ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পর এই হুমকি আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত। তিনি আরও জানান, ইরান এসব বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রম নজরদারি করছে এবং এটিই তাদের জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। এর আগে গালিবাফ সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, তবে তেহরান পুরো অঞ্চলের অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে। এই হুমকিগুলো আসে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের নাকুরা শহরে কামান ও ফসফরাসযুক্ত গোলা ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। শহরের ভেতরে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ফসফরাসযুক্ত গোলা ব্যবহারের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে, কারণ এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এদিকে, আলজাজিরা আরবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ কাসমিয়া সেতুতে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে। সেতুটি অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া, লেবাননের পূর্বাঞ্চলের মাজদাল সেলেম শহরেও পৃথক একটি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য পরে জানানো হবে।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি পুলিশ যানবাহন লক্ষ্য করে হামলায় হামাস-নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হন এবং অন্তত দশজন আহত হন। আহতদের নুসেইরাতের আল-আওদা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উত্তর গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় পৃথক আরেকটি হামলায় ফাতাহ-সংশ্লিষ্ট এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। বার্তা সংস্থা ওয়াফা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজায় হামলার মাত্রা কিছুটা কমে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আবার বেড়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ওই সময়ের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ইতোমধ্যে ডজনখানেক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই নতুন হামলা যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা ও গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোখসেদুল কামাল। ২০২৬ সালের ২৩ মার্চ এ ঘোষণা দেওয়া হয়। তিনি এর আগে একই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন দায়িত্বে তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করা আমজাদ হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিসিবির ওয়েলফেয়ারস কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়োগের পর মোখসেদুল কামাল বলেন, এই পথচলায় সবার অব্যাহত সমর্থন, উৎসাহ ও সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সম্মিলিতভাবে কাজ করে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা এবং বিসিবির গণমাধ্যম কার্যক্রমকে আরও উন্নত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হবে। নতুন দায়িত্ব পালনে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। এই পরিবর্তন বিসিবির প্রশাসনিক কাঠামোয় যোগাযোগ ও গণমাধ্যম কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের হামলায় ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের ডিমোনা ও আরাদ শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে এক হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ২১ মার্চ রাতে চালানো এই হামলার পর সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি ক্ষতিপূরণের দাবি পেয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার ২৩তম দিনে সংঘটিত হয়, যার জবাবে ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করছে। অব্যাহত সাইরেনের শব্দে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে, অনেককে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা সেফ রুমের কাছাকাছি অবস্থান করতে হচ্ছে। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য এই সুরক্ষা সুবিধা প্রায় অনুপস্থিত, যা বাস্তবতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের পরিদর্শনের সময় এক বাসিন্দার ক্ষোভ প্রকাশ জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল রোববার ভিয়েতনামের ইয়ুথ ট্রেনিং সেন্টারে দেড় ঘণ্টার অনুশীলন করেছে। ভ্রমণজনিত ক্লান্তি কাটিয়ে এটি ছিল দলের প্রথম মাঠের অনুশীলন। কোচিং স্টাফের তত্ত্বাবধানে খেলোয়াড়রা ফিটনেস, বল কন্ট্রোল ও ট্যাকটিক্যাল অনুশীলনে অংশ নেন। জাতীয় দলের স্প্যানিশ হেড কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা বাফুফের এক ভিডিও বার্তায় জানান, স্বল্প সময়ের অনুশীলন হলেও এটি কার্যকর হয়েছে এবং ট্যাকটিক্যাল অনেক বিষয়ে কাজ হয়েছে। সিনিয়র মিডফিল্ডার সোহেল রানা বলেন, রিকভারির পাশাপাশি ভিয়েতনাম ম্যাচের জন্য পরিকল্পনা হয়েছে এবং এই সেশনটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিয়েতনাম ম্যাচটি সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ দল শনিবার ভিয়েতনামে পৌঁছেছে। ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরীর আগমনসূচি দুই দিন পিছিয়ে গেছে এবং তিনি আগামী মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
ইরান সতর্ক করেছে যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে দেশটি সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া জানাবে। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি এই সতর্কবার্তা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি দেওয়ার পর। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গারিবাবাদি জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি মূলত বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার সমান, যা আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আগ্রাসন রোধে ব্যর্থ হওয়ায় ইরান আত্মরক্ষার স্বাভাবিক অধিকার প্রয়োগ করবে। গারিবাবাদি সতর্ক করেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তার সম্পূর্ণ দায় থাকবে হামলা শুরুকারীদের ওপর। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর এই তথ্য জানায়। