ইরানের রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র মুজতবা খালেদি জানিয়েছেন, দেশের ৩২টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি প্রদেশে হামলা হয়েছে। নাগরিকদের হামলাস্থল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা শুরু করে। শুধু হরমোজগান প্রদেশেই দুটি পৃথক হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অধিকাংশ প্রদেশে এই হামলা ছড়িয়ে পড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার বড় ধরনের বৃদ্ধি নির্দেশ করে। রেড ক্রিসেন্টের জরুরি সতর্কতা দেশজুড়ে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তুলে ধরেছে। ইরান জাতিসংঘকে একটি চিঠি পাঠিয়ে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যা তেহরানের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদনকে নির্দেশ করে।
ইরানের লামের্দ শহরের একটি জিমনেসিয়ামে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় ১৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। হামলার সময় শিশুরা খেলছিল এবং অনেকে ব্যায়াম করছিলেন। অন্যদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে কাতারভিত্তিক আলজাজিরা জানিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তা আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দিনের আলোতে শিক্ষার্থীভর্তি ভবনটিতে বোমা ফেলা হয়েছিল এবং নিহতরা সবাই নির্দোষ শিশু। তিনি বলেন, ইরানের জনগণ এর জবাব না দিয়ে থাকবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলী ফরহাদি জানান, শনিবার তিনটি মিসাইল হামলায় বহু নাগরিক আহত হয়েছেন। রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইরানের ৩২টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২০টিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণের পর সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থায় কুয়েত, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো। একই সঙ্গে জরুরি যোগাযোগের জন্য হটলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। কাতারের দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সামরিক স্থাপনার আশপাশ এড়িয়ে চলতে এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। প্রবাসীদের নগদ টাকা, কাতার আইডি, হেলথ কার্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার ও শুকনো খাবার সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কাতারের আইন মেনে চলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও আপলোড না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোও একই ধরনের সতর্কবার্তা জারি করেছে। তারা প্রবাসীদের খোলা জায়গায় অবস্থান না করা এবং বড় কোনো সমাবেশে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জাতীয় নির্বাচনের পর আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে দলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির যাত্রা গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু হয়েছে এবং দলটি তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে জয়লাভ করলেও দলটি আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথম বছরে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এনসিপি একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, এনসিপি ফ্যাসিবাদ বিলোপ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করছে। নাহিদ ইসলাম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে দুদক কাজ করবে। শনিবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি দপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের একটি টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম উন্নয়ন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং নাগরিক সেবা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল ও পৌরসভার উন্নয়ন এবং কৃষি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের খাদ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীদের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আহ্বান জানান, দুর্নীতির অভিযোগে সময় নষ্ট না করে দেশের সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হতে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, ফলে বাসিন্দারা দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের আকাশে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগত হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় ছিল। এই হামলা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘের মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলা জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর প্যারাগ্রাফ লঙ্ঘন করে এবং এটি ইরানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসনের উদাহরণ। ইরান জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে এবং আগ্রাসন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অঞ্চলের শত্রু বাহিনীর সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর মার্কিন সম্পদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে আলজাজিরা জানিয়েছে। শনিবার সকালে চালানো ওই আক্রমণের পর ইরান সরকার নিশ্চিত করেছে যে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে, যেখানে মার্কিন বিমান ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সব ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিশালী আঘাতে আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ইসরাইলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই ঘটনাগুলো ইরান ও তার প্রতিপক্ষদের মধ্যে সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও মার্কিন মিত্রতার স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮৫ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। শনিবারের এই হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের অংশ, যা ইরানজুড়ে সহিংসতা বাড়িয়ে তুলেছে। তাসনিম সংবাদ সংস্থা মিনাবের বিচার বিভাগকে উদ্ধৃত করে মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেছে, এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হামলাকে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এই অপরাধের জবাব দেওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অন্যদিকে, মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানের পূর্বাঞ্চলে আরেকটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো ইরানের এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের জুনের সংঘাতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যখন একইভাবে বহু বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল।
