লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার নবি চিত শহরে ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত এবং আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে তিনজন লেবাননি সেনাসদস্যও রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিহত বেসামরিকদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন, যার মধ্যে শিশুদের নামও আছে। হামলাগুলো ইসরাইলের লেবানন ও ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ঘটেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবি চিত এলাকায় পরিচালিত অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ৪০ বছর আগে লেবাননে নিখোঁজ হওয়া এক ইসরাইলি সামরিক বিমানচালকের দেহাবশেষ উদ্ধার করা। এই হামলা লেবাননে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি দাবি করেছেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতিতে অন্তত ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা এই তথ্য জানিয়েছে। এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত চলছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইনির এই দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযান ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সফল হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তিনি ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র বড় ব্যবধানে এই যুদ্ধে জয়ী হবে এবং ইরানের তথাকথিত ‘শয়তানি সাম্রাজ্য’ ধ্বংস করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইআরজিসি ইরানের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সংস্থা, যার প্রভাব সামরিক ও গোয়েন্দা ক্ষেত্র ছাড়াও রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতিতেও বিস্তৃত।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নির্ধারিত সভা স্থগিত করা হয়েছে। ২৫ থেকে ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের ফলে পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমা নিরাপদ না থাকায় আইসিসি শেষ পর্যন্ত সভাটি পিছিয়ে দেয়। ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, সভার নতুন তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী এপ্রিলে সভা আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উপমহাদেশের কোনো শহরে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এই বৈঠকে বোর্ড পরিচালক, প্রধান নির্বাহী, বিভিন্ন কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বর্ষপঞ্জি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটের নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল। এদিকে আজ ভারতের আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ভারত ও নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হবে।
ইরানে চলমান যুদ্ধের এক সপ্তাহ পার হওয়ার পর মানবিক সংকট দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সংঘাতে ১,৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে প্রায় ১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জরুরি সহায়তার জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছ থেকে ফোন ও বার্তা পাচ্ছে তারা। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গরু দিয়ে হালচাষের ঐতিহ্য দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে কৃষক ও গরুর সখ্যতার দৃশ্য ছিল সাধারণ চিত্র। কিন্তু আধুনিক কৃষিযন্ত্রের আগমনে এখন মাঠে গরু দিয়ে জমি চাষের দৃশ্য প্রায় বিলুপ্ত। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার কৃষিকাজকে সহজ ও দ্রুত করলেও ঐতিহ্যবাহী গরু-লাঙলের চাষাবাদ এখন কেবল স্মৃতিতে রয়ে গেছে। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও গ্রামীণ সংস্কৃতির এই অংশ হারিয়ে যাওয়ায় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, গরু-লাঙলের চাষাবাদ বাংলাদেশের কৃষি ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি এই ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তারা মনে করেন। কালের বিবর্তনে কৃষিতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও খানসামার কিছু এলাকায় এখনো গরু দিয়ে হালচাষের দৃশ্য দেখা যায়, যা ঐতিহ্যের শেষ নিদর্শন হিসেবে টিকে আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের শেষ তিন মাসে দেশের ব্যাংক খাতে মোট ৮৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কমলেও একীভূত পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির জন্য নজরুল ইসলাম মজুমদার ও সাইফুল আলম দায়ী। তারা দায়িত্বে থাকাকালে নামে-বেনামে বিপুল ঋণ নিয়ে ফেরত দেননি। বিএফআইইউয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপ একাই এ পাঁচ ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা নিয়েছে। দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট ও মূলধন ঘাটতির কারণে সরকার ব্যাংকগুলো একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এক বছর ধরে একীভূত প্রক্রিয়ায় কাজ করছে। নতুন শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রীয় ব্যাংক গঠনের জন্য আইন, নীতিমালা ও আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সম্মিলিত ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ২০ হাজার কোটি দেবে সরকার এবং ১৫ হাজার কোটি টাকার আমানত শেয়ারে রূপান্তর করা হবে।
কুয়েতের ‘পাবলিক ইনস্টিটিউশন ফর সোশ্যাল সিকিউরিটি’-এর সদর দপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রধান ভবনের পরিকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলে কুয়েত সরকার জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক মাধ্যমে জানায়, রোববার কোনো দর্শণার্থী সদর দপ্তরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং তাদের অন্য শাখা বা অনলাইনে কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এই হামলার খবর আসে এমন সময়ে, যখন কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ধারাবাহিক বিমান হামলার সতর্কতা দিচ্ছিল এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছিল। হামলার প্রকৃতি বা হতাহতের বিষয়ে সরকার কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। ঘটনাটি আঞ্চলিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বরিশাল নগরী ও আশপাশের এলাকায় শুক্রবার গভীর রাত থেকে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি না থাকায় যানবাহনের চালকদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কিছু স্টেশনে সামান্য পেট্রোল থাকলেও সেখানে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে এবং পরে জানানো হয়েছে জ্বালানি শেষ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন চালকরা এবং কর্মচারীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। স্টেশন মালিকরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কে চালকরা প্রয়োজনের তুলনায় তিন থেকে চারগুণ বেশি পেট্রোল ও অকটেন কিনছেন, ফলে মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, কিছু গ্রাহক অভিযোগ করেছেন মালিকরা অধিক মুনাফার আশায় তেল মজুত করছেন। বিভিন্ন স্টেশনের ব্যবস্থাপকরা জানান, শুক্রবার রাতেই পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়েছে, এখন কেবল ডিজেল রয়েছে। