ভারতের হিমাচল প্রদেশে দ্রুত সম্প্রসারিত নয়টি হিমবাহ হ্রদকে সম্ভাব্য ‘পানির বোমা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আইআইটি মান্ডির গবেষকেরা। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে এসব হ্রদ থেকে ভাটির দিকে বড় ধরনের আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন। চাম্বা ও লাহৌল-স্পিতির উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হ্রদগুলো অবস্থিত; হিমালয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে হিমবাহ গলার হারও বাড়ছে। নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা এসেছে।
স্যাটেলাইট চিত্র ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণে গত এক দশকে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ হ্রদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ নয়টি হ্রদ হলো কালিকুন্ড, চন্দ্রতাল, বাসুকি, সুরাই, কিয়া সো, ইয়োচে, সমুদ্র তাপু, কাসাং ও গেপাং গাথ। বাঁধ ভাঙলে পানি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের উপত্যকায় নেমে ১৫টির বেশি সেতু, কয়েকটি জনবসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
২০২৫ সালে হিমাচল প্রদেশে ৩ হাজার ৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় ২ হাজার ৭৬টি হিমবাহ হ্রদ শনাক্ত হয়েছে, যা ২০১৫ সালের চেয়ে প্রায় ৭১০টি বেশি। এসব হ্রদের সম্মিলিত আয়তন বেড়েছে ২৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় পানি কমিশন ৬৮১টি হিমবাহ হ্রদের প্রবাহপথ ও ভাটির ঝুঁকি মূল্যায়ন করবে এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি শ্রেণিবিন্যাসের কাঠামো তৈরি করবে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।