রোববার রাতে কালবৈশাখি ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নওগাঁ জেলায় প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে ৭৩১ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২২৫ হেক্টর কলা, ২১৬ হেক্টর ভুট্টা, ২১৬ হেক্টর গমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কলা ও ভুট্টার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৭২ কোটি টাকার বেশি। ঝড়ে কলা, পেঁপে, ভুট্টা, গম ও শাকসবজির গাছ মাটিতে পড়ে যায়, যার বেশিরভাগই ছিল পরিপক্ব হওয়ার পথে। শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে শনিবার রাতে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ও গাছপালা বিধ্বস্ত হয়। রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গুয়ারপাড়া গ্রামে প্রায় ৩০–৩৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, ফলে প্রায় ৩৫ পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের টিন দূরে উড়ে যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছেন। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ঝড়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয় এবং ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। কৃষি বিভাগ চাষিদের পুনরুদ্ধার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতির পরামর্শ দিয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘জিয়ার খাল’ এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দখল, দূষণ ও দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় খালটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। স্থানীয়রা জানান, ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান নিজে এসে খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা একসময় কৃষি সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্রবীণ রাজনীতিবিদ করম আলী ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ স ম আফজল আলী বলেন, খালটি শুধু জলাধার নয়, এটি কৃষি পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্মৃতির অংশ। তারা দ্রুত পুনঃখনন, দখলমুক্তকরণ ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, খালটি পুনরুদ্ধার করা গেলে সেচ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে আবারও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ জানিয়েছেন, তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালটি খননের উদ্যোগ নেবেন, কারণ এটি জনগণের প্রত্যাশা ও জিয়াউর রহমানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত।
ইসরাইলি বিমান হামলায় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান আমির হাতামি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে “চূড়ান্ত ও অনুশোচনাযোগ্য”, যা একটি কঠোর ও দুঃখজনক পাল্টা হামলার ইঙ্গিত দেয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দেশটির বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর পর এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুপ্তহত্যা। এই ঘটনাগুলো ইরান-ইসরাইল সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এই হামলাকে জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে এবং প্রতিশোধের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আকাশসীমা বন্ধ, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে অতিরিক্ত চার্জ আরোপের ফলে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য, তৈরি পোশাক ও হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় চাপ সৃষ্টি হতে পারে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে সবজি, পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রয়েছে। ইরানে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৩৯ হাজার ডলারের পণ্য। যুদ্ধের কারণে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় একদিনেই ৮০ টন সবজি পাঠানো সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের মোট সবজি রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশের বাজার, যা এখন কার্যত স্থবির। পোশাক শিল্পে জ্বালানি সংকট ও পরিবহন বিলম্বে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি ৩.১৫ শতাংশ কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশপথ ও সমুদ্রপথ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রপ্তানি খাত বড় ঝুঁকিতে থাকবে।
২০২৬ সালের ১৮ মার্চ ‘আমার দেশ’-এ প্রকাশিত লেখায় মাহমুদুর রহমান এবারের ঈদুল ফিতরকে আনন্দহীন ও বিষণ্ন বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিজের মায়ের মৃত্যু ও স্ত্রীর মায়ের মৃত্যুজনিত ব্যক্তিগত শোকের পাশাপাশি রমজান মাসে মুসলিম বিশ্বে চলমান সহিংসতার কারণে গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এবারের ঈদে আনন্দের পরিবর্তে সর্বত্র শোকের আবহ বিরাজ করছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিনে রমজান মাসে পরিচালিত হামলার নিন্দা জানিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতাকে সমালোচনা করেছেন। আলজাজিরার একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব হামলা মুসলমানদের ওপর অব্যাহত নিপীড়নের অংশ। তবে তিনি আশার কথা বলেছেন যে, শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়নি। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইলকে মুসলমানদের প্রধান শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন নীতির বিরোধিতা করেছেন। লেখার শেষাংশে মাহমুদুর রহমান তাঁর সাংবাদিক জীবনের নানা সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রত্যাবর্তন সাংবাদিকতার জন্য নতুন আশার বার্তা বহন করছে।
