২০০৯ সালের বিডিআর ট্রাজেডি সংক্রান্ত বিস্ফোরক মামলায় প্রথমবারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে আসামি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন জানান, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও স্থানীয় নেতাদের নাম উঠে এসেছে। আইনে তাদের অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় বর্তমানে প্রায় ৮০০ জন আসামি ও ১,২০০ জন সাক্ষী রয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষ্য অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। মামলাটি এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ২০২৪ সালের আগস্টের পর প্রায় ২০০ আসামি জামিন পেয়েছেন। ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০১৩ সালে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের সাঁতা গ্রামে সোমবার রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। রাত প্রায় ৯টার দিকে আরজু মিয়ার বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহীদ মিয়ার রান্নাঘরের চুলার আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা বিদ্যুতের তারের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শহীদ মিয়া, আরজু মিয়া, আজিদ মিয়া, আনসার মিয়া ও রূপন মিয়ার বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। খবর পেয়ে জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা দেয়, তবে স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরের চুলার আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
‘টক্সফ্রি লাইফ ফর অল’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এক ইউরোপীয় গবেষণায় বোস, প্যানাসনিক, স্যামসাং ও সেনহাইজারের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের হেডফোনে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেছে। ৮১টি ইন-ইয়ার ও ওভার-ইয়ার হেডফোন পরীক্ষা করে গবেষকরা বিপিএ (বিসফেনল–এ) ও বিপিএস (বিসফেনল–এস) নামের হরমোন ব্যাহতকারী রাসায়নিক শনাক্ত করেছেন। গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় এসব হেডফোন ব্যবহারে ক্যানসারসহ নানা গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৯৮ শতাংশ হেডফোনে বিপিএ এবং তিন-চতুর্থাংশের বেশি নমুনায় বিপিএস রয়েছে। কিছু হেডফোনে রাসায়নিকের মাত্রা প্রতি কেজিতে ৩১৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে, যা ইউরোপীয় কেমিক্যালস এজেন্সির নিরাপদ সীমা ১০ মিলিগ্রাম প্রতি কেজির তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, হেডফোনের প্লাস্টিক অংশ থেকে এসব রাসায়নিক ধীরে ধীরে বের হয়ে ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ভোক্তাদের সুরক্ষায় প্রকল্পটির প্রধান এমেসে গুলিয়াস ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের দ্রুত হরমোন-ব্যাহতকারী সব রাসায়নিক নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করলে এসব উপাদান শরীরে শোষিত হতে পারে।
সৌদি একাডেমিক ড. আহমদ আল-তুওয়াইজরি এক নিবন্ধে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আবুধাবির শাসকরা জায়নবাদীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পুরো অঞ্চলকে ‘ট্রয়ের ঘোড়া’য় পরিণত করেছেন, যার মাধ্যমে বৃহৎ ইসরাইল প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধটি তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের প্রতিবাদের পর সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলপন্থি গোষ্ঠীগুলো লেখককে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। পরে নিবন্ধটি ফের প্রকাশিত হয় এবং দাবি করা হয় এটি কখনোই সরানো হয়নি। এই প্রকাশনা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আমিরাতের বিরুদ্ধে প্রথম প্রকাশ্য সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দুই মিত্র দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতভেদের ইঙ্গিত দেয়। আল-তুওয়াইজরি বলেন, গাজা ও ইয়েমেনের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গভীর আঞ্চলিক বিরোধ তৈরি হয়েছে। তার মতে, ইসরাইলের আচরণে সৌদি আরব অপমানিত বোধ করছে এবং এখন দেশটির ভাষা ও অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে। ঘটনাটি রিয়াদ ও আবুধাবির সম্পর্কের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে সৌদি আরব তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভার বলদাখাল এলাকায় মঙ্গলবার ভোররাতে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তিনতলা ভবনের নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন মনোয়ারা (৬০), জিল হক (৩৭), উম্মে হুমায়রা (৩০) ও শিশু হুররাম (২)। সকাল ছয়টার দিকে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মনোয়ারার শরীরের ২ শতাংশ, জিল হকের ৫৪ শতাংশ, উম্মে হুমায়রার ৬৫ শতাংশ ও হুররামের ৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পিয়ার হোসেনের মালিকানাধীন ওই ভবনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ছিল এবং প্রতি মাসে একটি চক্র গ্যাসের ভাড়া আদায় করত। দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর মো. এরশাদ হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। দাউদকান্দি পৌর প্রশাসক মো. রেদওয়ান ইসাম বলেন, গ্যাস লাইন লিকেজের বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
