্যে যুক্ত হতে পারবে। এতে ঝুঁকি কমবে এবং শিল্পোন্নত দেশগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চীনের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে। তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে এবং নীলফামারিতে এক হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণে দুই দেশ একমত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সততা ছাড়া দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠন সম্ভব নয়।
জুলাই জাতীয় সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার চার মাস পর শর্তসাপেক্ষে এই সনদে সই করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এনসিপির পক্ষে সনদে স্বাক্ষর করেন। সনদ সইয়ের পর আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আহ্বানে তারা শর্তসাপেক্ষে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং কোনো ভিন্নমত ছাড়াই সেই রায় কার্যকর করার শর্তে তারা সনদে সই করেছেন। আখতার হোসেন আরও জানান, এনসিপি আশা করছে আগামীকাল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে। দলটির দাবি, প্রথমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন, এরপর জাতীয় সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হিন্দুসম্প্রদায়সহ একাধিক পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে থানায় দুইটি অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং এর আগে সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রিয়াজ মার্কেট এলাকায় ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করেন। অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী এতে অংশ নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভোটের দিন থেকে ফল ঘোষণার পর পর্যন্ত এনসিপির সমর্থকরা এলাকায় ভয়ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফল ঘোষণার পর অন্তত ১০টি বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয় এবং গবাদিপশুর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। একাধিক নারী ভুক্তভোগী জানান, বিজয় মিছিলের সময় বাড়িতে ঢুকে পুরুষদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত ৯টা ১৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সীমাহীন দুর্নীতি, অসততা ও অনিয়ম জাতির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে। তাই নতুন বাংলাদেশকে সেই পথ থেকে সরে এসে নিয়ম মানা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রতিজ্ঞা নিতে হবে। গত ১৮ মাসে গণতন্ত্র, কল্যাণমূলক শাসনব্যবস্থা, বাকস্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার চর্চা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ইউনূস। তিনি সাম্প্রতিক গণভোট ও নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশকে ইতিহাসে স্মরণীয় বলে অভিহিত করেন এবং জয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষকেই অভিনন্দন জানান। তার মতে, হার-জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। ড. ইউনূস দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ১৮ মাসের উপদেষ্টা সরকারের দায়িত্ব শেষ হবে।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির ওপর গুরুতর এবং দীর্ঘস্থায়ী চাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ দেখা যায়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মৃতপ্রায় এই ইস্যুটিকে পুনরায় বিশ্ব মনোযোগের কেন্দ্রে আনতে সক্ষম হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মনোযোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তার বক্তব্যে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা রোহিঙ্গা সংকটকে পুনরায় বৈশ্বিক আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির তিনটি মূল ভিত্তি—সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের মর্যাদা—পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বা অন্য দেশের নির্দেশনানির্ভর নয়। তার ভাষায়, বর্তমান বাংলাদেশ নিজের স্বাধীন স্বার্থ রক্ষায় আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইউনূস জানান, বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বাংলাদেশ অর্জন করেছে। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলাই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম লক্ষ্য, এবং সে ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান জোরদারের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।
২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, একটি সমাজ তখনই উন্নত হয় যখন নারীরা নিরাপদ, সম্মানিত ও সমান অধিকারপ্রাপ্ত হন। তিনি উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অর্থনীতি, শিক্ষা ও নেতৃত্বে সমানভাবে অংশ নিতে পারেন। ইউনূস বলেন, নারীর অগ্রযাত্রা ছাড়া নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি জানান, নারী ও শিশুর সুরক্ষায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করা হয়েছে। এসব আইনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। গণভোট শেষে দেওয়া ভাষণে ইউনূস বলেন, নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বিজয়ী ও পরাজিত উভয় প্রার্থীকেই অভিনন্দন জানান এবং বলেন, হার-জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তিনি জানান, নতুন সরকার শিগগিরই দায়িত্ব নেবে, যা ১৮ মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটাবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির বিদায়ী ভাষণে ১৬ বছরের স্বৈরাচারি শাসনামলকে জাতির জন্য “গভীর ও বেদনাদায়ক শিক্ষা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এই সময়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ভয়াবহ নিপীড়ন, মামলা–হামলা, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। ইউনূস উল্লেখ করেন, এই অভিজ্ঞতা জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় যেন ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরশাসক মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত না হয় এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা ফিরে না আসে। তিনি বলেন, কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকার এই সংস্কার কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। ইউনূস জানান, একাধিক ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং কিছু মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার শুরু হয়েছে, এবং কয়েকটি মামলার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, বিচারিক প্রক্রিয়া নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিদায়ী ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, তার সরকার প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি ও ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি বলেন, এসব সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার সংহত হয়েছে, বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি রোধে ভিত্তি তৈরি হয়েছে। ইউনূস জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যায়, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। তিনি তরুণ আন্দোলনকারী, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনবান্ধব পুলিশ গঠনে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়ন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদারে কাঠামোগত সংস্কার আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করে মানবাধিকার সুরক্ষার ভিত্তি মজবুত করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ১৮ মাস পর দায়িত্ব থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, তার প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা, যা ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। ইউনূস উল্লেখ করেন, যারা আগে দেশকে লুট করত তারা অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে গেছে বা আত্মগোপনে চলে গেছে, ফলে প্রশাসনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গণভোট ও নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষকেই অভিনন্দন জানিয়ে ইউনূস বলেন, হার-জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তিনি জানান, উভয় পক্ষই মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক করে পেয়েছে, যা পরাজিতদের জন্যও আস্থার প্রতীক। ইউনূস জানান, আগামী দিনে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, এর মাধ্যমে ১৮ মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটবে।
২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্টের ঘটনাকে স্মরণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি দিনটিকে জাতির মহান মুক্তির দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ছিল অপরিসীম আনন্দের মুহূর্ত। দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিলেন বলেও তিনি জানান। ইউনূস বলেন, তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে “দৈত্যের গ্রাস” থেকে মুক্ত করেছিল, তবে তখন রাষ্ট্রযন্ত্র সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছিল। তিনি জানান, অভ্যুত্থানের পর ছাত্রনেতারা দেশ পরিচালনার জন্য একটি সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় তিনি বিদেশে ছিলেন এবং প্রথমে দায়িত্ব নিতে রাজি হননি, কিন্তু জাতির প্রতি কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে ছাত্রনেতারা তাকে রাজি করান। তিনি বলেন, গত ১৮ মাস তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় এসেছে। ড. ইউনূস ৫ আগস্টকে জাতির ইতিহাসে এক অনন্য মুক্তির মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেই দিনের চেতনা থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রকে সচল ও স্থিতিশীল করার কাজ শুরু করেছিল। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এ কোনো লিখিত, ভাইভা বা প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা না দিয়েই যোগ দিতে এসে এক চাকরিপ্রার্থী আটক হয়েছেন। সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুকড়া পাড় গ্রামের ৩২ বছর বয়সী সুজা মিয়া প্লাম্বার পদে যোগ দিতে আসেন। কর্মকর্তারা তার কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন, তার এডমিট কার্ডে ‘মিলন মিয়া’ নামে অন্য এক ব্যক্তির ছবি রয়েছে, যিনি তার হয়ে সব পরীক্ষা দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে সুজা মিয়া জানান, তিনি মিলন মিয়াকে চেনেন না এবং শ্রীবরদীর মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাত লাখ টাকায় চাকরি পেয়েছেন। পরে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। আটকের খবর পেয়ে তার ভায়রা ভাই সজল মিয়া ও শাশুড়ি ব্রি সদর দপ্তরে আসেন। সজলের বাড়ি ব্রির মহাপরিচালকের গ্রামের বাড়ির পাশে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সজল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ বা দালালচক্রের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে পুরো নিয়োগ জালিয়াতি চক্র উদ্ঘাটনের কাজ চলছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।