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার প্রথম মাস সম্পন্ন করেছে। এই সময়ে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, ক্ষুদ্র কৃষকের ঋণ মওকুফ, দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি ও বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, প্রটোকল কমানো ও প্রশাসনিক সরলীকরণে পদক্ষেপ নেওয়ায় সরকার জনসমর্থন ও গণমাধ্যমের প্রশংসা পেয়েছে। তবে প্রথম ৩০ দিনে কিছু বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার পরিষদ গঠন না করা, স্থানীয় নির্বাচনের পরিবর্তে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পদে বিতর্কিত পরিবর্তন এবং চাঁদাবাজি নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে আদালতে একাধিক রিট দায়ের হয়েছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো জনমুখী হলেও সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব ও প্রশাসনিক বিতর্ক ভবিষ্যতে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠিত তদন্ত কমিটির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আশ্রয় চেয়েছে। এনএসসি পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নির্বাচন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়েছে, তবুও এনএসসির এই পদক্ষেপ উদ্বেগজনক এবং এতে আইসিসি বাংলাদেশের সদস্যপদ স্থগিত করতে পারে। বিসিবি জানায়, তারা বিষয়টি নিয়ে এনএসসির সঙ্গে আলোচনা করতে চায়, তবে সময় নির্ধারণ করেনি। এ ঘটনায় ক্রিকেট মহলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে সরকার পরিবর্তনের পর ফারুক আহমেদ, নাজমুল আবেদিন ফাহিম ও আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিসিবিতে প্রবেশ প্রক্রিয়া নিয়ে। বিসিবির সাবেক পরিচালক ও বিদ্রোহী পক্ষের সদস্যরা মনে করেন, বিসিবির বিবৃতি নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তদন্তের ভয় থেকেই আইসিসির নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছু সাবেক কর্মকর্তা মনে করেন, দেশের আইনই সর্বোচ্চ এবং আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেবে না।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসের মাথায় আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পরিবর্তন করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে জরুরি ব্রিফিংয়ে জানান, নতুন উপাচার্য নিয়োগে প্রার্থীদের গবেষণা, প্রকাশনা, একাডেমিক যোগ্যতা ও সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়েছে। ১৬ মার্চ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে নতুন নিয়োগ ও আগের ভিসিদের অব্যাহতি কার্যকর হয়। এই গণহারে পরিবর্তনের সমালোচনা করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, যারা অভিযোগ করেছে যে সরকার দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছে। দলটির নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার দলীয় প্রার্থীদের পদে বসিয়ে মেধার অবমূল্যায়ন করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুও সামাজিক মাধ্যমে ঢাবির নতুন ভিসি নিয়োগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন এবং তার স্থলাভিষিক্ত হন ঢাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ। এক শিক্ষাবিদ এই পরিবর্তনগুলোকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আর্থিক সূচকে অবনতি ঘটেছে। এ সময় খাতটির আমানত প্রায় ২ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগ ১৭৬ কোটি টাকা কমেছে। জানুয়ারি শেষে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বরের তুলনায় ০.৫৭ শতাংশ কম। তবে এক বছর আগের তুলনায় আমানত বেড়েছে ৯.৩৪ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের আমানত ৪ লাখ ৪ হাজার ২৩ কোটি টাকা, প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামী শাখায় ৪২ হাজার ৬২৩ কোটি এবং ইসলামী উইন্ডোতে ২৬ হাজার ১০ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ স্থিতি দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বরের তুলনায় সামান্য কম হলেও বছরে ১১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে রেমিট্যান্স আহরণ প্রায় ৭ শতাংশ এবং রপ্তানি আয় ৪ শতাংশ কমেছে, তবে আমদানি বেড়েছে ১৬ শতাংশের বেশি। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করায় অনেকেই অর্থ তুলে নিচ্ছেন, ফলে আমানত কমেছে।
