ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করেছে সুইজারল্যান্ড। শুক্রবার এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানায়, নিজেদের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ নীতি বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ২১তম দিনে এই ঘোষণা আসে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত কোনো দেশেই বর্তমানে যুদ্ধ সরঞ্জাম রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও যুদ্ধ সরঞ্জাম রপ্তানি স্থগিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড জানায়, এই পদক্ষেপ তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান রক্ষার অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত দেশটির নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর চাপের মধ্যেও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের প্রস্তুতি নেয় ডেনমার্ক। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ডিআর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের বিমানবন্দরগুলোর রানওয়ে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে মার্কিন বাহিনী সহজে অবতরণ করতে না পারে। আহতদের চিকিৎসার জন্য রক্তের মজুত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করলেও ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, যদিও উভয় দেশই ন্যাটোর সদস্য। ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে বারবার গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোপেনহেগেন ফ্রান্স ও জার্মানির সমর্থন চায় এবং নর্ডিক দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ সামরিক প্রস্তুতি নেয়। ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ডেনমার্ক প্রস্তুতি জোরদার করে। পরে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও সুইডেনের যৌথ বাহিনী গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন হয়। ট্রাম্প বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের কাছে ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নামাজে বাধা দিতে সেখানে টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয় এবং মুসল্লিদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার এই ঘটনা ঘটে, যা মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র উৎসবের সময় সংঘটিত হওয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ আগেই আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। এই ঘটনার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। জেরুজালেমের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াতে পারে, যেখানে ধর্মীয় ও ভূরাজনৈতিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রদত্ত এক বাণীতে তিনি বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ মানুষের জীবনে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে দেওয়া এই বাণীতে তিনি রমজানের শিক্ষা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রতিফলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান সংযম, ত্যাগ, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়, যা মানুষকে আত্মসংযমী হতে শেখায় এবং সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে। তিনি উল্লেখ করেন, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত হলে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য অর্জিত হয় এবং ধনী-গরিব, ছোট-বড় সকল ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। তিনি সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
১৪৪৭ হিজরির শাওয়াল মাসের চাঁদ শুক্রবার (২০ মার্চ) বাংলাদেশের আকাশে দেখা গেছে। এর ফলে শনিবার দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। কক্সবাজারে চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা রমজান মাসের ৩০ রোজা পূর্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বৈঠক করে। দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শুক্রবার রমজানের ৩০তম রোজা পালন করা হয়েছে এবং শনিবার শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে ঈদ উদযাপিত হবে। এদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং আফগানিস্তান, মালি ও নাইজারে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।
আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে জ্বালানি আমদানি ব্যয় নির্বাহে ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার ঋণ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের ২০ মার্চ প্রকাশিত ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রস্তাবিত ঋণের মধ্যে ১৩০ কোটি ডলার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের চলমান কর্মসূচির আওতায় এবং বাকি ৭০ কোটি ডলার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। সরকার জুন মাসের মধ্যে এই বহুপক্ষীয় ঋণ সংগ্রহ সম্পন্ন করতে চায়, যদিও এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক কম সুদের হারে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং আইএমএফ থেকেও ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ঋণ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে। ঋণ প্রাপ্তি সফল হলে তা গ্রীষ্মকালীন উচ্চ চাহিদার সময়ে জ্বালানি খাতে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে পারে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে শনিবার পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতগুলো যথাক্রমে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং সকাল পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, দ্বিতীয়তে মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয়তে মাওলানা মো. জাকির হোসেন, চতুর্থতে মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং পঞ্চম জামাতে মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন মাওলানা শহীদুল ইসলাম। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণের কথা বিবেচনায় রেখে একাধিক জামাতের এই আয়োজন করা হয়েছে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজধানীতে ঈদের প্রধান নামাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদুল ফিতর জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর আনন্দ, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। রমজান মাস মানুষকে সংযম, ত্যাগ, খিদমত ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়, যা সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে। প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিফলিত করে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে। তিনি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর উভয় পক্ষই নিজেদের এক্স হ্যান্ডলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জয়শঙ্কর জানান, আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা। রিয়াজ হামিদুল্লাহ বৈঠকে বলেন, অভিন্ন স্বার্থ ও পারস্পরিক সুফলের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এদিন বিকেলে রিয়াজ হামিদুল্লাহ ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন। গত বছরের মে মাস থেকে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সাক্ষাৎ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংক্ষিপ্ত সফরে দিল্লি যেতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাহরাইন থেকে ২৮২ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরছেন। শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে তারা একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে বাহরাইন থেকে দাম্মাম হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এই ফ্লাইটের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, দূতাবাসের উদ্যোগে গালফ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় ২৮২ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। যাত্রার আগে গোল্ডেন টিউলিপ হোটেলে প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার। তিনি যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা কামনা করেন এবং সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের নিরাপত্তা ও প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ খোলা মাঠে ঈদের জামাত নিষিদ্ধ করেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে যে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শুধুমাত্র মসজিদের ভেতরেই আদায় করতে হবে। কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছে, রমজান শেষে প্রচলিত খোলা ঈদগাহে যেন কেউ সমবেত না হন। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান সংঘাত ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় জনসমাগমের নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা এটিকে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাতকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবারের ১৯৯তম ঈদ জামাত উপলক্ষে পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে লাখো মুসল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে। মাঠে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে থাকবে বিশেষ নজরদারি। মুসল্লিদের নির্ধারিত প্রবেশপথ ব্যবহার, ব্যাগ বা ধারালো বস্তু বহন না করা এবং তল্লাশিতে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি তারা অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও দায়িত্ব পালন করছে। প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে ঈদ জামাত সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে তাদের মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়িনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ভোরে এই হামলা চালানো হয় এবং সংস্থাটি তাদের টেলিগ্রাম বার্তায় নায়িনির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। মৃত্যুর আগে এক বিবৃতিতে জেনারেল নায়িনি বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলা সত্ত্বেও তেহরান এখনো ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সক্ষম। তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে উল্লেখ করেন, ইরানের জনগণ শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে রয়েছে। তার মতে, দেশ থেকে যুদ্ধের অন্ধকার ছায়া দূর হলে তবেই সংঘাতের ইতি টানা উচিত। ইসরাইলি সেনাবাহিনীও নিশ্চিত করেছে যে রাতভর এক বিমান হামলায় নায়িনি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা ইরান ও তার প্রতিপক্ষদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শুক্রবার সকালে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার ও বিন্ট জেবেইল অঞ্চলের বাফিলিয়া ও হানিন শহরে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায় বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যদিও সর্বশেষ হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে ১,০০১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৯ জন নারী, ১১৮ জন শিশু ও ৪০ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। একই সময়ে ২,৫৮৪ জন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানায়। বিবিসি বাংলার বরাতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সংঘাতের মানবিক প্রভাব আরও গভীর হচ্ছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাণহানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মসজিদের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় শত শত মুসল্লি মসজিদের ফটক ও আশপাশের সড়কে নামাজ আদায় করেন। দামেস্ক গেট এলাকাসহ নিকটবর্তী স্থানে মুসল্লিরা জড়ো হলেও তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। জেরুজালেম গভর্নরেট এই পদক্ষেপকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য নতুন ইহুদিকরণ বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া এবং মসজিদটিকে তার ফিলিস্তিনি ও ইসলামি পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা। ছয় দশকের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি, যা অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।