ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে টানাপোড়েন বাড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রকাশ্য সমালোচনায় আরও সরব হয়েছে ভারত। নিউইয়র্কে এ সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের প্রতি ওয়াশিংটন যথেষ্ট সংবেদনশীল নয়। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উষ্ণ সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের আত্মকেন্দ্রিক বাণিজ্যনীতিরও সমালোচনা করেন। তার মতে, এসব নীতির প্রভাব বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর ওপর তুলনামূলক বেশি পড়ে।
বাণিজ্য এখন ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বড় বিরোধের ক্ষেত্র। ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্য ছিল ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং এতে ভারতের উদ্বৃত্ত ছিল ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। জয়শঙ্কর জানান, বাণিজ্য চুক্তির একটি রূপরেখা তৈরি হলেও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। মাথাপিছু আয়, উৎপাদনব্যবস্থা ও সামাজিক কাঠামোর পার্থক্য এবং কৃষি খাত নিয়ে মতভেদ আলোচনাকে জটিল করছে। প্রস্তাবিত মার্কিন শুল্কও চাপ বাড়িয়েছে।
গত মে মাসের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি করানোর বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার দাবিতে ভারত অসন্তুষ্ট। নয়াদিল্লি কাশ্মীরকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় বলে মনে করে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ, অভিবাসননীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বদলাতে থাকা জনমত ভারতের আরও প্রকাশ্য অবস্থানের পেছনে ভূমিকা রাখছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।