যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, দিনের হামলায় তিনি হতাশ এবং এটি সক্রিয় ও গুরুত্বসহকারে চলা আলোচনাকে ক্ষুণ্ন করেছে। তার মতে, এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বিশ্ব শান্তির উদ্দেশ্য কোনোটিরই উপকারে আসবে না। তিনি নিরপরাধ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রার্থনা করেন। আলবুসাইদি যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা তোমাদের যুদ্ধ নয়।” তার এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে যখন ইরান থেকে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের খবর এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এক কমান্ডার নিহত হওয়ার দাবি প্রকাশিত হয়েছে। ওমানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, নতুন সংঘাত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। ওমানের এই অবস্থান দেশটির মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার ধারাবাহিকতা তুলে ধরে, যা সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ অনেক আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সব রাজনৈতিক দলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জীবন দিয়েছে, নির্যাতন ও গুম-খুনের শিকার হয়েছে, এবং এই ত্যাগের মাধ্যমেই জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। তারেক রহমান রাজনৈতিক নেতাদের আহ্বান জানান, তারা যেন আল্লাহর নামে শপথ নেন যে ভবিষ্যতের সব কাজ দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নিবেদিত থাকবে এবং এ কাজে আল্লাহর রহমত কামনা করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মিনাবের মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জবাব দেবে ইরানের জনগণ। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের ওই বিদ্যালয়ে ৫৩ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আরাগচি এক্সে পোস্টে জানান, দিনের আলোতে শিক্ষার্থীভর্তি ভবনে বোমা ফেলা হয়। তিনি বলেন, নিহতরা সবাই নির্দোষ শিশু, যাদের নির্বিঘ্নে হত্যা করা হয়েছে। আরাগচি আরও উল্লেখ করেন, এই হামলা উত্তরহীন থাকবে না। আলজাজিরা ও আইআরএনএ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ইরানে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং সরকার এটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখছে। তবে আরাগচি বা সরকারি সূত্র কেউই এখনো প্রতিক্রিয়ার নির্দিষ্ট রূপরেখা বা সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিতে হামলা চালিয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র মোজতবা খালেদি হামলার ব্যাপকতা নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন, এখন পর্যন্ত ২০টি প্রদেশ হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযানের সঙ্গে জড়িত সব স্থাপনা এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যেসব স্থান থেকে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা পরিচালিত হয়েছে বা ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে. মার্কি ইরানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হামলাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই হামলা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়েছে এবং এটি সব আমেরিকানদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। মার্কি সতর্ক করেন যে ট্রাম্পের এই অবৈধ পদক্ষেপ বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে, যা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে ইরানের পারমাণবিক হুমকিকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরেছেন। গত জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে এক হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা হয়েছে, তবুও তিনি ইরানের হুমকিকে আসন্ন বলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এই তথ্য আল জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। মার্কির এই মন্তব্য ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সমালোচনার ধারাকে আরও জোরদার করেছে।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা এবং ইরানের পাল্টা জবাবের পর শনিবার বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি তেল ও বাণিজ্য কোম্পানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রয়টার্সকে এক বাণিজ্য কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে তাদের জাহাজগুলো কয়েক দিন আটকে থাকবে। আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে সরবরাহ স্থগিতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী কোনো বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান সরকার আইনসঙ্গতভাবে ফ্যাসিস্টদের বিচার করতে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। শনিবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। মন্ত্রী বলেন, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে, তাদের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। তিনি আরও জানান, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যে সাংবিধানিকভাবে দেওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি আরও বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সহিংসতার ক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে এবং প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে একাধিক এয়ারলাইন ফ্লাইট স্থগিত করেছে। উইজ এয়ার ৭ মার্চ পর্যন্ত ইসরাইল, দুবাই, আবুধাবি ও আম্মানগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। লুফথানসা শনিবার ও রোববার দুবাই, তেল আবিব, বৈরুত ও মাস্কাটে যাওয়া-আসার সব ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। কেএলএম আমস্টারডাম থেকে তেল আবিবগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। ওমান এয়ার বাগদাদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে এবং রাশিয়া ইরান ও ইসরাইলগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করেছে। কুয়েত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইরাক সব আগমন ও প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল করে আকাশসীমা বন্ধ করেছে, ইসরাইলও একই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ফ্লাইট স্থগিত ও আকাশসীমা বন্ধের পদক্ষেপগুলো সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহীম সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। উমরাহ হজ পালন শেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশে ফেরার কথা ছিল তার। তবে জেদ্দা থেকে দুবাইগামী এমিরেটস ফ্লাইটটি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আবার জেদ্দায় ফিরে আসে। ফলে তিনি এবং আরও অনেকে বর্তমানে জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। এর ফলে অঞ্চলের বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েন। মুশফিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি উমরাহ সম্পন্ন করেছেন এবং এখন জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন। তিনি কবে দেশে ফিরতে পারবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
ইরানের দক্ষিণ হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় পাঁচজন ছাত্রী নিহত হয়েছে। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানজুড়ে হামলা চালায় বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, হামলাটি মিনাবের ওই বিদ্যালয়ে সংঘটিত হয়। হামলার পর তেহরান পাল্টা আক্রমণ চালায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করেছে। বাহরাইন, কাতার, জর্ডান ও কুয়েতে হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। ঘটনাটি ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে, যদিও চলমান অভিযানের বিস্তারিত তথ্য এখনো সীমিত।
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট পরিচালনা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ইরান হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়া এবং সর্বশেষ ফ্লাইট সময়সূচী জানতে সরাসরি তাদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতও সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে, যার ফলে বিমান সংস্থাগুলো সতর্কতামূলকভাবে ফ্লাইট বাতিল, রুট পরিবর্তন বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাইসহ দুবাই থেকে পরিচালিত সব ফ্লাইট ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল করা হয়েছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে, যা আঞ্চলিক বিমান চলাচলে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
ইরানি বাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাহরাইনের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর সার্ভিস সেন্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে, তবে হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মানামায় পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের কাছে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য আসেনি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস জানিয়েছে, “ট্রুথফুল প্রমিজ ৪” অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা ইরানে চালানো আগের হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে হামলাটি ঘটে। অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আমিরাত, কাতার ও কুয়েত জানিয়েছে, তারা নিজ নিজ আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক সংঘাতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ নেতারা নিরাপদে আছেন এবং খামেনিকে তেহরান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, হামলায় ইরানের কিছু সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা হতাহত হয়ে থাকতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা হুমকি দূর হবে এবং ইরানিদের তাদের শাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করার সুযোগ দেবে। হামলার পর ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ও নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি সুস্থ আছেন। ইরানি সরকারি সূত্রগুলো ইসরাইলের সফল হামলার দাবি অস্বীকার করেছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তেহরানে তাদের সাম্প্রতিক হামলায় এমন স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যেখানে ইরানের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সমবেত হয়েছিলেন। আইডিএফের দাবি, এই অভিযান মাসের পর মাস ধরে পরিকল্পিত ছিল এবং ইরানের শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ ব্যক্তিরা একত্রিত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। আইডিএফ আরও জানায়, রাতের পরিবর্তে সকালে হামলা চালানোর ফলে ‘কৌশলগত চমক’ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার ফলাফল এখন মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই তথ্য বিবিসির বরাত দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরাইলি হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
শনিবার সকালে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হামলাটি তেহরানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের বাড়িতে চালানো হয়। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদ ধসে পড়েছে এবং চারপাশ কালো হয়ে গেছে, যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়। সূত্র হিসেবে আলজাজিরার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হয়েছেন এবং ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এই হামলা ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।