মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নতুন প্রতিরক্ষা জোট গড়েছে। শুক্রবার সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তিন দেশ ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কথাও এতে বলা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চুক্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে অস্থিরতার পর তিন দেশ নিজেদের কৌশলগত অবস্থান পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করছে। রাইস ইউনিভার্সিটির ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিখসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আঞ্চলিক সংশয় এক দশকের বেশি সময় ধরে বাড়ছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, চুক্তিটির লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিস্থাপন নয়; বরং নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত কৌশলগত বিকল্প তৈরি করা।
ইরানি হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং জ্বালানি ও পানি সরবরাহের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়াসমিন ফারুকের মতে, এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিন দেশই উত্তেজনা বাড়ানোর বদলে সংঘাত কমানো ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে। বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে চুক্তিটির তাৎক্ষণিক সামরিক কার্যকারিতার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ও কৌশলগত বার্তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।