১২ দিনের যুদ্ধ শেষে নয় মাস পর আবারও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবারের এই সমন্বিত হামলায় ইরানি কর্মকর্তা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। দুই দেশই জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য তেহরানে সরকার পরিবর্তন। হামলার সময় জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলছিল, যেখানে ওমানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর বিন হামাদ আলবুসাইদি জানান, ইরান সমৃদ্ধ পদার্থের মজুদ শূন্যে নামিয়ে আনার এবং আইএইএ-র পূর্ণ যাচাইয়ের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে। ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর ওপর। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে দেখছেন। ২০২৫ সালের ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনে ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদিও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দীর্ঘমেয়াদি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মুখোমুখি হবে না। পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল, আলোচনার পরবর্তী ধাপ সোমবার শুরু হওয়ার কথা।
সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ত্যাগ করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি এই সরকারি বাসভবনে ছিলেন। প্রায় ১৯ মাস পর শনিবার বিকেলে তিনি ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে যমুনা ত্যাগ করেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ড. ইউনূস যমুনা ছেড়েছেন। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে যমুনা ছাড়ার সময় কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাকে বিদায় জানান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে থাকবেন। তার পরবর্তী পরিকল্পনা বা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৬ সালের ১ মার্চ পাল্লেকেলেতে সুপার এইট পর্বে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কাকে ৫ রানে হারায়। সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামানের ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটিতে পাকিস্তান ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ২১২ রান তোলে। ফারহান করেন ১০০ রান এবং ফখর ৮৪। শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলশান মাদুশঙ্কা ৩৩ রানে তিন উইকেট এবং দাসুন শানাকা ৪২ রানে দুই উইকেট নেন। জবাবে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে ২০৭ রানে থামে, যেখানে শানাকা অপরাজিত ৭৬ এবং পাভান রত্নানায়েকে ৫৬ রান করেন। জয় পেলেও পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। রানরেটের সমীকরণে তাদের শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের মধ্যে থামাতে হতো, যা সম্ভব হয়নি। পাকিস্তানের হয়ে আবরার আহমেদ ২৩ রানে তিন উইকেট নেন। ফলে সুপার এইট পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় দলটিকে। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সাহিবজাদা ফারহান, যিনি টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেন।
সরকার সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্প্রতি ৫১টি মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাঠানো এই চিঠিতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নিজ নিজ খাতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিবদের এক মতবিনিময় সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বাধিক সমর্থনপ্রাপ্ত দলের নির্বাচনি ইশতেহার এখন জাতীয় প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জানাতে বলা হয়েছে।
ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান, নরওয়ে ও বেলজিয়াম পৃথক বিবৃতিতে হামলার তীব্র সমালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের বিরুদ্ধে “অযাচিত হামলা”র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দেন। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ বলেন, ইসরাইল হামলাটিকে প্রতিরোধমূলক দাবি করলেও এটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কারণ প্রতিরোধমূলক হামলার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি থাকা প্রয়োজন। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট বলেন, ইরানি জনগণকে তাদের সরকারের সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হবে না এবং আগের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিন দেশই সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শনিবার রাজধানীর আবাহনী ক্রীড়া মাঠে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে। অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এক বছরে এনসিপি নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এবং এখন তাদের লক্ষ্য পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। তিনি জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকেই এনসিপির জন্ম, যার শেকড় ছাত্র ও সামাজিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়। তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান এবং তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলন থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ পর্যন্ত এনসিপির পথচলা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। অতিথি হিসেবে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এনসিপির উত্থানকে দেশের রাজনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টিকারী বলে অভিহিত করেন এবং তরুণদের অংশগ্রহণকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি সংসদকেন্দ্রিক আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গঠনের আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে পরিচালিত অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত কারণে কিছু মার্কিন সেনা বা কর্মী হতাহত হতে পারেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কর্মীদের ঝুঁকি কমাতে প্রশাসন সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ইরানি শাসকগোষ্ঠী হত্যার চেষ্টা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, সাহসী আমেরিকান বীরদের জীবন হারাতে হতে পারে, যা যুদ্ধের স্বাভাবিক বাস্তবতা। তিনি আরও বলেন, এই অভিযান কেবল বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি একটি মহৎ লক্ষ্য। তার এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এসেছে যখন ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, অঞ্চলে চলমান সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।