ওয়াশিংটনের ভাষায় “এপিক ফিউরি” এবং তেহরানের ভাষায় “ট্রু প্রমিজ ৪” নামে পরিচিত ৪০ দিনের সংঘাতের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে হওয়া এই চুক্তিতে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা বন্ধ রাখার শর্ত এবং ইরানের ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের পর প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা কূটনৈতিক সমাধানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের কোনো জাতিসংঘ অনুমোদন বা আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি ছিল না। এটি ইসরায়েলের ২০২৩ সালের পরবর্তী নিরাপত্তা নীতির ফল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা দেয়। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে প্রতিক্রিয়া জানায়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে এবং আরব মাশরেক অঞ্চলে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় নিরাপত্তা ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ছোট দেশগুলোকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলে।
ইরানের শান্তি প্রস্তাবে ভবিষ্যৎ হামলা থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসলামাবাদে আলোচনায় এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।