মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকার সবাইকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং সীমিত মজুতের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে পর্যাপ্ত মজুত থাকার সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও সারাদেশে পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ লাইন, বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক পাম্প মালিক নিরাপত্তার কারণে পাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন। বিপিসি জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ১০ দিনের ডিজেল, ১৭–১৮ দিনের অকটেন, ১৩ দিনের পেট্রোল, ৯০ দিনের ফার্নেস অয়েল ও ৫২ দিনের জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন জাহাজে তেল এসেছে এবং আরও কয়েকটি পথে রয়েছে। সরকার রমজান ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি আমদানি করছে। এদিকে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে বিকল্প আমদানির উৎস খোঁজার নির্দেশনা পেয়েছেন। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের আগের যুদ্ধ-পরিহারী নীতির বিপরীতে এক নতুন আক্রমণাত্মক কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন দেশে শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক স্থাপনায়, ফলে হামলা-পাল্টা হামলার এক বিপজ্জনক চক্র শুরু হয়েছে। কিছু আরব রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ালেও ইরান কার্যত একা লড়ছে, আর চীন, রাশিয়া ও জাতিসংঘের আহ্বান উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত হরমুজ প্রণালির তেল পরিবহন ব্যাহত করতে পারে, তেলের দাম বাড়াতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, সামরিক শক্তি নয়, বরং রাজনৈতিক সমঝোতা ও আঞ্চলিক ঐক্যই স্থায়ী শান্তির ভিত্তি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪০ জনের বেশি শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর দ্বিতীয় সপ্তাহেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের পর তেহরানের আত্মসমর্পণের আশা করেছিল ওয়াশিংটন ও তেলআবিব, কিন্তু বাস্তবে ইরান অব্যাহতভাবে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই যুদ্ধ কৌশলগতভাবে ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। ইরান সরাসরি জয় নয়, বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে প্রতিপক্ষকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে। দেশটির বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তায় ইরান প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই যুদ্ধকে অবৈধ বলেছেন এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎস সতর্ক করেছেন, ইরানকে প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্র বানানো উচিত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত ওয়াশিংটনের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিযানে পরিণত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইসরাইলের কাছে ২০ হাজারের বেশি বোমা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলার। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিয়মিত কংগ্রেসীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে এই অনুমোদন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার ফলে প্রশাসন সাধারণত যে কংগ্রেসীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, তা এ ক্ষেত্রে বাতিল করা হয়েছে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ইসরাইল সরাসরি বাণিজ্যিক বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রায় ২৯৮ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ কিনবে। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরাইল একই ধরনের ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে থাকতে পারে। প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলমান যুদ্ধের সময় এসব অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়। এই বিক্রির সিদ্ধান্ত মানবিক প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র জরুরি পরিস্থিতির যুক্তি দেখিয়ে অনুমোদন দিয়েছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানকেই দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এটা ইরানই করেছে।” ট্রাম্প আরও জানান, এই ঘটনায় রাশিয়ার কোনো সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বা রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে—এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। কুর্দি বাহিনীর প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না কুর্দি যোদ্ধারা ইরানে প্রবেশ করুক। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানে এমন একজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসা, যিনি দেশটিকে যুদ্ধের পথে ঠেলে দেবেন না। মিনাবের এই বোমা হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে এ ঘটনার প্রকৃত দায়ী কে—তা নিয়ে এখনো বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানকেই দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এটা ইরানই করেছে।” ট্রাম্প আরও জানান, এই ঘটনায় রাশিয়ার কোনো সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বা রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে—এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। কুর্দি বাহিনীর প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না কুর্দি যোদ্ধারা ইরানে প্রবেশ করুক। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানে এমন একজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসা, যিনি দেশটিকে যুদ্ধের পথে ঠেলে দেবেন না। মিনাবের এই বোমা হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে এ ঘটনার প্রকৃত দায়ী কে—তা নিয়ে এখনো বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।