সিরিয়ার কুর্দি সশস্ত্র সংগঠন পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে অস্ত্র ত্যাগ করে সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাহার এবং তুরস্কের কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) বিলুপ্তির পর এই চুক্তি ওয়াইপিজির অবস্থান দুর্বল করে দেয়। এর ফলে সিরিয়ায় কুর্দিদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান ঘটছে এবং দামেস্কের কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব আরও সুসংহত হচ্ছে। এই পরিবর্তন প্রতিবেশী ইরাকের জন্য নতুন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সিরিয়ার সঙ্গে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগ করা ইরাক এখন পশ্চিম সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ, বন্দি স্থানান্তর এবং কুর্দি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় সতর্ক হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিরিয়া থেকে হাজার হাজার ইসলামিক স্টেট (আইএস) বন্দি ইরাকে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে। ওয়াইপিজি-দামেস্ক চুক্তি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি করেছে। ইরাক এখন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সিরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের চাতরা জেলার সিমারিয়া এলাকায় সাতজন আরোহী নিয়ে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে সবাই নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত বিমানটি রাঁচি থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে উড্ডয়নের প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিমানটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বাড়িয়াতু পঞ্চায়েত এলাকার একটি জঙ্গলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, বিমানে থাকা সাতজনই প্রাণ হারিয়েছেন। রাঁচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার জানান, উড্ডয়নের পর বিমানটি কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই রাডার থেকে হারিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া বইছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রোগীর স্বজনেরা জানান, সড়কপথে ঝুঁকি থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শুভ কর্মকার বলেন, বাংলাদেশ এখন প্রযুক্তির এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। স্কুলের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পেশাজীবী পর্যন্ত সবাই এআই ব্যবহার করছেন, কিন্তু এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন নন। লেখকের মতে, এআই জ্ঞান সহজলভ্য করলেও অতিনির্ভরতা মানুষের সৃজনশীলতা, নিজস্বতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি নষ্ট করছে। তিনি উল্লেখ করেন, যন্ত্র তথ্য সাজাতে পারে, কিন্তু মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও সামাজিক বাস্তবতা অনুকরণ করতে পারে না। এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষকে নিজের চিন্তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে, কারণ এআই প্ল্যাটফর্মগুলো অনেক সময় তথ্য অপব্যবহার করছে। লেখক পরামর্শ দেন, তথ্য যাচাই করে ব্যবহার করা উচিত এবং এআইকে সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, বিকল্প হিসেবে নয়। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, চিন্তার স্বাধীনতা ও মানবিক বুদ্ধিমত্তা রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে সচেতনভাবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতায় নেতৃত্ব দিতে পারে।
পেরুর আরেকিপা অঞ্চলে বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে অভিযানের সময় একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির বিমানবাহিনী সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিমানবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে চারজন ক্রু সদস্য এবং আরও ১১ জন আরোহী ছিলেন। উদ্ধারকারীরা আরেকিপার চালা শহরের কাছে, প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে, ঘটনাস্থলে তাদের মরদেহ শনাক্ত করেন। রুশ-নির্মিত এমআই-১৭ মডেলের হেলিকপ্টারটি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি ইকা অঞ্চলের পিসকো শহর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। সাম্প্রতিক বন্যায় আরেকিপা অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দুর্গতদের সহায়তায় সামরিক বাহিনী ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি, তবে ঘটনাটি উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত বাহিনীর ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন যে দেশটির সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে এবং এর মধ্যে ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ উন্নয়নই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘ডিফেন্ডার অব দ্য ফাদারল্যান্ড ডে’ উপলক্ষে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন। বক্তব্যে তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত সেনা সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন। পুতিন জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার আলোকে রুশ সেনা ও নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হবে। বিজ্ঞান ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর সব শাখার যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও কৌশলগত