২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজা উপত্যকায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। পরবর্তী তিন বছরে ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলায় গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ সময়ে ৭৪ হাজার ২৪৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি; যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ১ হাজার ৪৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ঘরবাড়ি, সড়ক, বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ৯৪ শতাংশ মানুষের জরুরি আশ্রয় ও মৌলিক গৃহস্থালি সহায়তা প্রয়োজন এবং প্রায় ৬৫ শতাংশ পরিবার তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বাস করছে। ইউএনসিটিএডের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং বেকারত্ব বেড়ে ৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
ইউনিসেফ বলছে, প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে; ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি প্রায় ৭ লাখ শিশু নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার সুযোগ পায়নি। ডব্লিউএইচওর হিসাবে, ৩৬টি হাসপাতালই ক্ষতিগ্রস্ত এবং মাত্র ১৯টি চালু আছে, কোনোটিই পূর্ণ সক্ষমতায় নয়। ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানায়, সেপ্টেম্বর নাগাদ গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ বা প্রবেশাধিকার নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।