বাংলাদেশ সরকার পুনঃখনন করা সরকারি খাল টেকসইভাবে সংরক্ষণ, পানি ধরে রাখা, পরিবেশ রক্ষা এবং অতিদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য ২৪ মাসের একটি পাইলট প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ২০টি নির্বাচিত সরকারি খাল বা খালসমষ্টিকে মডেল হিসেবে নেওয়া হবে। মোট ৬০ কিলোমিটার খালকে ৬০টি ব্যবস্থাপনা এককে ভাগ করে প্রতিটিতে ২০ জন করে ১,২০০ জনকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে; প্রতিটি ইউনিটে অন্তত ৫০ শতাংশ নারী রাখার লক্ষ্যও নির্ধারিত হয়েছে।
পরিকল্পনায় সামাজিক বনায়ন, নিয়ন্ত্রিত মাছ ও হাঁস পালন, মৌসুমি সবজি চাষ, খাল রক্ষণাবেক্ষণ এবং বৈধ জনব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে পানিপ্রবাহ, ধারণক্ষমতা, নৌ চলাচল বা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন উৎপাদনমূলক কাজ করা যাবে না। জলবায়ু ও পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, দুর্বল তদারকি, নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব এবং যথাযথ পরিবেশগত পর্যালোচনা ছাড়া পলি অপসারণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
পাইলটের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা প্রাথমিক সরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। কাজ শুরুর আগে খাল নির্বাচন, জমি ও মালিকানা যাচাই, পানিপ্রবাহ ও পরিবেশগত সক্ষমতা পরীক্ষা এবং জেলা প্রশাসনের অনাপত্তি নেওয়া হবে। ১২ মাসে মধ্যবর্তী এবং ২৪ মাসে তৃতীয় পক্ষের চূড়ান্ত মূল্যায়ন হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান, আয়, উৎপাদন, খাল সংরক্ষণ, নারীর অংশগ্রহণ ও সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমার ভিত্তিতে সাফল্য নির্ধারিত হবে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।