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের বরিশাল ডিপো ইনচার্জ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে এবং নতুন জাহাজ পৌঁছালে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও সিমেন্টশিল্পের কাঁচামালবাহী অন্তত ১৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১২টি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে এবং বাকি তিনটি চলতি সপ্তাহে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইরানে ইসরাইল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর প্রণালি বন্ধ ঘোষণার আগমুহূর্তে জাহাজগুলো পার হতে সক্ষম হয়। বন্দর ও জ্বালানি সূত্র জানায়, চারটি জাহাজে এলএনজি, দুটি জাহাজে এলপিজি এবং নয়টি জাহাজে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল রয়েছে। এসব জাহাজের আগমন জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। ওমানের সোহার বন্দর থেকে ‘সেভান’ নামের জাহাজ ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি নিয়ে এসেছে, আরেকটি ‘জি ওয়াইএমএম’ ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি বহন করেছে। কাতার থেকে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসানিয়া’ নামের দুটি জাহাজ প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে এসেছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির ওপারে এখনো দুটি এলএনজিবাহী ও একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে, ফলে ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, এবার প্রথমবারের মতো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার ও শোধনাগার। হামলার পর রাজধানীর একটি শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন দেখা যায়, যার শিখা রাতের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের কয়েকটি জ্বালানি মজুত কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের দিগন্তজুড়ে আগুনের আভা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে। আক্রান্ত শোধনাগারটি তেহরান ও উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আইডিএফ দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু স্থানগুলো ইরানি শাসনগোষ্ঠী সামরিক সংস্থাগুলোর জ্বালানি বিতরণের কাজে ব্যবহার করত। এ ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সময়ে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বহু হতাহতের খবর এবং ওমান এয়ারের ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনাও ঘটেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছেন। শনিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, ইরানকে খুব কঠিনভাবে আঘাত করা হবে। যুদ্ধের অষ্টম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে ব্যাপক হামলা চালায়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ট্রাম্পের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরান কখনো মাথা নোয়াবে না। তিনি আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে জানান, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা না হলে তেহরানও আর আক্রমণ করবে না। এদিকে ইসরাইল তেহরান ও ইসফাহানে নতুন দফায় বিমান হামলা চালায়, আর ইরান ইসরাইল ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। দুবাই ও মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ছয় হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। রাশিয়া ইরানকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার তথ্য দিচ্ছে বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের কাছে জরুরি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, বড় হামলা হলেও ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো সহজে ভাঙবে না।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি হোটেলে ইসরাইলের হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও দশজন আহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল–জাজিরা অ্যারাবিক জানিয়েছে। ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই হামলার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয় এবং আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু বা এর পেছনের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। ইসরাইলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। লেবানন কর্তৃপক্ষও এখনো নিহতদের পরিচয় বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। ঘটনাটির উদ্দেশ্য ও পরিণতি সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, কারণ উভয় পক্ষের কাছ থেকেই কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
২০২৬ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয় নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার ও সামাজিক ভূমিকা তুলে ধরতে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, তবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো এখনো নারীর অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং এসিড সন্ত্রাস প্রতিরোধ আইনসহ বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নারীর অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ শীর্ষে থাকলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য রয়ে গেছে। ২০২০ সালের তথ্যানুযায়ী, নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৪২.৭%, তবে অধিকাংশ নারী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ৮৫ জন নারী প্রার্থী হলেও নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র ৭ জন। পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা এখনো নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সীমিত করে রেখেছে। প্রবন্ধে বলা হয়, নারীর সমান মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অংশগ্রহণ এবং মাতৃস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নিশ্চিত করা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট ও বিশ্বব্যাংকের গবেষণা অনুযায়ী, অনলাইন গিগ ওয়ার্ক সরবরাহে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। আনুমানিক ১০–১২ লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার নিয়মিত আপওয়ার্ক, ফাইভার ও ফ্রিল্যান্সার প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। এই খাত শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, বেকারত্ব কমাচ্ছে এবং বছরে প্রায় ১–১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছে। তবে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের ফলে দক্ষতার মান, পেশাদারিত্ব ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ গিগ কর্মী এখনো কম দক্ষতার কাজের ওপর নির্ভরশীল, যা দ্রুত এআই টুল যেমন চ্যাটজিপিটি, ক্যানভা এআই ও গুগল অটোএমএল দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। ভাষাগত দুর্বলতা, সময়ানুবর্তিতার অভাব ও চুক্তি জ্ঞানের ঘাটতি বিদেশি ক্লায়েন্টদের আস্থা কমাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো সামাজিক সুরক্ষা বা স্বাস্থ্যবীমা কাঠামো বাংলাদেশে নেই, ফলে আইটিইউসি একে ‘ডিজিটাল সুইটশপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, টিকে থাকতে তরুণদের মেশিন লার্নিং, ব্লকচেইন ও ডেটা সায়েন্সের মতো উচ্চমূল্যের দক্ষতা অর্জন জরুরি। পাশাপাশি স্থিতিশীল ইন্টারনেট, নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়ে ও নীতিগত সংস্কার ছাড়া গিগ ইকোনমির ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্ম নতুন করে বৃহত্তর ঐক্যের আলোচনায় নেমেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পর নতুন সরকারের গঠনের প্রেক্ষাপটে এসব দল নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো, নিষ্ক্রিয় নেতাদের সক্রিয় করা এবং বিচ্ছিন্ন জুলাই শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এনসিপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া কিছু অংশ নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করলেও তারা জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানা গেছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থানের আশঙ্কা এসব আলোচনার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এনসিপি নেতারা সরকারের বিচার ও সংস্কার বিষয়ে অবস্থানকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অটল থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। দলটি সংস্কার বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার পর্যবেক্ষণে দুটি নতুন কমিটি গঠন করেছে। এনসিপি এখন পদত্যাগী নেতাদের ফিরিয়ে আনা, এবি পার্টি ও ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের মতো দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের ওপর সংস্কার বাস্তবায়নের চাপ বাড়াতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।