যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি থার্ম ১৭১ দশমিক ৩৪ পেন্সে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে এই বৃদ্ধি ঘটেছে। বুধবার ভোরে ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রগুলোর একটি এই স্থাপনাটি কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়। এই হামলার জবাবে ইরান সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন লাগে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্য এখনো আমদানিনির্ভর, বিশেষ করে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে গ্যাস আমদানি করে, ফলে এই অঞ্চলের অস্থিরতা সরাসরি ব্রিটিশ জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ পরও ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর কিছু সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন। পেন্টাগনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ইরান প্রচুর অস্ত্র নিয়ে সংঘাতে জড়িয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ‘আক্রমণাত্মক ও কঠোর’ অবস্থান বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে ইরানের অস্ত্র চিহ্নিত করে ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তাঁর মতে, ইরানের হাতে এখনও ‘কিছুটা সামরিক সক্ষমতা’ অবশিষ্ট রয়েছে। এই মন্তব্য পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেখানে জ্বালানি অবকাঠামো সংঘাতের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতা আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, ফলে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব পড়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান বলে আলজাজিরা জানিয়েছে। বেসেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে নিজস্ব তেলের মজুত থেকেও বাজারে তেল ছাড়তে পারে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অবগতিতেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো হরমুজ প্রণালি ছাড়তে শুরু করেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করছে। বেসেন্টের মন্তব্যের বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট রায় দিয়েছে যে ট্রাম্প প্রশাসনের ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ) কার্যত বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি অবৈধ। বিচারক রয়েস ল্যামবারথ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন এবং কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রচার মাধ্যমটি পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রচারণার জবাব দিতে ভয়েস অব আমেরিকা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পদে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ভিওএ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং সংস্থাটির বিরুদ্ধে বামঘেষা পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন। তার প্রশাসন রেডিও ফ্রি ইউরোপ ও রেডিও ফ্রি এশিয়ার মতো সংস্থাগুলোও আইনের সীমার মধ্যে যতটা সম্ভব বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সীমিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ৭ হাজার ৮০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়, এটি ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার ২০তম দিন। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বর্তমান শাসনের নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে দিতে এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক হুমকির উৎসগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সময়ে ইরানের ১২০টিরও বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এদিকে ইরান উপসাগরে মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং উভয় পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেন্টকমের সর্বশেষ তথ্য যুদ্ধের ব্যাপকতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরেছে। সংঘাতের প্রভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি তেলের দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতির আশঙ্কাও প্রকাশ পেয়েছে।
ইরানের সংসদ সদস্য সোমায়ে রাফিই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল ও কর আদায়ের একটি প্রস্তাব নিয়ে দেশটির আইনপ্রণেতারা কাজ করছেন। তেহরানের ওয়ালিআসর স্কোয়ারে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরানের কর্তৃত্ব অপরিহার্য। আইএসএনএ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাফিই বলেন, ইরান তার শত্রুদের আগের আরাম-আয়েশ কেড়ে নিয়েছে এবং তারা এখন এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি ইরানের নিশ্চিত বিজয়ের মাধ্যমে ঘটবে এবং এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত শত্রুদের জন্য আরও চ্যালেঞ্জিং হবে। এই প্রস্তাব ইঙ্গিত দেয় যে ইরান বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে চায়, যদিও টোল আরোপের সময় বা পদ্ধতি সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এ তথ্য জানায়। চিঠিতে মোদি শুধু তারেক রহমানকেই নয়, বাংলাদেশের জনগণকেও ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। মোদি উল্লেখ করেন, গত এক মাস ধরে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা পবিত্র রমজান মাস পালন করেছেন এবং রোজা ও প্রার্থনার মাধ্যমে সময় কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর মানুষকে সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের চিরন্তন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববাসীর শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করেন। চিঠির শেষে নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের হামলার পর কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে শেল কোম্পানির প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তবে আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়। শেল জানিয়েছে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং স্থাপনাটি বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ সক্ষমতায় এই কেন্দ্রটি প্রতিদিন ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করতে পারে এবং প্রতিদিন ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল গ্যাস-টু-লিকুইড জ্বালানি উৎপাদনে সক্ষম। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে এবং যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম ১৪০ শতাংশ বেড়েছে, যা যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে প্রতিফলিত করছে।