চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের একটি মতামত নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি শ্রেণিতে আরও তিন বছর থাকার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। জাতিসংঘের তিনটি মানদণ্ড অনুযায়ী এ বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের কথা ছিল। তবে নিবন্ধটির ভাষ্য, উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখনো সম্পন্ন হয়নি।
নিবন্ধে এই আবেদনকে ২০২১ সালে শেখ হাসিনার উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের ঘোষণার বিপরীত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে আগের সরকারের উপস্থাপিত বহু অর্থনৈতিক সূচককে অসত্য বলে অভিযোগ করা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের পরিসংখ্যান জালিয়াতি-সংক্রান্ত মন্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। লেখাটি বলছে, মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশ এখনো তৈরি পোশাক খাতনির্ভর।
নিবন্ধ অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উত্তরণে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা, ওষুধশিল্পে ট্রিপস সুবিধা, স্বল্পসুদের ঋণ ও বিদেশি অনুদানের সুযোগ কমে যেতে পারে। এতে বার্ষিক গড়ে সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় হারানোর প্রাক্কলনের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত অতিরিক্ত সময়ে রাজস্ব ও আর্থিক খাতে সংস্কারের পরিকল্পনার উল্লেখ করে নিবন্ধটি বলছে, পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ২০২৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের পরিচয় নিতে পারে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।