পুলিশের বিশেষ শাখার এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলনে বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে জড়িত। প্রতিবেদনে বলা হয়, সনাতন পদ্ধতির বদলে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন ব্যবহারে নদীর জীববৈচিত্র্য, স্বাভাবিক গতিপথ ও আশপাশের পরিবেশ হুমকিতে পড়ছে। ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও উত্তোলন চলায় সরকারের ৩০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে যাদুকাটা, ধোপাজান ও চেলা নদীর বালু উত্তোলন সিন্ডিকেটে তিন সংসদ সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন ও পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েকজন সাংবাদিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। এতে বলা হয়, প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায় হয় এবং এর অর্থ বিএনপি, আওয়ামী লীগ, প্রশাসন-পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে ভাগ হয়। যন্ত্রনির্ভর উত্তোলনে প্রায় ৩০ হাজার প্রত্যক্ষ শ্রমিকের মধ্যে ১৫ হাজার বারকি শ্রমিকের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, বালু উত্তোলনের অনুমতি নিয়ে আইনি বিরোধ চলছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।