মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান চীনের কাছে তেল বিক্রি করে বিনিময়ে চীনা পণ্য ও সেবা নেওয়ার একটি গোপন বাণিজ্যব্যবস্থা ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এই ব্যবস্থায় তেল বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে চীনা রপ্তানিকারকদের কাছে সরাসরি পাঠানো হয় না; বরং তা ওষুধ, যানবাহন, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং কথিত বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ আমদানির জন্য ক্রেডিট হিসেবে রাখা হয়।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ সূত্র ও আরও তিনজন অবগত ব্যক্তির মতে, ব্যবস্থাটি অন্তত ২০২১ সাল থেকে চালু। চীনে অবস্থিত চুশিন নামের একটি অস্পষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও এর কোনো কোম্পানি নিবন্ধন নথি পায়নি রয়টার্স। সূত্রগুলোর হিসাবে, চুশিনের মাধ্যমে আসা অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশ অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় হয় এবং বাকি অর্থ বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানে পণ্য সরবরাহকারীদের বিল মেটাতে ব্যবহৃত হয়।
গত এক বছরে ওই বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি ডলারের লেনদেন হয়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন, গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল। চীন বলেছে, তারা প্রতিবেদনে বর্ণিত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নয় এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধী।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।