ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতিক্রমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাধারণ ক্ষমা আইন অনুমোদন করেছে, যার ফলে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কারাবন্দি শত শত রাজনৈতিক নেতার মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ডেলসি রদ্রিগেজ রাজধানী কারাকাসের মিরাফ্লোরেস প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বিলটিতে সই করেন। এই আইনের আওতায় ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করে হুগো শ্যাভেজের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, ২০০২ সালের তেল ধর্মঘট এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচনের পরের দাঙ্গার ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে সামরিক তৎপরতায় জড়িতদের এই ক্ষমার আওতায় আনা হবে না।
জনমনে শঙ্কা রয়েছে যে সরকার হয়তো নিজেদের ঘনিষ্ঠদের ক্ষমা করে দিতে পারে এবং প্রকৃত রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারে। বিলের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিদেশি সহায়তায় দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতায় জড়িত কেউ ক্ষমা পাবে না। জেনেভা থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানিয়েছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখতে। মানবাধিকার সংস্থা ফোরো পেনালের তথ্য অনুযায়ী, মাদুরোর পতনের পর প্রায় ৪৫০ জন মুক্তি পেলেও এখনো ছয় শতাধিক বন্দি কারাগারে রয়েছে এবং তাদের পরিবারগুলো মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।