২০২৬ সালের ১৮ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের মিসাইল হামলায় ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবের রামাত গানে দুইজন নিহত হয়েছেন। তারা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, এমন সময় মিসাইলটি আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টের সিঁড়ির কাছে পাওয়া যায় এবং পরে তাদের মৃত্যু হয়। টাইমস অব ইসরায়েল হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে, নিহতদের বয়স প্রায় ৭০ বছর। হামলার পর তেলআবিবের ট্রেন স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যা নগরজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই হামলা ইরান ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটি প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেলআবিবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা অতিরিক্ত হতাহতের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, এবং শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট মঙ্গলবার বাংলাদেশে তার তিন দিনের সফর শেষ করেন। সফরকালে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহায়তার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে কথা হয়। জুট বলেন, সরকার দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং বিশ্বব্যাংকও এ লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত দশকে ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখের জন্য, ফলে প্রায় অর্ধেক তরুণ চাকরি পাননি। বিশেষ করে তরুণীরা বেশি বাধার মুখে পড়ছেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি। স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান ও সহজ শর্তের ঋণ সহায়তা দিয়েছে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অবকাঠামো ও বেসরকারি বিনিয়োগে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) প্রধান কার্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে এই ইউনিট গঠন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ধাপে ধাপে দেশজুড়ে ক্যাশলেস ও ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তুলছে। বর্তমানে বাংলা কিউআর, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিনের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ছে। এই কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট ইউনিট থাকা প্রয়োজন। খুচরা ব্যবসায়ী ও মার্চেন্টদের লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে এখন বাংলা কিউআর লেনদেন অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা ইউনিটের দায়িত্বে থাকবেন, আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসওর ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এক ধাপ নিচের কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউনিট গঠনের তথ্য ৩১ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে এবং প্রতি বছর মার্চের শেষ কার্যদিবসে বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি ক্রমেই বিশৃঙ্খল ও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। হরমুজ প্রণালির সংঘাত এখন দীর্ঘায়িত ও জটিল রূপ নিয়েছে, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে ট্রাম্পের জন্য ‘ব্যক্তিগত ভিয়েতনাম’-এ পরিণত হচ্ছে। দ্রুত জয়ের প্রত্যাশা ভেস্তে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েছে। প্রশাসনের ভেতরে যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প কখনো একে স্বল্পমেয়াদি অভিযান বলছেন, আবার কখনো যুদ্ধ হিসেবেও স্বীকার করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথা বললেও ট্রাম্প তা অস্বীকার করেছেন, আর পেন্টাগন জানিয়েছে কোনো তাৎক্ষণিক হুমকির তথ্য ছিল না। শাসন পরিবর্তন ও আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নীতিনির্ধারণে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কংগ্রেসে শুনানির দাবি উঠেছে এবং বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চাপ দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলার ১৮ দিন পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত আমেরিকার স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান ও সেক্রেটারি আলি লারিজানি সোমবার মুসলিম দেশগুলোর উদ্দেশে ছয় দফা খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। চিঠিতে তিনি মুসলিম বিশ্বকে আহ্বান জানান, আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের পাশে দাঁড়াতে। তিনি বলেন, আমেরিকা মুসলিম দেশের নির্ভরযোগ্য অংশীদার নয় এবং ইসরাইল মুসলমানদের শত্রু। আরবি ভাষায় লেখা এই চিঠিকে আংশিক তিরস্কার, আংশিক ধর্মতাত্ত্বিক অভিযোগ এবং আংশিক কৌশলগত আবেদন হিসেবে দেখা হচ্ছে। লারিজানি অভিযোগ করেন, আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল এবং তাদের আগ্রাসনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনি, সাধারণ নাগরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন। তিনি মুসলিম সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা ইরানের পাশে দাঁড়ায়নি এবং নবী মুহাম্মদের (সা.) শিক্ষার প্রতি অবিচল নয়। লারিজানি মুসলিম দেশগুলোকে ইসলামি বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানান এবং বলেন, ঐক্যবদ্ধ ইসলামি উম্মাহই নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ন্যাটো মিত্রদের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সহায়তা না পাওয়ায় তাদের হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না দেওয়া ন্যাটোর সিদ্ধান্ত ছিল “খুবই বোকামিপূর্ণ ভুল।” ইরান যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এই মন্তব্য আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ট্রাম্প বিশেষভাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সমালোচনা করেন এবং বলেন, ব্রিটিশ নেতা “উইনস্টন চার্চিল নন।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গঠনে তেমন উদ্যোগ নেননি, আর ন্যাটো মিত্ররা স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা এই সংঘাতে জড়াতে চায় না। এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।