কুমিল্লা ভারতের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক কুমিল্লা নগরী, মহাসড়ক, নদী ও রেলপথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে বাহক ও খুচরা বিক্রেতারা আটক হলেও মূল নিয়ন্ত্রকেরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন বলে অভিযোগ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় ১৪ জন গডফাদার, ৫৪ জন পাইকারি ও ১১৬ জন খুচরা বিক্রেতাসহ ১৮৪ জনের নাম রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের একাংশের সহযোগিতায় অনেক প্রভাবশালী কারবারি গ্রেপ্তার এড়িয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্র ও সরকারি নথির উদ্ধৃতিতে কুমিল্লা সীমান্তের প্রায় ৪৭টি পয়েন্টকে মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলা হয়েছে। বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীতে চিহ্নযুক্ত বস্তা ভাসিয়েও চালান পাঠানো হয়, যা ভাটির দিকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা সংগ্রহ করেন।
বিজিবি জানিয়েছে, কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার ২০০ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে এবং ৫২৬ জনকে আটক করেছে। পুলিশ বলেছে, ১৮ আগস্ট থেকে পাঁচ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অর্থদাতা থেকে স্থানীয় সমন্বয়কারী পর্যন্ত নেটওয়ার্ক শনাক্ত না হলে তা ভাঙা কঠিন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।