বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অভাবে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের প্রস্তুতি না থাকায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বোরো ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন তারা। যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে, কারণ পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় হারভেস্টার ও রিপার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকটও চরমে পৌঁছেছে, ফলে চড়া মজুরি দিয়েও কৃষকরা পর্যাপ্ত শ্রমিক পাচ্ছেন না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে হাওরাঞ্চলে প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত। এসব জমির ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, পাশাপাশি আরও ১০ শতাংশ ধান কাটতে না পারার কারণে ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার হাওর এলাকায় শ্রমিক সংকট তীব্র, কারণ অনেক শ্রমিক পেশা বদলে অন্য কাজে চলে গেছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি হচ্ছে এবং সরকারি সহায়তা প্রক্রিয়াধীন। বিশেষজ্ঞরা হাওরাঞ্চলের জন্য আলাদা দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরাসরি ক্রয়ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।