বোমারু বিমান নিয়ে গঠিত নিউক্লিয়ার ট্রায়াড রাশিয়ার নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এই মন্তব্য আসে। মস্কো জানিয়েছে, তারা উত্তেজনা বাড়াতে প্রথম পদক্ষেপ নেবে না এবং ওয়ারহেড সংখ্যা বাড়াবে না, যদি যুক্তরাষ্ট্রও একই অবস্থান বজায় রাখে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে আগামী ১২ মার্চ সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়ী হয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। অধিবেশনের শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়ে শপথ নেবেন, এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে। সংসদ সচিবালয় ও বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী এই সংসদ শুরু থেকেই উত্তপ্ত হতে পারে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া না নেওয়া, নির্বাচনের পর সহিংসতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি ও বিরোধী উভয় দলই সক্রিয় ভূমিকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিরোধী দল তাদের সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সংসদে কার্যকর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে জনগণের স্বার্থে কাজ করবেন। সরকারি দলও আশা করছে, এবার সংসদ বয়কটের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ গঠিত হবে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর পার হলেও চট্টগ্রামে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্তে তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। তাদের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তদন্তের গতি আরও কমে গেছে এবং কোনো দপ্তর থেকে আর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামে মোট ১৫১টি মামলার মধ্যে মাত্র একটি মামলার প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো এখনো তদন্তাধীন। নিহত ছাত্রনেতা ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত, ওমর নুরুল আবছার ও মাহবুবুল আলম মাসুমের পরিবার জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেউ কেউ খোঁজ নিয়েছিল, কিন্তু নতুন সরকার আসার পর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, এসব মামলায় ২১ হাজার ৯০৬ জন নামীয় এবং অন্তত ৩০ হাজার অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তদন্তের অগ্রগতি না থাকায় তাদের প্রিয়জনদের হত্যার বিচার হয়তো আর হবে না।
পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দিয়ে তার স্থলে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় এ পরিবর্তন হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেড় বছরের দায়িত্বকালে তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। তার নেতৃত্বে ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল, ২১টি মামলার বিচার চলমান এবং তিনটির রায় ঘোষণা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২৬ জন দণ্ডিত হয়েছেন। বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রসিকিউটরও একইভাবে ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ আর ঘটবে না। নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বিচারকাজে সহযোগিতা করবেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করবেন। তার প্রত্যাশা, নির্বাচিত সরকারের অধীনে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ আরও গতিশীল হবে।
সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিধিমালায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সূত্র জানায়, ভোটারের ঘোষণাপত্র বা অঙ্গীকারনামা এবং একাধিক খামের বিধান তুলে দেওয়া হবে। ঘোষণাপত্রে ব্যালট নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর থাকায় ভোটারের পছন্দ প্রকাশ পাওয়ার ঝুঁকি ছিল, যা ভোটের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ করেছিল। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ভোটার নিবন্ধনের সময় মুখচ্ছবির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় ঘোষণাপত্রের প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, একাধিক খাম পাঠানোর প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইসির কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ ভোটের তুলনায় পোস্টাল ব্যালটে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা কঠিন ছিল, কারণ ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে ভোটারের পছন্দ শনাক্ত করা সম্ভব হতো। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ঘোষণাপত্র ছিল অপ্রয়োজনীয় একটি বিধান, যা ভোটারের গোপনীয়তার ঝুঁকি বাড়িয়েছিল।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সোমবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললে এক কর্মকর্তা ‘ছোটভাই আর্গুমেন্ট বেশি করতেছো’ মন্তব্য করে তাকে লাঠিপেটা করেন এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এ ঘটনায় বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। ঘটনার পর বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা এ ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানান এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। তারা বলেন, পুলিশ রাস্তায় বিচার করতে পারে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনা বাড়বে। শাহবাগ থানার ওসি ও মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।