এক হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ থাকা ঋণগ্রহীতাদের জন্য পুনঃতফসিল বা নবায়নের পর ঋণ পরিশোধে ১৫ বছর সময় দেওয়ার নীতি সহায়তা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৩১ আগস্ট জারি করা সার্কুলারে প্রথম দুই বছর কিস্তি না দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। সুবিধা পেতে আগ্রহীদের সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে এবং ব্যাংকগুলোকে ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দ্রুত বেড়েছে। ২০০৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৬ সালের মার্চে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। স্থানীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৬ লাখ ৬ হাজার ৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বিশ্লেষকেরা রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি এবং পরিচালকসংশ্লিষ্ট ঋণকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট, সুদের চাপ এবং ১৮ মাসের রোডম্যাপের কথা বলেছে। অর্থনীতিবিদেরা আশঙ্কা করছেন, পুনঃতফসিলে কাগজে খেলাপি ঋণ কমলেও প্রকৃত অর্থ আদায় অনিশ্চিত থাকতে পারে। তারা জবাবদিহি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদারকি এবং অর্থঋণ আদালতে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের পরামর্শ দিয়েছেন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।