যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে ইরান সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের নীতিনির্ধারকেরা দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আটকে রেখে নিজেদের কিছু দাবি মানাতে চাওয়ার হিসাব করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনায় হামলা চালালেও ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ তথ্য নেই।
চ্যাথাম হাউস বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কমলেও ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎপাদন করা যায় এবং সামরিক কমান্ড কাঠামো অক্ষুণ্ণ রয়েছে। অধ্যাপক মোহাম্মদ গায়েদির মতে, ইরান দীর্ঘ সময় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালাতে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম, যদিও নিক্ষেপের মাত্রা কমতে পারে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনীতি ২ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে; আইএমএফ ২০২৬ সালে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ সংকোচন ও ৬৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দিয়েছে। দেশে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৬২ শতাংশ এবং হরমুজগানে ১০১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে ১০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ বেকার হয়েছেন। যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে তেহরানে মতভেদ থাকলেও গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ স্পষ্ট নয়।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।