শনিবার রাতভর ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে তেল আবিবকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার সকালে টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলার পর ইসরাইলের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের তুলনায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও প্রায় পুরো রাতজুড়েই হামলা অব্যাহত ছিল। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং হামলার প্রভাব সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ইরানি বাহিনীর হাতে মার্কিন সেনা আটক হওয়ার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার সেন্টকমের এক মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান দাবি করেছিলেন যে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে। সেন্টকম মুখপাত্র ইরানের এই দাবির কড়া সমালোচনা করে বলেন, এটি ইরানি শাসকগোষ্ঠীর চিরাচরিত মিথ্যাচার ও প্রতারণার আরেকটি উদাহরণ। এই পাল্টা বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও উস্কে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি কোথায় বা কখন ঘটেছে সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তেহরানের সাম্প্রতিক শান্তির বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নস্যাৎ করেছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর সদিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং শর্ত দিয়েছিলেন যে, যদি কোনো প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত না হয়, তবে ইরানও তাদের ওপর আক্রমণ চালাবে না। এর আগে পেজেশকিয়ান ঘোষণা করেছিলেন, কোনো দেশ থেকে হামলা না এলে তেহরানও সেই দেশকে লক্ষ্যবস্তু করবে না। কিন্তু আরাঘচির দাবি, ট্রাম্প প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে এই ইতিবাচক বার্তাটি নস্যাৎ করেছেন। পেজেশকিয়ানের বিবৃতির কিছুক্ষণ পরেই ইরান একাধিক হামলার শিকার হয় এবং পাল্টা আঘাত হানে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ঘটনাটি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যখন ইরানের ড্রোন ও মিসাইল আটকাতে ছোড়া প্রতিরক্ষা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ তার গাড়ির ওপর পড়ে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি রোববার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে দুবাইয়ের বারশা এলাকায় ঘটে। এর আগে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছিল, তারা দুবাই মারিনায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার পটভূমিতে ইরান ইসরাইল ও জর্ডানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে এবং দেশটির অভ্যন্তরে হাজারো বেসরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শক্তিগুলোর সংঘাতের প্রভাব সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামে ঈদের নামাজের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতের কর্মী আলাউদ্দিন নিহত হন বলে উপজেলা জামায়াত আমীর মাওলানা জিএএম আব্দুল আওয়াল নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জামায়াতকর্মীরা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদগাহ বড় মসজিদে ইমাম নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। আহত আলাউদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মোহনপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দীন জানান, সংঘর্ষে একজন মারা গেছেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে ছাত্রদলের এক কর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যার পর কড়িহাটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত মো. ফয়সাল নামের ওই ছাত্রদল কর্মী ফেসবুকে লাইভে এসে জানান, তিনি ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পর ইফতারের পর আওয়ামী লীগের কর্মীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি বলেন, হামলায় তার হাত, মাথা ও পিঠে আঘাত লাগে এবং তার দোকানও ভাঙচুর করা হয়। ফয়সাল অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে। তিনি মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপির কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের থানায় আসতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনায় এখনো কোনো গ্রেপ্তার বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
২০২৬ সালের ৭ মার্চ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজিমের নেতৃত্বে মব সন্ত্রাসের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগে বলা হয়, হাইকোর্টের আদেশে দায়িত্বে ফিরে আসা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সিকে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশে বাধা দেওয়া, অফিস ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়। বিএনপির একটি অংশ ও জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়ে ঘটনার নিন্দা জানায়। বক্তারা বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর হাইকোর্টের আদেশে চেয়ারম্যান দায়িত্বে ফিরলেও দেলোয়ার আজিমের অনুসারীরা তাকে বাধা দেয়। তারা হুঁশিয়ারি দেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। অন্যদিকে দেলোয়ার আজিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রাম শহরে ছিলেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিলম্ব ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাহারছড়া ইউনিয়নের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঝিনাইদহে শনিবার রাতে মেসার্স তাজ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল কিনতে গিয়ে পিটুনিতে আল মিরাজ নিরব নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ছিলেন। পুলিশ জানায়, রাত ৮টার দিকে নিরব প্লাস্টিক বোতলে তেল নিতে গেলে কর্মচারীরা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে অন্য এক ব্যক্তিকে বোতলে তেল দিতে দেখে প্রতিবাদ করলে কর্মচারীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা লাঠি দিয়ে নিরবকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। র্যাব-৬ তিন কর্মচারীকে আটক করেছে। নিহত নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ সরকারি বালক বিদ্যালয়ের পাশে ফাস্টফুড ব্যবসা করতেন এবং সরকারি কে.সি. কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিক হারুন অর রশিদ ওরফে সৃজনী হারুন, যিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় সড়ক দখল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ ইকবালের ওপর মব হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় নিকুঞ্জের জামতলার জাহিদ ইকবাল চত্বর এলাকায় স্থানীয় নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজের নেতৃত্বে একদল লোক সাংবাদিককে ঘিরে হুমকি দেয়। খবর পেয়ে খিলক্ষেত থানার এসআই উজ্জ্বলের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জনের একটি দল সাংবাদিক জাহিদ ইকবালকে ঘিরে হেনস্থা করে এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন বন্ধুকেও ভয় দেখায়। প্রত্যক্ষদর্শী মতিউর রহমান স্বপন জানান, ওই যুবকরা প্রকাশিত সংবাদ মুছে ফেলতে সাংবাদিককে হুমকি দেয়। জাহিদ ইকবাল বলেন, সরু সড়কের একটি অংশ দখল করে দেয়াল নির্মাণের বিষয়টি প্রকাশের পরই এই হামলা হয়। খিলক্ষেত থানার ওসি আবদুল আলিম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা বলেন, সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং দ্রুত দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।