আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে আদালতে যেতে বাধ্য করলে পারিবারিক আদালত ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন মামলায় বিচারপতি মো. আব্দুর রহমানের একক বেঞ্চ ৩ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন। রায়ে বলা হয়েছে, স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া নিকাহনামায় বিলম্বিত দেনমোহর নির্ধারণের সুযোগ নেই।
আদালত বলেন, দেনমোহর স্ত্রীর স্বতন্ত্র ও আইনগত অধিকার; আর্থিক অক্ষমতার অজুহাতে স্বামী এ দায় এড়াতে পারবেন না। স্ত্রী দাবি করলেই বিলম্বিত দেনমোহর তৎক্ষণাৎ প্রদেয় হিসেবে গণ্য হবে। স্ত্রী স্বাধীনভাবে স্বেচ্ছায় মওকুফ না করলে আদালতেরও দেনমোহরের অর্থ কমানোর এখতিয়ার নেই। বলপ্রয়োগ, অনুচিত প্রভাব বা প্রবঞ্চনায় নেওয়া মওকুফ বৈধ নয়।
হাইকোর্ট স্বামীর রিভিশন আবেদন খারিজ করে চট্টগ্রাম পারিবারিক আদালতের ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকার ডিক্রি বহাল রেখেছেন। এর মধ্যে ১৮ লাখ টাকা দেনমোহর, ৩০ হাজার টাকা ইদ্দতকালীন খোরপোষ এবং কন্যাসন্তানের বকেয়া খোরপোষ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা রয়েছে। প্রকৃত আর্থিক সংকট প্রমাণ হলে কিস্তির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, তবে স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।