বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে নিযুক্ত বিচারকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দমন-পীড়নে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতন ও পলায়নের পর পুলিশ ও প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা জবাবদিহিতার মুখোমুখি হলেও অভিযুক্ত বিচারকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসোসিয়েশন ও পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বিচারকদের ‘অঘোষিত দায়মুক্তি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম দাবি করেছে, হাসিনার শাসনামলে হাজারো মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের শিকার হয়েছেন।
আইনজীবী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, অনেক বিচারক সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিরোধী নেতাদের সাজা দিতে ভূমিকা রেখেছেন। খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে রাতভর শুনানি ও মোমবাতির আলোয় রায় দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান স্বীকার করেছেন যে বিচার বিভাগ ন্যায়বিচারে ব্যর্থ হয়েছে এবং হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদে’ সহযোগী বিচারকদের শাস্তি প্রয়োজন।
আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অধস্তন আদালতের ২,১৮৫ বিচারকের মধ্যে ১,৮৪১ জনই আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পেয়েছেন, যা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।