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রায় মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক ছয় মুসল্লিকে নিয়ে তার নিজ বাড়ির আঙিনায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। সাদ্রা দরবার শরীফের প্রয়াত পীর মাওলানা ইছহাক সাদ্রাবীর মেজো ছেলে আবু বকর ছিদ্দিক গত বছরের মতো এবারও জাতীয় ঈদের দুই দিন আগে জামাত পরিচালনা করেন। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্রা দরবার শরীফের পীরের অনুসারী ৪০টি গ্রাম সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে ঈদ উদযাপন করে আসছে। পীরের মৃত্যুর পর তার বংশধরদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। বর্তমান পীর মুফতি আরিফ বিল্লাহ সাদ্রাবী ও তার চাচা জাকারিয়া আল মাদানী একদিন আগে পৃথক জামাতের মাধ্যমে ঈদ করেন, আর আবু বকর ছিদ্দিক দুই দিন আগে ঈদ পালন করেন। তিনি জানান, বিশ্বের যেকোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে এবং ঈদ উদযাপন হলে সে অনুযায়ী ঈদ করা জায়েজ। আফগানিস্তানে চাঁদ দেখা যাওয়ায় ও সেখানে ঈদ উদযাপিত হওয়ায় তারা সেই অনুযায়ী ঈদ করেছেন।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই দেশগুলো তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বড় অংশ কাতার থেকে পায়, যেখানে দেশের প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা হয়। সিএনএন জানায়, জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তান ও বাংলাদেশ যথাক্রমে ৯৯ শতাংশ ও ৭০ শতাংশ এলএনজি কাতার থেকে আমদানি করে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি আসে কাতার থেকে। রাষ্ট্রায়ত্ত কাতার এনার্জি চলতি মাসের শুরুতে উৎপাদন স্থগিত করেছিল। সাম্প্রতিক হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কাতার এনার্জির আরও বেশি সময় লাগতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি রেজোয়ানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চটি মাঝনদীতে পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন এবং দুইজন নদীতে পড়ে গেলেও পরে সাঁতরে লঞ্চে ফিরে আসেন। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, আহত যাত্রীরা দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছালে তাদের নিরাপদে নামিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা জানান, নগরবাড়ি থেকে ঢাকাগামী তেলবাহী জাহাজটির সঙ্গে লঞ্চের সংঘর্ষের উপক্রম হয়েছিল। লঞ্চমাস্টার দ্রুত ব্যাকগিয়ার দিলে সৃষ্ট ঝাঁকুনিতে কয়েকজন যাত্রী মৃদু আহত হন। সব আহত যাত্রী পরে গন্তব্যে চলে যান এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সে ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় চার দেশের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের ২০তম দিনে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে আলজাজিরা জানিয়েছে। কাতার জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুয়েতে মিনাআল-আহমাদি ও মিনাআবদুল্লাহ শোধনাগারে ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে, তবে কোনো হতাহতের খবর নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাবশান গ্যাস স্থাপনা ও বাব তেলক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে বিস্ফোরণ ঘটে। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের কাছে সামরেফ শোধনাগারে একটি ড্রোন আছড়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ চলছে। এই ধারাবাহিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ২০তম দিনে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে দেশটি জ্বালানির দাম বৃদ্ধিজনিত সমস্যার মুখোমুখি। বুধবার মিশিগানের একটি উৎপাদন কারখানায় তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ছে এবং এতে মানুষ কষ্টে আছে। তিনি জানান, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে কোনো ঘোষণা দিতে চান না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির পথ ছিল। ইরান সতর্ক করেছে, হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেওয়া হবে না। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলা হয়েছে, যদিও ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কিছু ট্যাংকার ইরানের অনুমতিতে পার হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধের আগে থেকে ৪০ ডলার বেশি। এতে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে, কিন্তু ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্ররা এখনো হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে রাজি হয়নি।
উত্তর সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো দখলের পরিকল্পনা করেছে ইসরাইল। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে, চ্যানেল–১২ এর তথ্যমতে ইসরাইল সীমান্তঘেঁষা প্রথম সারির গ্রামগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়, যাতে রকেট ও ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করা যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেনাবাহিনীকে এমন এলাকা দখলের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে, যেখান থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়, এবং এই দখল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে। প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো গ্রামের নাম উল্লেখ করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। সূত্রটি আরও দাবি করে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র বা ভেঙে দেওয়া ছাড়া লেবানন সরকারের সামনে কার্যকর কোনো বিকল্প নেই। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে। লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা জোরদার হয়েছে, যেখানে ২ মার্চ থেকে অন্তত ৯৬৮ জন নিহত ও ২,৪৩২ জন আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে অবস্থিত সৌদি আরামকোর সামরেফ তেল শোধনাগারে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বর্তমানে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বুধবারের এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ঘটেছে, যখন বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইল ইরানের বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তেল শোধনাগারে পাল্টা হামলা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের এই শোধনাগারে ড্রোন বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। ড্রোনটি কীভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে বা এটি চলমান সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।