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাব্য হুমকির প্রেক্ষিতে তেহরানের এই কঠোর বার্তা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঈদুল ফিতরের সাত দিনের ছুটি শুরু হতেই বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ও মোংলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মোংলার শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভ এলাকায় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রমজান মাসে পর্যটকশূন্য থাকা এলাকাগুলো এখন সরগরম, এবং অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২২ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের চাপ সর্বাধিক থাকবে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজন করেছে। দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা বন, নদী ও বন্যপ্রাণীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সময় কাটাচ্ছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকরা পরিবেশ ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন হাজারো পর্যটক সুন্দরবনে অবস্থান করছেন, যা পর্যটন খাতকে চাঙা করছে। রমজানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন নতুন উদ্দীপনায় কাজ করছেন, এবং পর্যটন আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব রণক্ষেত্রেই দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। ট্রাম্প সম্প্রতি হুমকি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। এর জবাবে পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলেন, ইরান দৃঢ়ভাবে এই ধরনের হুমকির মোকাবিলা করবে। তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আতঙ্ক ও হুমকি ছড়ানোর চেষ্টা দেশটিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করছে। হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে জানান, যারা ইরানের ভূখণ্ড লঙ্ঘন করবে, তাদের বাদে অন্য সবার জন্য প্রণালী উন্মুক্ত থাকবে। এই বক্তব্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে।
ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হিব্রু ও ইংরেজি—দুটি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে তার সুর ছিল ভিন্ন। হিব্রু ভাষায় তিনি দিমোনা ও আরাদ শহরে রাতভর হামলায় ১৮০ জনের বেশি আহত হলেও কেউ নিহত না হওয়াকে ‘অলৌকিক’ বলে উল্লেখ করেন এবং যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ধৈর্যের আহ্বান জানান। ইংরেজি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বর্তমান বিশ্বকে রক্ষা করার জন্য লড়ছে এবং অন্যান্য বিশ্বনেতাদেরও তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থান তার গভীর সংশয়ের প্রতিফলন। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতদিন টিকে থাকবে এবং যুদ্ধ জয়ের ঘোষণা বাস্তবে রূপ নেবে কিনা—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন বাড়ছে।
ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশটিতে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২১০ জন শিশু নিহত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, সংঘাতে ১ হাজার ৫১০ জন শিশু আহত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের কারণে ইরানের স্বাস্থ্য অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্রমাগত হামলায় এখন পর্যন্ত ৩০০টি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয় যে, চলমান সংঘাত ইরানের শিশু ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে রয়েছে।
রয়টার্সের যাচাই করা গবেষকদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দশম দিনে বাহরাইনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ইরানি ড্রোন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ঘটেছিল। ৯ মার্চ সিতরা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় ওই বিস্ফোরণে শিশুসহ ৩২ জন আহত হয় এবং বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে। শুরুতে বাহরাইন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ইরানের ড্রোনকে দায়ী করেছিল, এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল যে ইরানি ড্রোন আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে বাহরাইন সরকার শনিবার প্রথমবারের মতো স্বীকার করে যে বিস্ফোরণটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির ছোড়া ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ঘটেছিল। তবে সরকারি মুখপাত্র দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝ আকাশে একটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছে। মুখপাত্রের মতে, আহত হওয়া ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ ছিল আকাশে সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়া। তবে মাহাজ্জার বিস্ফোরণে ইরানি ড্রোনের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ বাহরাইন বা ওয়াশিংটন কেউই দিতে পারেনি।
ইরানে চলমান চার সপ্তাহের যুদ্ধে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ, ইসরাইলের মোসাদসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তার অবস্থান ও ভূমিকা জানতে তৎপর। নওরুজ উপলক্ষে তার কাছ থেকে কেবল একটি লিখিত বার্তা প্রকাশিত হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। নিউজ সাইট অ্যাক্সিওসের বরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুজতাবা জীবিত থাকলেও তার হাতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেই। দ্য জেরুসালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইরান কার্যত রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা হয়তো মুজতাবাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ৯ মার্চ মুজতাবাকে সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়, কিন্তু এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার অনুপস্থিতি ও আইআরজিসির প্রভাব ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানজুড়ে ৮১ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটি রোববার জানায়, হামলায় চিকিৎসা কেন্দ্র, বিদ্যালয়, অ্যাম্বুলেন্স ও ত্রাণকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। জেনেভা কনভেনশন হলো যুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নিয়ম নির্ধারণ করে এবং সব দেশকেই তা মেনে চলতে হয়। তবে ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বেসামরিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাতের মানবিক প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এবং ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি সেবাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে বলেন, হোয়াইট হাউস ও ইরানের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে এবং পূর্বে স্থাপিত যোগাযোগ পুনরায় চালু করার আশা করছেন। গ্রোসি বলেন, যতক্ষণ আলোচনা চলছে, ততক্ষণ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকে। তার এই মন্তব্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগের প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেখানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা আলোচনার কাঠামো উল্লেখ করেননি, তবুও তার বক্তব্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।