ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ ন্যাটোর ভেতরে একটি কাঠামোগত বিভাজন উন্মোচন করেছে, যা জোটটির ঐক্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় সদস্যদের ইরান যুদ্ধে যোগ দিতে আহ্বান জানালেও তারা এটিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পর ট্রাম্প সতর্ক করেন, ইউরোপ যদি যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ায়, তবে আমেরিকাও ইউরোপের পাশে থাকবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই মতবিরোধ ন্যাটোর জন্য যেকোনো বাহ্যিক হুমকির চেয়ে বেশি গুরুতর হতে পারে।
ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে পার্থক্য এখন স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্র হিসেবে দেখে, কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার হুমকির কারণে ইউক্রেনকেন্দ্রিক প্রতিরক্ষায় মনোযোগী। ইউরোপ আশঙ্কা করছে, ইরান যুদ্ধে জড়ালে তাদের সম্পদ ও মনোযোগ বিভক্ত হবে এবং অতীতের ইরাক-আফগানিস্তান অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
এই ভিন্নমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ন্যাটোর ভেতরে কৌশলগত দ্বৈততা তৈরি করেছে। যদি এই বিভেদ নিরসন না হয়, তবে জোটটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরক্ষা সংস্থা থেকে পরস্পরবিরোধী অগ্রাধিকারের ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে, যা এর বিশ্বাসযোগ্যতা ও সংহতিকে দুর্বল করবে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।