সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনা, যা একসময় মধ্যপ্রাচ্যের রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল, এখন নানা চাপে পুনর্মূল্যায়নের মুখে। এক দশক আগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তি, পর্যটন ও বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিলে শুরু হওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের নিওম সিটি বিশেষভাবে আলোচিত হলেও, ২০৩০ সালের আগে অনেক প্রকল্পই এখন স্থগিত, সংকুচিত বা বাতিলের পথে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা এই ধীরগতির মূল কারণ। যুদ্ধ শুরুর আগেই তেলের দাম কমে রাজস্বে ধাক্কা লাগে, আর সংঘাতের ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশা অনুযায়ী আসেনি, এবং পরিকল্পনায় বাস্তবসম্মত বাজার বিশ্লেষণের ঘাটতি ছিল। এর আগে কিং আবদুল্লাহ ইকোনমিক সিটিও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল।
তবু ‘ভিশন ২০৩০’ পুরোপুরি ব্যর্থ নয়। নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি ও আন্তর্জাতিক বিনোদন আয়োজন সৌদি সমাজে পরিবর্তন এনেছে। তবে নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধ প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে, যদিও খনিজ খাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।